MK Stalin

১৮০ ডিগ্রি ঘুরে আসন পুনর্বিন্যাসে কেন্দ্রকে সমর্থন? প্রথমবার মুখ খুললেন স্ট্যালিন

তামিলনাড়ুতে ক্ষমতায় থাকাকালীন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের আনা আসন পুনর্বিন্যাস আইনের সবচেয়ে বড় সমালোচক ছিলেন স্ট্যালিন। এখন কী বলছেন তিনি?

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৭, ২০২৬, ১৬:২৮

options
link
১৮০ ডিগ্রি ঘুরে আসন পুনর্বিন্যাসে কেন্দ্রকে সমর্থন? প্রথমবার মুখ খুললেন স্ট্যালিন
সূত্র মারফত খবর ছড়িয়েছিল, এই সময়ে ডিএমকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বিজেপি।

তামিলনাড়ুতে ক্ষমতায় থাকাকালীন কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের আনা আসন পুনর্বিন্যাস আইনের সবচেয়ে বড় সমালোচক ছিলেন স্ট্যালিন। লোকসভায় যেদিন অমিত শাহ ওই বিল পেশ করলেন স্ট্যালিন সেদিন কালো পোশাক পরে প্রকাশ্যে বিলের কপি পুড়িয়ে দেন। তখন রাহুল গান্ধীকে তিনি সম্বোধন করতেন ‘ভাই’ বলে। সেই স্ট্যালিন তামিলনাড়ুতে ক্ষমতা হারাতেই অবস্থান বদলে ফেললেন? কেন্দ্র যদি ফের আসন পুনর্বিন্যাস বিল আনে তাহলে তাঁর দল সেটার বিরোধিতা করবে নাকি সমর্থন, স্পষ্ট করে বলছেন না ডিএমকে প্রধান।

Advertisement

বৃহস্পতিবার দলীয় সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন স্ট্যালিন। সেখানে তিনি বলে দেন, এখন আর কংগ্রেসের স্বাভাবিক মিত্র নয় তাঁর দল। কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের অন্ধ বিরোধিতা নয়। কংগ্রেসকে সব ইস্যুতে সমর্থনও নয়। প্রতিটি ইস্যু ধরে ধরে অবস্থান ঠিক করা হবে। কিন্তু আসন পুনর্বিন্যাসে কি সমর্থন দেবে স্ট্যালিনের দলের ২২ সাংসদ। স্ট্যালিনের সংক্ষিপ্ত উত্তর, “অপেক্ষা করুন।” বস্তুত এতদিন যে তিনি এই বিলের অন্ধ বিরোধিতা করে আসছিলেন, সেখান থেকে সরে এসেছেন তিনি। তাঁর কথায় ইঙ্গিত মিলেছে কেন্দ্র শর্ত মানলে বিলকে সমর্থনও করতে পারে ডিএমকে। নিতান্তই সমর্থন না করলেও ভোটদানে বিরত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রকাশ্যে স্ট্যালিন বলছেন, বিলের খসড়া প্রকাশ্যে আসার পরই ওই বিল নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

Advertisement

আসলে ইদানিং কংগ্রেসের উপর ক্ষুব্ধ ডিএমকে। এম কে স্ট্যালিন আর ইন্ডিয়া জোটের অংশ নন। লোকসভায় কংগ্রেসের থেকে আলাদা করে বসার জন্য আবেদনও জানিয়েছে ডিএমকে। শোনা যাচ্ছে, বিজেপির সঙ্গে নাকি কথাবার্তাও চালাচ্ছে তারা। ইতিমধ্যেই গোপনে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে ডিএমকের। তাঁরা নাকি বিজেপিকে জানিয়েছে, আসন পুনর্বিন্যাসের ক্ষেত্রে লিখিত আকারে যদি কেন্দ্র আশ্বাস দেয় যে সব রাজ্যের আসন ৫০ শতাংশই বাড়ানো হবে, তাহলে সমর্থন বা ভোটদানে বিরত থাকার কথা ভাবতে পারেন তারা।

Advertisement

আসলে আসন পুনর্বিন্যাসের বিরোধিতায় ক্ষেত্রে কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের মূল আপত্তির কারণ ছিল, উত্তর-দক্ষিণ সাম্য নিয়ে উদ্বেগ। বিরোধী শিবিরের দাবি ছিল, আসন পুনর্বিন্যাস পাশ হলে বেশি জনসংখ্যার অজুহাত দেখিয়ে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলির আসনসংখ্যা বেশি বাড়বে, আর দক্ষিণের রাজ্যগুলি যেহেতু জনসংখ্যা অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে ফেলেছে, তাই দক্ষিণের রাজ্যগুলির আসন তুলনায় কম বাড়বে। যদিও আগেরবার সংসদে এই বিল পেশ করার সময় অমিত শাহ সাফ বলে দিয়েছিলেন, জনসংখ্যার ভিত্তিতে নয়, বরং লোকসভার আসন বাড়ানো হবে শতাংশের বিচারে। সব রাজ্যের এখন যা আসন রয়েছে, সেটার ৫০ শতাংশ আসন বাড়ানো হবে। কিন্তু বিলের খসড়ায় সেটা লিখিত আকারে ছিল না। সেটাই এবার লিখিত আকারে চাইছে ডিএমকে। সেকারণেই প্রকাশ্যে স্ট্যালিন খসড়া প্রকাশ্যে আসার জন্য অপেক্ষা করতে চাইছেন।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.