বদমেজাজি সন্তানের শাস্তিতেও ভয় নেই? এই ৫ টিপসেই বদলাবে খুদের আচরণ
সন্তান কেন ভুল করেছে এবং পরেরবার কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো যায়, তা না শিখিয়ে কেবলমাত্র শাস্তির ভয় দেখালে, বাড়িতে ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে আরও বেশি দেখা যায় এই ছবি। মনোবিদরা তাই বলেন, এখনকার প্রজন্মের কিশোরকিশোরিদের ক্ষেত্রে পছন্দের জিনিস কেড়ে নেওয়া, বাইরে যাওয়া বন্ধ করা কিংবা কড়া ভাষায় বকাঝকা করার বদলে ভিন্ন কৌশল মেনে চলতে হবে। গবেষণা বলছে, ছোটদের কথা না শুনতে চাওয়ার পিছনে শুধু ‘কিশোরসুলভ জেদ’ নয়, বরং মস্তিষ্কের বিকাশ, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা ও সামাজিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
শাস্তির ভয়ের বদলে উপহারের কথা বলুন। তাকে জানান, সময়ে কাজ সেরে নিলে পছন্দের খাবারটি দেওয়া হবে, পছন্দের জায়গায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়া হবে। বৈষয়িক লোভ নয়, বরং আপনার প্রশংসার যোগ্য হয়ে ওঠাই হোক সন্তানের লক্ষ্য। মনে রাখতে হবে কৈশোরকালে মস্তিষ্কের আবেগ-নির্ভর অংশ দ্রুত সক্রিয় হয়ে ওঠে, কিন্তু আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল বিচারের ক্ষমতা পুরোপুরি পরিণত হয় না।
অতিরিক্ত শাস্তি অনেক সময় উলটো ফল দেয়। কঠোর শাস্তির ভয়ে সাময়িকভাবে কোনও কাজ করা থেকে বিরত থাকলেও সন্তানের মনে বাবা-মায়ের প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয় এতে। কিছু ক্ষেত্রে আগ্রাসী আচরণও বাড়িয়ে দিতে পারে। সন্তান কেন ভুল করেছে এবং পরেরবার কীভাবে পরিস্থিতি সামলানো যায়, তা না শেখালে বাড়িতে কেবলমাত্র ভয়ের পরিবেশ তৈরি হয়।
কেবলমাত্র আদেশ দেওয়ার বদলে সন্তানের বন্ধু হয়ে উঠুন। যে কোনও কাজের দায়িত্ব যদি শুধু একতরফাভাবে সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেন, তবে সে এক সময়ে মনে মনে বাবা-মায়ের প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠবে। অভিভাবক যদি সন্তানের বন্ধু হয়ে ওঠে, কাজের দায়িত্ব যদি দুজনের মধ্যে ভাগ করে নেওয়া যায়, সন্তান যদি বোঝে যে বাবা-মায়ের তার সাহায্যের দরকার, তবে শাস্তির প্রয়োজন হবে না।
আরও পড়ুন:
ভুলের পরে শুধু শাস্তি নয়, সম্পর্ক মেরামতের সুযোগ দিন। কোনও ভুল বা ক্ষতিকর আচরণের পরে কীভাবে পরিস্থিতি ঠিক করা যায়, সেটি শেখানোও বাবা-মায়েরই কাজ। সন্তানকে বোঝান তার কাজ বা আচরণের নেতিবাচক দিকগুলি। প্রয়োজনে তাকে ক্ষমা চাওয়ার গুরুত্ব বোঝান, ভবিষ্যতে কীভাবে এমন ঘটনা এড়ানো যায়, বলুন তাও। এতে শাস্তির ভয় নয়, দায়িত্ববোধ ও সম্পর্কের মূল্য বোঝার সুযোগ তৈরি হয়।
কিশোর-কিশোরীরা এমন নিয়ম সহজে মেনে নিতে চায়, যেগুলিকে তারা ন্যায্য এবং যুক্তিসঙ্গত বলে মনে করে। তাই ‘আমি অভিভাবক, তাই আমার কথা মানতেই হবে’ এমন যুক্তি তার ওপর চাপিয়ে দেবেন না। বাড়িতে কোনও নিয়ম লাঘু করা হলে তা কেন করা হয়েছে, না করলে পরিবারের সকলের জীবনেই কেমন ধরনের সমস্যা হতে পারে, তা বুঝতে সাহায্য করুন সন্তানকে।
কৈশোরে সন্তানকে বড় করার ক্ষেত্রে কঠোরতা ও সম্পূর্ণ ছাড়— দুটির কোনওটিই একমাত্র সমাধান নয়। সন্তানকে নিয়মানুবর্তিতা, সীমা মেনে চলার গুরুত্ব বোঝানর পাশাপাশি সন্তানের মতামতের প্রতি সম্মান জানানোর দিকেও মনোযোগী হতে হবে অভিভাবককে। কারণে অকারণে শাস্তি দেওয়া নয়, সন্তানকে নিজের আবেগ ও আচরণের দায়িত্ব নিতে শেখানোই বাবা-মায়ের দায়িত্ব।