উৎসবের প্রধান অতিথি নদী! তাকে ঘিরে বর্ণময় অনুষ্ঠানের আয়োজন, অবিশ্বাস্য বটে। তবে ২৫ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর সেটাই হতে চলেছে সিকিমের জোরেথাং শহরের কাছে রঙ্গিত নদীতীরে। প্রথম অভিনব এই উৎসবের নামকরণ হয়েছে ‘চিরবিরে রিভার ফেস্ট’। সিকিম রাজ্য সরকার এবং সিকিম অ্যাঙ্গলার্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত উৎসবে বিনোদনের পাশাপাশি থাকবে পরিবেশ সংরক্ষণের বিষয়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় আইটেম ‘চিরবিরে মাহশির চ্যালেঞ্জ’ নামে ‘মাছ ধরো, ছেড়ে দাও’ প্রতিযোগিতা।
হঠাৎ কেন এমন উৎসবের আয়োজন? সিকিম অ্যাঙ্গলার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্ণধার উদয়চন্দ্র রাই জানান, সংগঠনের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নদী ও প্রকৃতিকে উপভোগ করতে আমরা অরুণাচল প্রদেশ অথবা উত্তরাখণ্ডের মতো জায়গায় যাই। সংগঠনের রজতজয়ন্তী বর্ষ নিয়ে আলোচনার সময় প্রশ্ন উঠেছিল—আমরা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কী রেখে যাচ্ছি? কী সংরক্ষণ করছি? ওই প্রশ্ন শেষপর্যন্ত রঙ্গিত নদী তীরে একটি টেকসই মাছ ধরা অর্থাৎ অ্যাঙ্গলিং এবং পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তুলতে উদ্বুদ্ধ করেছে। উদয়চন্দ্র বলেন, “নদীর কেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মসূচি যদি টেকসই হয় এবং স্থানীয় মানুষ যদি সেটা থেকে উপকৃত হয় তবে নদী রক্ষা করতে এগিয়ে আসবে।”

সংগঠনটি সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং (গোলে)-এর কাছে তাদের ভাবনা তুলে ধরে। মুখ্যমন্ত্রী সেই ভাবনা সাদরে গ্রহণ করেন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অ্যাঙ্গলাররা সিকিম সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ শুরু করছেন। জানা গিয়েছে, উৎসবের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে ‘চিরবিরে মাহশির চ্যালেঞ্জ’। এটি হল ‘ধর ও ছেড়ে দাও’ অর্থাৎ মাছ ধরে আবার ছেড়ে দেওয়ার প্রতিযোগিতা। মাহশির মূলত পাহাড়ি নদীর মাছ।এখানে ধরা পড়া প্রতিটি মাছ নদীতে ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
সিকিম অ্যাঙ্গলার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা জানান, মাছ ধরা ও পরিবেশ-বান্ধব পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার বড় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে। পরিবেশ সংরক্ষণের ভাবনা সামনে রেখে এলাকায় বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহ মাছ ধরার একটি গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা প্রয়োজন। সিকিম সরকার ‘চিরবিরে তার’ এলাকাটি সিকিম অ্যাঙ্গলার্স অ্যাসোসিয়েশনের হাতে তুলে দিতে সম্মত হয়েছে এবং পরিকাঠামো তৈরিতে সহায়তা করবে। উদয়চন্দ্র বলেন, “আমরা উপলব্ধি করেছি একটি নদীকে রক্ষা করতে হলে এমন মানুষদেরও যুক্ত করতে হবে, যারা মাছ শিকারী নয়। নদীকেই উৎসবের প্রধান অতিথি হিসেবে রাখার পরিকল্পনা করেছি।”

উৎসবে থাকবে নদী তীরে ক্যাম্পিং, মৃৎশিল্প, মাঙ্গা আর্ট, আলোকচিত্র গ্রহণ, পাখি দেখা, মাশরুম খোঁজার অভিযান অর্থাৎ মাশরুম ওয়াক, কবিতা পাঠ, রান্না ও বেকিং সেশন, তাই-চি ও চি-গং অর্থাৎ মন ও শরীর ঠিক রাখতে চিনা ঐতিহ্যবাহী ব্যায়াম, গল্প বলা, সঙ্গীত পরিবেশন এবং বন ফায়ার। পাশাপাশি চিরবিরে এলাকায় ‘দ্য রিভার পিক’ নামে নদী পরিষ্কারের কর্মসূচিও থাকবে। আয়োজকদের দাবি, তিন দিনের উৎসবে অন্তত পাঁচশো পর্যটক নদী তীরে ক্যাম্পে রাত কাটাতে পারবেন। পর্যটকরা চাইলে নিজেদের তাঁবু সঙ্গে আনতে পারবেন। রঙ্গিত নদীর দার্জিলিং জেলার সিঙ্গালিলা এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে উৎসবের আয়োজকরা আলোচনা করেছেন। পাশাপাশি দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে প্রচার চালানো হয়েছে। শিলিগুড়ির পরিবেশপ্রেমী ও মাছ শিকারিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন।
সর্বশেষ খবর
-
বিহারে কিশোরীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় সিট গঠন, গ্রেপ্তার ৩, নিন্দায় সরব মমতা
-
বেতন-সহ কাজের সুরক্ষার দাবি, আন্দোলনের হুঁশিয়ারি জীবিকা সেবকের
-
বিশ্বে প্রথম মানুষ বনাম রোবট লড়াই! যন্ত্রমানবকে হারাতে পারলেন মার্কিন যুবক? ভাইরাল ভিডিও
-
চলত ভাড়ায়, বর্ধমানের ওই মেডিক্যাল কলেজ বন্ধের নির্দেশ স্বাস্থ্য দপ্তরের
-
ইউক্রেন যুদ্ধের মাঝেও অক্ষত দুর্গ! রাশিয়ায় নির্বাচনে পুতিন ঝড়ে সাফ বিরোধীরা