বৃষ্টিতে ঠায় দাঁড়িয়ে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা, ছাতা মাথায় অন্য সাংসদরা! দেখেই সংসদের ‘নকশা বদলে’র নির্দেশ স্পিকারের
নতুন এই সংসদ ভবন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের প্রকল্প। হাজার বিরোধিতা সত্ত্বেও ২০২৩ সালে ১২০০ কোটি টাকা খরচ করে সংসদ ভবন তৈরি করে সরকার।
আসলে নতুন সংসদ ভবনের যে দরজা দিয়ে বেশিরভাগ সাংসদ যাতায়াত সেটা হল মকর দ্বার। এই মকর দ্বার পুরনো সংসদ ভবনের ঠিক সামনে অবস্থিত। সমস্যা হল এই মকর দ্বারের সামনে কোনও ছাদবারান্দা নেই। সম্ভবত স্থান সংকুলান না হওয়ায় ছাদবারান্দা তৈরি করা হয়নি। গাড়ি থেকে নেমে খোলা জায়গায় পায়ে হেঁটে যান সাংসদরা। ফলে গরমে রোদের মধ্যে বা বর্ষায় কষ্ট পেতে হয় সাংসদদের।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশন মুলতুবি হয়ে যাওয়ার বিরোধী দলের সাংসদদের দেখা যায়, ছাতা মাথায় নিয়েই সরকার বিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন। সেসময় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী বেরিয়ে আসেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা ছাতা হাতে এগিয়ে আসেন তাঁর দিকে। রাহুল সেই ছাতা মাথায় দিতে চাননি। তিনি নিরাপত্তারক্ষীদের বলে দেন, 'আমি বৃষ্টিকে ভয় পাই না। আমি কাউকেই ভয় পাই না।' বেশ কিছুক্ষণ ভেজেন বিরোধী দলনেতা।
দাদা যখন ভিজছিলেন তখন সংসদের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও। তিনিও ছাতা সরিয়ে রাহুলের সঙ্গে দাঁড়িয়ে কিছুক্ষণ কথা বলেন। শোনা যায়, শেষে প্রিয়াঙ্কার চোখে জল ঢুকে অস্বস্তি হতে শুরু করায় দুই ভাই-বোন সংসদ চত্বর ছাড়েন। রাহুল এবং প্রিয়াঙ্কার বৃষ্টিতে ভেজার ওই ছবি ও ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল। শুধু রাহুল-প্রিয়াঙ্কা কেন ছাতা মাথায় অন্য সাংসদদের অনেক ছবিও ভাইরাল হচ্ছে।
বৃষ্টিতে সাংসদদের ভেজা এবং ছাতা মাথায় দেওয়ার সেই ছবি দেখে নড়েচড়ে বসেন স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি ডেকে পাঠান কেন্দ্রের পূর্ত দপ্তরের আধিকারিকদের। সূত্রের খবর, মকর দ্বারের উপর পুরনো সংসদ ভবনের মতো ছাদ বারান্দা তৈরি করে দেওয়া যায় কিনা, সেটা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার। আসলে নতুন সংসদ ভবনের ছ'টি দরজার মধ্যে ৩টিতে ছাদ বারান্দা রয়েছে ৩টি-তে নেই।
আরও পড়ুন:
যে দরজা গুলিতে ছাদবারান্দা রয়েছে সেগুলির মধ্যে একটি দরজা (গজ দ্বার) শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি ব্যবহার করেন। একটি দরজা (অশ্বদ্বার) ব্যবহার করেন উপরাষ্ট্রপতি সিপি রাধাকৃষ্ণণ। গড়ুর দ্বারের সামনে ছাদ বারান্দা আছে বটে কিন্তু ওই দরজাটি সচরাচর সংসদের কর্মী, আধিকারিক, বাইরের দর্শক বা অতিথিরা প্রবেশ করেন। সাংসদরা চাইলে ওই রাস্তায় যেতে পারেন। কিন্তু ভিড় এড়াতে ওই পথ মাড়ান না বেশিরভাগ সাংসদ।
স্পিকার নিজে যে হংসদ্বার দিয়ে প্রবেশ করেন, সেখানেও ছাদবারান্দা নেই। আবার মকর দ্বারেও ছাদবারান্দা নেই। সূত্র বলছে, আপাতত স্পিকার পূর্ত দপ্তরকে বলেছেন মকরদ্বারের নকশা বদলে কোনওভাবে সেখানে ছাদবারান্দা তৈরি করা যায় কিনা সেটা খতিয়ে দেখতে। কিন্তু আদৌ সেটা সম্ভব কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সংসদের আসল নকশায় ছাদবারান্দার জন্য প্রয়োজনীয় পরিবর্তন সম্ভব কিনা সেটা দেখছেন পিডব্লুউডি আধিকারিকরা।
নতুন এই সংসদ ভবন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির স্বপ্নের প্রকল্প। হাজার বিরোধিতা সত্ত্বেও ২০২৩ সালে ১২০০ কোটি টাকা খরচ করে সংসদ ভবন তৈরি করে সরকার। সংসদের প্রতিটি কোণে ভারতীয় শিল্পকলার নিদর্শন তুলে ধরা হয়েছে। ডিজাইন করেছে আহমেদাবাদের সংস্থা এইচচিপি ডিজাইন। কিন্তু অতীতে দেখা গিয়েছে একটু বৃষ্টি হলেই সংসদে বিপত্তি শুরু হয়। সংসদের ভিতরে জল ঢুকে পড়ছে সে ছবিও অতীতে দেখা গিয়েছে।