POCSO

‘পকসো মামলায় স্তন এবং ছাতির তফাত খুঁজবেন না’, গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য হাই কোর্টের

যৌন উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও নাবালকের শরীর স্পর্শ করলেই তা অপরাধ হিসাবে গণ্য হতে পারে। তা 'ছাতি' নাকি 'স্তন' সেটা বিচার্য নয়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ২৬, ২০২৬, ১৩:০১

options
link
‘পকসো মামলায় স্তন এবং ছাতির তফাত খুঁজবেন না’, গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য হাই কোর্টের
যৌন উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও নাবালকের শরীর স্পর্শ করলেই তা অপরাধ হিসাবে গণ্য হতে পারে।

পকসো আইনে দায়ের হওয়া অভিযোগে ‘চেস্ট’ অর্থাৎ ছাতি এবং ‘ব্রেস্ট’ অর্থাৎ স্তনের মধ্যে তফাত খুঁজতে যাওয়া অর্থহীন। এমনটাই মন্তব্য করল কেরল হাই কোর্ট। কোঝিকোড়ে এক ১২ বছরের বালকের উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় শুনানি চলাকালীন উচ্চ আদালতের এই মন্তব্য।

Advertisement

অভিযুক্তের তরফে আদালতে জানানো আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়, অভিযোগকারীর তোলা ‘স্পর্শ’ এবং ‘ধরার’ অভিযোগের মধ্যে তফাত রয়েছে। এবং তা পকসো ধারায় অভিযোগ হিসাবে গ্রাহ্য নাও হতে পারে। কিন্তু সেই অভিযোগ খারিজ করে দেয় কোর্ট। আদালতের বক্তব্য, যৌন উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও নাবালকের শরীর স্পর্শ করলেই তা অপরাধ হিসাবে গণ্য হতে পারে। তা ‘ছাতি’ নাকি ‘স্তন’ সেটা বিচার্য নয়।

Advertisement

কোঝিকোড়ে এক ১২ বছরের বালকের উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় অভিযোগ দায়ের হয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। রাষ্ট্রের তরফে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ওই ব্যক্তি যৌন উদ্দেশ্যে ওই বালককে পিছন থেকে চেপে ধরে ছিল। এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পকসো ধারায় মামলা দায়ের হয়। কিন্তু অভিযুক্তের যুক্তি ছিল ওই বালকের ছাতি স্পর্শ করেছিল সে, স্তন নয়। স্তন স্পর্শ করলে তা অপরাধ হতে পারে, ছাতির ক্ষেত্রে তা কেন হবে, প্রশ্নের অভিযুক্তের আইনজীবীর।

Advertisement

তাতেই বিচারপতি এ বদরুদ্দিন বলেন, পকসোয় অভিযোগের ক্ষেত্রে বুকের সংজ্ঞা এইভাবে বিচার্য নয়। অভিযুক্তের উদ্দেশ্যই এ ক্ষেত্রে বিচার করা হয়। সে ক্ষেত্রে অপরাধীর দশ বছরের বেশি কারাবাসের মতো কঠিন সাজাও হতে পারে। লিঙ্গ কিংবা শরীরের আকারের থেকেও নিগৃহীতের বয়স অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে অভিমত আদালতের।

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল, নাবালক বা নাবালিকা যদি দাবি করে তার উপর যৌন নির্যাতন হয়েছে, তবে সেই অভিযোগকে সত্য বলেই বিবেচনা করতে হবে। শুধু তাই নয়, নাবালিকা যদি কাউকে এই তথ্য দেয়, তবে সেই ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং অবশ্যই পুলিশকে তা জানাতে বাধ্য থাকবেন। যদি এই ধরনের অভিযোগ পাওয়ার পরও সেই ব্যক্তি বিষয়টি এড়িয়ে যান, তাহলে তা ‘অপরাধ’ হিসেবে গণ্য হবে। এবার কেরল হাই কোর্টও পকসো মামলায় গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করল।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.