বেশ কয়েক বছরের দাম্পত্য জীবন। তবু, কিছুতেই সন্তান হচ্ছিল না। এই অবস্থায় বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষা করাতে চিকিৎসকের কাছে যান দিল্লির বাসিন্দা এক যুবক। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চাঞ্চল্যকর কাণ্ড ধরা পড়ে। চিকিৎসক জানান, ওই যুবকের শরীরে জরায়ু রয়েছে। যদিও চিকিৎসক সুশীল খারবান্দার বক্তব্য, ওই যুবক পুরুষ হিসেবেই জীবনযাপন করছিলেন। তাঁর মধ্যে পুরুষসুলভ শারীরিক বৈশিষ্ট্যই বিদ্যমান। এরপরেও এমন কাণ্ড কী করে ঘটে?
আরও পড়ুন:
দিল্লির রাজৌরি গার্ডেনের আরজি হাসপাতালের ইউরোলজিস্ট বিভাগে প্রধান চিকিৎসক সুশীল খারবান্দা। তিনি জানান, রোগী বন্ধাত্বের চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন। প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক কিছু মেলেনি। শরীরে যাবতীয় পুরুষ চরিত্র ছিল। এরপর হাতেকলমে শারীরিক পরীক্ষা করতেই চক্ষু চড়কগাছ হয় চিকিৎসকের। প্রথমত, পরীক্ষায় দেখা যায় যুবক বীর্যে শুক্রাণু না থাকার অসুখে ভুগছেন। পাশাপাশি চিকিৎসকরা লক্ষ্য করেন, যুবকের দু’টি শুক্রাশয় বা অণ্ডকোষ পেটের ভেতরেই রয়ে গিয়েছে, স্বাভাবিকভাবে নিচে নেমে আসেনি।
আরও পড়ুন:
এতগুলি বিষয় স্পষ্ট হওয়ার পর আরও বিশদে পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। সেই মতো এমআরআই করার পর দেখা যায়, যুবকের শরীরে জরায়ু-সহ বিভিন্ন ‘মুল্যারিয়ান স্ট্রাকচার’-এর উপস্থিতি রয়েছে। চিকিৎসকরা বিরল অবস্থা বোঝার জন্য জিনগত এবং হরমোন সংক্রান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করান। যার পর বিষয়টিকে ‘পারসিস্টেন্ট মুল্যারিয়ান ডাক্ট সিন্ড্রোম’ (পিএমডিএস) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এটি একটি বিরল জন্মগত সমস্যা, যেখানে একজন পুরুষের স্বাভাবিক বাহ্যিক শারীরিক গঠন থাকা সত্ত্বেও শরীরের ভেতরে ‘মুল্যারিয়ান স্ট্রাকচার’ রয়ে যায়।
পারসিস্টেন্ট মুল্যারিয়ান ডাক্ট সিন্ড্রোম কী?
পিএমডিএস হল যৌন বিকাশের একটি বিরল ব্যাধি। এই অসুখে পুরুষ ক্রোমোজোম, পুরুষসুলভ বাহ্যিক যৌনাঙ্গ থাকা সত্ত্বেও কোনও ব্যক্তির শরীরে জরায়ু এবং কখনও কখনও ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো মুলারিয়ান গঠনসমূহ বিদ্যমান থাকতে পারে। এমডিএস-এ আক্রান্ত ব্যক্তির বাইরে থেকে পুরুষাঙ্গ ও অণ্ডকোষের মতো পুরুষাঙ্গ থাকলেও, শরীরের ভেতরে জরায়ু অবস্থান করতে পারে।
পিএমডিএস কীভাবে প্রজনন ক্ষমতায় প্রভাব ফেলে?
স্বাভাবিক অণ্ডকোষে সুস্থ শুক্রাণু তৈরির জন্য শরীরের ভেতরের তাপমাত্রার চেয়ে কিছুটা কম তাপমাত্রার প্রয়োজন হয়। অণ্ডকোষ যদি পেটের ভেতর থেকে যায়, সেক্ষেত্রে শুক্রাণু তৈরিতে সমস্যা হয়। তবে পিএমডিএস হলেও বাবা হওয়া সম্ভব। প্রজনন ক্ষমতা নির্ভর করে অণ্ডকোষের কার্যকারিতা, শুক্রাণু তৈরি হওয়া এবং অণ্ডকোষ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করা সম্ভব কি না তার ওপর। যদি পুরুষটির অণ্ডকোষের আকার স্বাভাবিক থাকে এবং বীর্যে শুক্রাণু উপস্থিত থাকে, তবে তিনি স্বাভাবিকভাবেই সন্তান জন্মদানে সক্ষম হতে পারেন। অন্যথায় বন্ধ্যাত্বের সমস্যা দেখা দেয়।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
রাজ্যজুড়ে সক্রিয় ভুয়ো চিকিৎসক চক্র! ২ চিকিৎসককে কাঠগড়ায় তুলে স্বাস্থ্যদপ্তরে চিঠি
-
পার্টিতে মদ্যপানের প্ল্যান? আগে খেয়ে নিন এই খাবারগুলি, হ্যাংওভার সামলানো হবে সহজ
-
কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে গেরুয়া ছোঁয়া, দায়িত্বে মিঠুন-প্রসেনজিৎ, কবে উদ্বোধন?
-
মহিলাকে ফোনে ‘কুপ্রস্তাব’-হুমকির অভিযোগ, রহড়ায় গ্রেপ্তার বিজেপি নেতা
-
মালদহে গঙ্গা-ফুলাহার মিলেমিশে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি, ভূতনিতে ভেসে গেল কিশোর!