সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: কথায় আছে, ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়। সেটাই বাস্তবে প্রমাণ করে দেখালেন কেরলের এক অ্যাম্বুল্যান্স-চালক। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে এক মাসের শিশুর প্রাণ বাঁচাতে ১৪ ঘণ্টার রাস্তা অতিক্রম করলেন অর্ধেক সময়ে। সাত ঘণ্টায় পেরোলেন ৫১৬ কিলোমিটার পথ।
পুলিশ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ৩১ দিনের ফতিমা লাবিয়াকে ভর্তি করা হয়েছিল কান্নুরের পারিয়ারাম মেডিক্যাল কলেজে। শ্বাসকষ্ট নিয়ে ভর্তি করা হলেও মেডিক্যাল পরীক্ষার পরে জানা যায়, ফতিমার হার্টের অবস্থা বেশ খারাপ। শীঘ্রই জরুরি অস্ত্রোপচার করাতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ মতোই কান্নুর থেকে তিরুবনন্তপুরমের শ্রীচৈতন্য মিশন হাসপাতালের উদ্দেশে রওনা দেন অ্যাম্বুল্যান্স-চালক থামিম। সেখানেই ফতিমার জন্যে অপাবেশন থিয়েটারে অপেক্ষা করছিলেন চিকিৎসকেরা।
[মুডি’জ রেটিং চড়তেই প্রকাশ্যে কেন্দ্রের নয়া সংকল্প ‘ওয়ান বিলিয়ন’]
যেমন কথা, তেমন কাজ। বুধবার রাত আটটা বেজে তেইশ মিনিটে ওই একরত্তিকে অ্যাম্বুল্যান্সে নিয়ে রওনা দেন থামিম। মাত্র সাত ঘণ্টায় তিনি পেরিয়ে যান ৫১৬ কিলোমিটার রাস্তা। মধ্যম মানের ট্রাফিক থাকাকালীন গুগল মানচিত্র অনুযায়ী, ওই দূরত্ব পেরোতে কমপক্ষে ১৩ ঘণ্টা সময় লাগার কথা। তবে ট্রাফিক ছাড়াও কেরলের রাস্তাঘাটের যা অবস্থা তাতে কান্নুর থেকে তিরুবনন্তপুরমের যেতে সব মিলিয়ে লাগার কথা ১৪ ঘণ্টা। রাতে টুকটাক সমস্যার জন্য পনেরো মিনিট বিরতি বাদ দিলে ওই রাস্তা থামিম পার করেছেন ছ’ঘণ্টা পঁয়তাল্লিশ মিনিটে। অর্থাৎ গাড়ির গড় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৭৬.৪ কিলোমিটার। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবর পেয়ে অনেকেই রাস্তায় ভিড় করেন। অনেকে আবার অ্যাম্বুল্যান্সের ছুটে যাওয়ার ভিডিও টুইটারে পোস্টও করেন।
Wow…Hatsoff to Kerala Police,Public n to that Ambulance Driver…..👏 pic.twitter.com/n08gfhhQoF
— Abdulsathar (@Abdulsa32993233) November 16, 2017
[জঙ্গি দলে নাম লেখানো ফুটবলারের অনন্তনাগে আত্মসমর্পণ]
রেকর্ড সময়ে ফতিমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শিশুটির বিপদ এখনও কাটেনি পুরোপুরি। ফতিমা বাড়ি থেকে থামিমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তার মা-বাবা। তাঁরা জানান, ফতিমাকে প্রথমে বিমানে নিয়ে যাওয়ার কথা ভেবেছিলেন তাঁরা। কিন্তু বিমানবন্দর থেকে তিরুবনন্তপুরমের হাসপাতালে পৌঁছতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যেত।
তাছাড়া, এয়ার-অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করতে লাগে কম করে পাঁচ ঘণ্টা। তাই অ্যাম্বুল্যান্স ছাড়া উপায়ও ছিল না। থামিম যা করে দেখিয়েছেন তা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। ধন্যবাদ দিয়েছেন কান্নুরের পুলিশ সুপারকেও। কারণ, থামিমের যাওয়ার পথ দায়িত্ব নিয়ে সুগম করেছিল পুলিশের একটি দল। থামিমের সঙ্গে অ্যাম্বুল্যান্সেও একজন পুলিশকর্মী ছিলেন। ৩১ দিনের ফতিমা পুরোপুরি সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেই থামিমের প্রচেষ্টা সফলতার মুখ দেখবে। তাই এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা।
[জীবনের প্রতি বীতশ্রদ্ধ, বাড়িতে চিতা সাজিয়ে আত্মাহুতি বৃদ্ধার]
সর্বশেষ খবর
-
প্রধান অতিথি নদী! যোগ দেবেন নাকি সবুজে ঘেরা এই বর্ণময় অনুষ্ঠানে?
-
বেতন-সহ কাজের সুরক্ষার দাবি, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জীবিকা সেবকের
-
বিশ্বে প্রথম মানুষ বনাম রোবট লড়াই! যন্ত্রমানবকে হারাতে পারলেন মার্কিন যুবক? ভাইরাল ভিডিও
-
চলত ভাড়ায়, বর্ধমানের ওই মেডিক্যাল কলেজ বন্ধের নির্দেশ স্বাস্থ্য দপ্তরের
-
ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেও অক্ষত দুর্গ! রাশিয়ায় নির্বাচনে পুতিন ঝড়ে সাফ বিরোধীরা