‘গুমনামি বাবা’ই নেতাজি? তদন্তে গড়া হল কমিশন

‘গুমনামি বাবা’র প্রকৃত পরিচয় খতিয়ে দেখতে এলাহাবাদ হাই কোর্টের নির্দেশে গঠিত হয়েছে এক সদস্যের একটি বিচারবিভাগীয় কমিশন৷

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২৭, ২০১৮, ১৭:৪৯

options
link
‘গুমনামি বাবা’ই নেতাজি? তদন্তে গড়া হল কমিশন

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘গুমনামি বাবা’র সঠিক পরিচয় কী? জনশ্রুতি অনুযায়ী সত্যি কি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকা ফৈজাবাদের সেই সন্ন্যাসীই ছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু? জল্পনার অবসান হবে আর মাত্র মাস ছয়েক পরেই৷ কারণ, ‘গুমনামি বাবা’র প্রকৃত পরিচয় খতিয়ে দেখতে এলাহাবাদ হাই কোর্টের নির্দেশে গঠিত হয়েছে এক সদস্যের একটি বিচারবিভাগীয় কমিশন৷ নেতৃত্বে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বিষ্ণু সহায়৷ ইতিমধ্যেই এই সংক্রান্ত  নির্দেশিকা ইস্যু করেছেন উত্তরপ্রদেশের স্বরাষ্ট্র বিভাগের মুখ্যসচিব দেবাশিস পান্ডা৷ আগামী ছ’মাসের মধ্যে এই কমিশন রিপোর্ট পেশ করবে৷ নেতাজিকে নিয়ে অমীমাংসিত এই সত্যের উদঘাটন হবে তখনই৷

Advertisement

তাইহোকু বিমান দুর্ঘটনায় সত্যিই নেতাজির মৃত্যু হয়েছিল কি না? কিংবা জাপানের রেনকোজি মন্দিরে যে চিতাভস্ম রয়েছে, সেটা সত্যিই সুভাষচন্দ্র বসুর কি না? এই সব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর যেমন আজও মেলেনি, তেমনই অধরা রয়ে গিয়েছে ‘গুমনামি বাবা’র সঠিক পরিচয়ও৷ ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত পূর্ব উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদের রাম ভবনে থাকতেন ‘গুমনামি বাবা’৷ প্রকাশ্যে আসতেন না কখনও৷ ‘গুমনামি বাবা’ তাঁর জীবনের শেষ দশ বছর কাটিয়েছিলেন অযোধ্যা এবং ফৈজাবাদে৷

Advertisement

শুধুমাত্র উত্তরপ্রদেশের ফৈজাবাদের স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, আজও দেশজুড়ে বহু মানুষ বিশ্বাস করেন ‘গুমনামি বাবা’র ভেক ধরে রাম ভবনে যিনি থাকতেন, তিনিই আসলে ছিলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক৷ এই বিশ্বাসের সপক্ষেই যুক্তি দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের সাংবাদিক অশোক ট্যান্ডন৷ তাঁর দাবি, “গুমনামি বাবার তিরোধানের পর নেতাজির ভাইজি ললিতা বসু রাম ভবনে এসেছিলেন৷ ‘বাবা’র ঘরে ঢুকে তাঁর ব্যবহৃত জিনিসপত্র দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন তিনি৷ স্বীকার করেছিলেন যে সেগুলো সবই তাঁর কাকার ছিল৷” শুধু তাই নয়, ট্যান্ডনের মতে, সময়ে অসময়ে নেতাজির অনেক আত্মীয়-পরিজনই না কি রাম ভবনে এসে ‘গুমনামি বাবা’র সঙ্গে দেখা করে যেতেন৷

Advertisement

১৯৮৫ সালে মৃত্যু হয়েছিল ‘গুমনামি বাবা’র৷ তাঁর প্রয়াণের খবর পেয়ে ললিতা বসু তাঁর প্রকৃত পরিচয় জানতে চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন৷ সঙ্গে ছিল ফৈজাবাদেরই ‘সুভাষ চন্দ্র বসু বিচার মঞ্চ’ নামে একটি সংগঠন৷ বিষয়টি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে আদালত তখনই একটি বিচারবিভাগীয় কমিশন গঠনের নির্দেশ দিয়েছিল৷ পাশাপাশি এ-ও জানিয়েছিল,  তিন মাসের মধ্যে একটি স্মৃতিসৌধ গড়ে ‘বাবা’ যে সব সামগ্রী রেখে গিয়েছেন, সেগুলি সেখানে সংরক্ষণ করা হোক৷ উত্তরপ্রদেশ সরকারের তরফে সেই স্মৃতিসৌধ নির্মাণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে৷ অযোধ্যার রামকথা সংগ্রহশালায় যেখানে এই স্মারক-সৌধটি গড়া হবে, সেখানে ইতিমধ্যেই ‘বাবা’র সব  সামগ্রী নিয়ে যাওয়া হয়েছে৷

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.