Maharashtra

হস্টেলে ঘুরছে ‘ভূতে পাওয়া’ পড়ুয়া! ‘ভূতুড়ে’ বাড়ি থেকে পালাল ৬০০ ছাত্রছাত্রী

গত ২২ জুলাই ঘটনার সূত্রপাত। জানা যায়, চার জন ছাত্রী আচমকাই অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ১৮, ২০২৬, ১৩:১৪

options
link
হস্টেলে ঘুরছে ‘ভূতে পাওয়া’ পড়ুয়া! ‘ভূতুড়ে’ বাড়ি থেকে পালাল ৬০০ ছাত্রছাত্রী
ছবি এআই দ্বারা নির্মিত।

কেউ হঠাৎ হেসে উঠছে। কেউ গড়াগড়ি দিয়ে কাঁদছে। কেউ আবার কোনও কারণ ছাড়াই ছটফট করছে। সহপাঠীদের এমন আচরণ দেখে রীতিমতো আতঙ্কিত পড়ুয়ারা। হলটা কী! পড়াশোনা, খেলাধূলা নিয়ে যারা মেতেছিল কয়েকদিন আগেও, তাদের এমন পালটে যাওয়া আচরণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে অভিভাবকদের মধ্যেও। ভয়েই একে একে স্কুলের হস্টেল ছাড়তে শুরু করেছেন পড়ুয়ারা। হস্টেল ফাঁকা করে বাড়ি চলে গিয়েছে প্রায় ৬০০ পড়ুয়া। এহেন ভূতুড়ে কাণ্ডের ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করছে মহারাষ্ট্রের (Maharashtra) অমরাবতী জেলার একটি সরকারি আদিবাসী আবাসিক স্কুল।

Advertisement

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অমরাবতী জেলা হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল স্কুলে যায়।

গত ২২ জুলাই ঘটনার সূত্রপাত। জানা যায়, চারজন ছাত্রী আচমকাই অস্বাভাবিক আচরণ করতে শুরু করে। কেউ হাসছে, কেউ আবার কাঁদছে! কারো কারো লাগামছাড়া হাসি আর বাঁধ ভাঙা কান্না দেখে চমকে যান অনেকেই। কেউ আবার ভয়ে গুটিয়ে যাচ্ছে, কারও কারও মাথা কাজ করছে না। এর মধ্যেই আবার হস্টেলের কয়েকজন ছাত্রী দাবি করে, তারা রাতে নূপুরের ছনছন শব্দ শুনতে পেয়েছে। এরপরই ভূতে ধরার গুজব ছড়াতে শুরু করে। আতঙ্কে ৬০০ ছাত্রছাত্রী কয়েক দিনের মধ্যে হস্টেল ছেড়ে নিজেদের বাড়িতে চলে যায়।

Advertisement

একের পর এক তথ্য সামনে আসতে থাকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মুখে মুখে। স্কুল চত্বরে একটি মহুয়া গাছ ছিল। তাতে নাকি আত্মার বাস ছিল বলে গুজব রয়েছে। কারো কারো কথায়, গাছটি কেটে ফেলার পর সেই আত্মাই নাকি পড়ুয়াদের উপর ভর করেছে! আবার কেউ বলছেন, স্কুলের পিছনে থাকা একটি মন্দিরের জায়গায় স্কুলের নিকাশি নালা চলে যাওয়ায় দেবতা অসন্তুষ্ট হয়েছেন। আবার অনেকে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, স্কুলের কাছে থাকা একটি মাঠে এক আদিবাসী যুবকের মৃত্যু হয়েছে সম্প্রতি, যার সঙ্গে ঘটনার যোগসূত্র থাকতে পারে। তবে এই দাবিগুলির কোনোটারই প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

Advertisement

পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে অমরাবতী জেলা হাসপাতালের মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের একটি দল স্কুলে যায়। পরীক্ষার পর বিশেষজ্ঞরা জানান, ঘটনাটির সঙ্গে কোনও কোনও ভৌতিক বিষয় জড়িত থাকার প্রমাণ নেই। মানসিক চাপ, ভয় এবং আশপাশের পরিস্থিতির প্রভাবের কথাই বলেছেন তাঁরা। মানসিক চাপেই হিস্টিরিয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিয়ে থাকতে পারে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত রিপোর্টে কয়েকজন ছাত্রীর ক্ষেত্রে বেশ কিছু মানসিক অবস্থার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে মানসিক চাপের প্রভাবে এইরকম অবস্থা হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে। পড়াশোনার চাপ থাকার কথাই মূলত বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পড়ুয়াদের কাউন্সেলিং শুরু করেছে প্রশাসন। আক্রান্ত ছাত্রীদের আলাদা রেখে চিকিৎসা করা হচ্ছে। তাদের অভিভাবকদেরও কাউন্সেলিং করা হচ্ছে। মহারাষ্ট্রের আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের অতিরিক্ত কমিশনার সন্দীপ গোলাইও গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। অমরাবতীর সাংসদ বলবন্ত ওয়াংখাড়েও বলেছেন, পড়ুয়ারা যাতে ভয় না পেয়ে স্কুলে ফিরে ক্লাস শুরু করে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় চৌধুরীও জানিয়েছেন, ছাত্রীদের বুঝিয়ে স্কুলে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.