তফসিলি জাতি-উপজাতি (SC-ST Qouta) এবং অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির সংরক্ষণের মধ্যে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকাদের জন্য ‘সাব কোটা’র ব্যবস্থা হোক। এই মর্মে আবেদন জমা পড়েছিল সুপ্রিম কোর্টে। কিন্তু সেই আবেদনের বিরোধিতা করল মোদি সরকার। শীর্ষ আদালতে কেন্দ্রের সওয়াল, নির্দিষ্ট কিছু কারণের উপর ভিত্তি করে সংরক্ষণের কথা বলা হয়েছে সংবিধানে। এখন স্রেফ আর্থিক অবস্থার কথা চিন্তা করে সংরক্ষণ বিধি বদলানো যায় না। কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, যে আবেদন সুপ্রিম কোর্টে জমা পড়েছে সেটা আসলে আদালতের এক্তিয়ারভুক্তও নয়।
আরও পড়ুন:
একাধিক আবেদনকারীরা যৌথভাবে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছেন সুপ্রিম কোর্টে। তাঁদের আর্জি, তফসিলি জাতি-উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি এবং আর্থিকভাবে দুর্বল, যাদের জন্য সংরক্ষণ রয়েছে, সেই সংরক্ষণের মধ্যেই তৈরি হোক একটি ‘সাব কোটা’। ওই অংশটি বরাদ্দ থাকুক আয়ের ভিত্তিতে সংরক্ষণ হিসাবে। আবেদনকারীদের মতে, সংরক্ষণের সুবিধা যখন দেওয়া হবে তার মধ্যে অন্তত কিছুটা অংশ বরাদ্দ রাখা উচিত আর্থিকভাবে দুর্বলদের জন্য। বর্তমানে স্রেফ ওবিসি সংরক্ষণে ‘ক্রিমি লেয়ার’ ব্যবস্থা রয়েছে। সেটা এসসি এবং এসটির ক্ষেত্রেও কার্যকরের আবেদন জানানো হয়েছে।
এই আবেদনের কাউন্টার এফিডেভিট দিয়েছে কেন্দ্রীয় সমাজকল্যাণ এবং ক্ষমতায়ন মন্ত্রক। সেখানে মোদি সরকার জানিয়েছে, সংরক্ষণের প্রধান উদ্দেশ্য দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসা মানুষের জন্য সমান সুযোগ তৈরি করা এবং শিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো। এই বৈষম্য কেবল অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে না, তাই শুধুমাত্র আয়ের ভিত্তিতে সংরক্ষণের যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। সংবিধানও আয়ের ভিত্তিতে এই সংরক্ষণের কথা বলে না। ভুল বুঝে এই পিআইএল দায়ের হয়েছে এমনটাও জানিয়েছে কেন্দ্র।
এসসি এবং এসটির মধ্যে ক্রিমি লেয়ার ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র জানিয়েছে, ১৯৯২ সালে ইন্দ্রা সাহানি মামলায় সাংবিধানিক বেঞ্চ রায় দিয়েছিল, ‘ক্রিমি লেয়ার’ নীতি শুধুমাত্র ওবিসি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এসসি ও এসটি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এর প্রাসঙ্গিকতা নেই। পরবর্তী বিভিন্ন রায়েও একই অবস্থান বহাল রয়েছে। উল্লেখ্য, ক্রিমি লেয়ারের আওতায় পড়েন আর্থিকভাবে সচ্ছল, শিক্ষিত এবং বেশি উপার্জনকারীরা। তাঁরা সংরক্ষণের সুবিধা পান না। কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, আগামী দিনে সংরক্ষণের নিয়মে বদল করতে গেলে সেটা একমাত্র সংবিধান সংশোধনীর মাধ্যমেই সম্ভব। সেই ক্ষমতা রয়েছে একমাত্র পার্লামেন্টের হাতে। আদালত এই নিয়ে নির্দেশ দিতে পারে না।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মাথার দাম ১ কোটি, বঙ্গেই গা ঢাকা! মদনকে জেরায় মাওবাদী নেতা আকাশের তথ্য পেল পুলিশ
-
ভবানীপুরে বিজেপি কর্মীকে মারধর, মাকে শ্লীলতাহানি! পুলিশের জালে তৃণমূল নেতা
-
‘টোটো অবৈধ, এ বার ই-রিকশা’, ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রী অর্জুন সিংয়ের
-
বিচ্যুতি দেখলেই ‘অ্যাকশন’, ‘তোলাবাজ’ ধরতে জেলা পর্যবেক্ষকদের গুরুদায়িত্ব শমীকের!
-
যশের দ্বৈত চরিত্রে ঘায়েল দর্শক, ‘টক্সিক’-এর ট্রেলারে উঠে এল নয়ের দশকের অন্ধকার জগৎ