ভালোবাসার টানে মনের মানুষকে কিডনি দান করেছিলেন এক মহিলা। আবদ্ধ হয়েছিলেন বিবাহ বন্ধনেও। কিন্তু, কিডনি প্রতিস্থাপনের দু’ বছর পর সেই গ্রহীতাই তাঁকে ছেড়ে ফিরে গিয়েছিলেন প্রথম স্ত্রীর কাছে। কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি। অঙ্গদানের জটিলতা ও আইন নিয়ে জরুরি কিছু প্রশ্ন তুলে ভয়ংকর সংক্রমণে প্রাণ হারালেন সেই কিডনি গ্রহীতা।
আরও পড়ুন:
দীর্ঘদিন ধরেই কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন ওই ব্যক্তি। বাড়ি অসমে হলেও ডাক্তার দেখাতে কলকাতায় আসতেন। টানা ডায়ালিসিসে ভেঙে পড়েছিল শরীর। কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া অন্য কোনও উপায় ছিল না। এই সময় এগিয়ে আসেন ওই ব্যক্তির প্রেমিকা। উল্লেখ্য, বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ওই ব্যক্তি পরকীয়ায় জড়িয়ে ছিলেন এই তরুণীর সঙ্গে। প্রথম স্ত্রীকে ছেড়ে তাঁকে বিয়ে করতে হবে, এই শর্তে ওই প্রেমিকা কিডনি দানে সম্মত হন। বেঁচে থাকার তাগিদে প্রথম স্ত্রীকে ডিভোর্স দেন ওই ব্যক্তি। বিয়ে করেন কিডনি দাতা প্রেমিকাকে। দক্ষিণ ভারতের একটি হাসপাতালে সমস্ত নিয়ম কানুন মেনে সফলভাবে প্রতিস্থাপিত হয় কিডনি। দাতা নিজের স্ত্রী হওয়ায় আইনি সমস্যাও ছিল না। নতুন কিডনি পেয়ে সুস্থও হয়ে ওঠেন। চেহারা ফেরে। কিন্তু ২ বছর ঘর করার পর প্রথম স্ত্রীর কাছে আবার ফিরে যান ওই মুরগি ব্যবসায়ী। নতুন অঙ্গ নিয়ে পুরনো সম্পর্কে নয়া ইনিংস শুরু করেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। সম্প্রতি সংক্রমণের ছোবলে মাল্টি অর্গান ফেলিওর হয়ে অসমের ডিব্রুগড়ের একটি হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই ব্যক্তির। এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে চিকিৎসকমহলে। জানা গিয়েছে, মৃত্যুর কিছুদিন আগে ওই ব্যক্তি এসএসকেএম হাসপাতালের নেফ্রোলজি আউটডোরে দেখাতে আসেন। সেখানেই জানা যায় সিনেমাকে হার মানানো এই অঙ্গদানের গল্প। নেফ্রোলজিস্ট ডা. অতনু পাল জানালেন, “দীর্ঘদিন অসমে ছিলাম। সেখানেই এই রোগীর সঙ্গে আলাপ। দীর্ঘদিন কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন ৪২ বছর বয়সি ওই ব্যবসায়ী। ডায়ালিসিস নিতে নিতে শরীর যখন প্রায় ভেঙে পড়েছিল। কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া অন্য কোনও গতি ছিল না। কিন্তু আইনি গেরোয় আটকে যায় প্রক্রিয়া।
কারণ, ভারতের কঠোর অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন অনুযায়ী নিকটাত্মীয় ছাড়া অন্য কেউ সহজে কিডনি দিতে পারেন না। এসব ক্ষেত্রে স্ত্রীই এগিয়ে আসেন ডোনার হিসাবে। কিন্তু সে সময়ে স্ত্রীর শারীরিক জটিলতার কারণে তাঁর পক্ষে ডোনার হওয়া সম্ভব ছিল না। ঠিক এমনই সময়ে এগিয়ে আসেন ওই ব্যক্তির প্রেমিকা! ডাক্তারদের একাংশ আবার এই প্রবণতাকে বিপজ্জনক বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাঁদের পর্যবেক্ষণ, অঙ্গ পাওয়ার জন্য প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া, বর্তমান স্ত্রীকে ডিভোর্স দিয়ে নতুন করে দাতার সঙ্গে সংসার পাতা। সুস্থ হয়ে ফের আবার পুরনো স্ত্রীর কাছে ফিরে যাওয়া। এই ট্রেন্ড বিপজ্জনক। অঙ্গদান প্রক্রিয়া আরও সহজ সরল হলে এই জাতীয় সমস্যা এড়ানো যায়।
সর্বশেষ খবর
-
১৯৯০ থেকে বেপাত্তা সেনা জওয়ান স্বামী, ৩৬ বছর পর অপহরণের অভিযোগ দায়ের স্ত্রীর!
-
ফের ইন্ডিগোর বিমানে বিপত্তি, এবার বেঙ্গালুরুতে অবতরণের সময় লেজে আঘাত! কেমন আছেন যাত্রীরা?
-
আপাতত স্থগিত ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, বৈঠকে রফাসূত্র মিলতেই ঘোষণা কর্মী সংগঠনের, স্বস্তিতে আমজনতা
-
আরটিআইয়ের বাইরে স্বরাষ্ট্র দপ্তর, নির্দেশিকা জারি করেও বাতিল, বিরোধিতার মুখে পিছু হটলেন বিজয়
-
দর্শকদের না-পসন্দ! এবার ‘বিস বস বাংলা’ থেকে ছিটকে গেলেন তাপসকন্যা সোহিনী