Manipur

গণধর্ষণে গভীর ক্ষত, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত! ২ বছর পর মৃত্যু মণিপুরের তরুণীর, মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না’, ভেঙে পড়লেন মা 

যৌনাঙ্গে গভীরক্ষত-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকেন। মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন তিনি। গুয়াহাটিতে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু প্রায় ২ বছর পরও শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হতে পারেননি তিনি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ১৮:২৭

options
link
গণধর্ষণে গভীর ক্ষত, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত! ২ বছর পর মৃত্যু মণিপুরের তরুণীর, মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না’, ভেঙে পড়লেন মা 
প্রতীকী ছবি

২০২৩ সালে উত্তপ্ত মণিপুর। সেই সময় রাজধানী ইম্ফলের এক কুকি তরুণী তুলে নিয়ে যায় দুষ্কৃতীরা। পাহাড়ি এলাকায় তাঁকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। দীর্ঘদিন শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ থাকার পর মৃত্যু হল সেই গণধর্ষিতার।

Advertisement

সেই অভিশপ্ত রাতে নির্যাতনের পর কোনওমতে পালিয়ে আসেন নির্যাতিতা। চিকিৎসাও শুরু হয়। কিন্তু যৌনাঙ্গে গভীরক্ষত-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যায় ভুগতে থাকেন। মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েন তিনি। গুয়াহাটিতে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। কিন্তু প্রায় ২ বছর পরও শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হতে পারেননি তিনি। অবশেষে ১০ জানুয়ারি মৃত্যু হয় তাঁর। তরুণীর মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছে ‘ইন্ডিজেনাস ট্রাইবাল লিডার্স ফোরাম’ (আইটিএলএফ)। তাঁর স্মৃতিতে মোমবাতি মিছিল করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই ফোরাম।

Advertisement

নিযার্তনের পর পালিয়ে এসে এক সর্বভারতীয় সংস্থার সঙ্গে কথা বলার সময় তরুণী জানিয়েছিলেন, সেই অভিশপ্ত দিনে কালো জামা পরিহিত চারজন তাঁকে গাড়ি করে তুলে নিয়ে যায়। ড্রাইভার ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় তাঁকে তিনজন ধর্ষণ করে। রাতভর চলে পাশবিক অত্যাচার। তাঁকে কিছু খেতে দেওয়া হয়নি। দেওয়া হয়নি জলটুকুও। পরদিন সকালে ওয়াশরুমে যাওয়ার নামে কোনও মতে পালিয়ে আসেন তিনি। এক অটো ড্রাইভার তাঁকে সাহায্য করেছিলেন বলেও জানিয়েছিলেন তরুণী।

Advertisement

তরুণীর মা এক সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “মেয়েটা বিচার পেল না। অত্যাচারের পর শ্বাসকষ্টে ভুগতে শুরু করে। আরও সমস্যা দেখা দেয়। বাঁচাতে পারলাম না।” তিনি আরও বলেন, “আমার মেয়ে খুব মিশুকে স্বভাবের ছিল। পড়াশোনায় ভালো ছিল। ইম্ফলে এক আত্মীয়ের বিউটি পার্লারে কাজ করত। হাসিখুশি মেয়ের হাসিটাই কেড়ে নিয়েছিল ওরা। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। ওরা মেয়েটাকে বাঁচতে দিল না।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মে মাসে ভূমি অধিকার ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের মতো বিভিন্ন  বিষয়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মণিপুর। উপত্যকার বিভিন্ন অংশে প্রভাবশালী মেইতেই ও মণিপুরের কিছু পাহাড়ি অঞ্চলে প্রভাবশালী কুকি উপজাতির মধ্যে হিংসা শুরু হয়। এই ঘটনায় ২৬০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান। প্রায় ৫০,০০০ মানুষ বাস্তুচ্যুত হন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.