আইফেল টাওয়ার ছুঁয়ে ল্যুভর মিউজিয়াম চত্বরে পূজিত হবেন দুর্গা! বড় চমক নিউ জার্সির এই পুজোয়
পঞ্চম বছরের পুজোয় একেবারে তাক লাগিয়ে দিতে জোরদার প্রস্তুতি উদ্যোক্তাদের।
এবার আমেরিকায় একটুকরো প্যারিস। মা দুর্গার পুজো হবে প্যারিসের লুভর মিউজিয়াম চত্বরে! অবাক হচ্ছেন? কিন্তু থিমের দৌলতে এটাই বাস্তব হতে চলেছে। মূল উদ্যোক্তা নিউ জার্সির 'ত্রিনয়নী'। দেবীর তিন নয়নের মতো তাদের অন্তর্দৃষ্টিও বেশ ভালোই বলতে হবে। নইলে কি আর লুভর মিউজিয়ামের কাচের মেঝেতে দুর্গা আরাধনার মতো ভাবনা কেউ ভাবতে পারেন? এবার পাঁচ বছরের পুজোয় এই ভাবনাই বিশেষ আকর্ষণ।
আরও পড়ুন:
কীভাবে তৈরি হচ্ছে 'ত্রিনয়নী'র পুজো মণ্ডপ? উদ্যোক্তাদের অন্যতম শিবাজি চন্দ্র জানাচ্ছেন, ''আইফেল টাওয়ার, লুভর মিউজিয়াম সব তৈরি হচ্ছে কাটআউটের আকারে। এমন নকশা করা হচ্ছে যাতে মনে হয় লুভরের চত্বর পূজার বেদি। তাতে দশভুজার অধিষ্ঠান। এই জায়গাটি আসলে আমাদের স্কুল ও জিম সংলগ্ন জায়গা।'' সপ্তাহান্তের দু'দিনে রীতি মেনে দুর্গাপুজো হবে। শামিল হবেন গোটা কমিউনিটির উৎসবপ্রেমী মানুষ।
'ত্রিনয়নী'র সদস্যরা এখন থেকেই মেতে উঠেছেন পুজোর আনন্দে। দিনরাত এক করে প্রস্তুতি চলছে। কাটআউট বানানো থেকে প্যান্ডেলের ডিজাইন, সব নিজে হাতে করছেন তাঁরা। পরিশ্রম এখানে তুচ্ছ, সপ্তাহভর কাজের ফাঁকে ছুটির দিনগুলোয় সবাই মিলে কাজের আনন্দটাই আসল। মা আসছেন যে! সব সাজিয়ে তুলতে হবে তো। তার উপর আবার থিম যেখানে প্যারিস, সেখানে বাড়তি কাজ তো থাকবেই।
বিদেশে পুজোর দিনগুলো শুধু আচার-সর্বস্ব পুজোতেই কাটে না। বছরের এই একটা সময় প্রবাসী বাঙালিদের রি-ইউনিয়নের সময়। যেখানে যে বাঙালি থাকেন, পুজোর সময় দেশ ফিরতে না পারলে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাতে আশপাশের পুজোতেই শামিল হন। এমনিতে নিউ জার্সি শহরে বাঙালি কিংবা দুর্গাপুজো - কোনও সংখ্যাই কম নয়। এই কয়েকটা দিন একেবারে উৎসবমুখর হয়ে থাকে। 'ত্রিনয়নী'র পঞ্চম বছরে থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
আরও পড়ুন:
জানা যাচ্ছে, এবছর ১৭ ও ১৮ অক্টোবর, শনি ও রবিবার প্যারিস থিমে দুর্গোৎসব পালন করবে 'ত্রিনয়নী'। ১৭ তারিখ সন্ধ্যায় বাংলা ব্যান্ড চন্দ্রবিন্দুর অনুষ্ঠান। 'ভিনদেশি তারা', 'সুইটহার্ট', 'টালোবাসা'র সুরে শারদ আনন্দে মেতে উঠবেন নিউ জার্সির বাঙালিরা। আর ১৮ তারিখ রয়েছে বলিউডের সঙ্গীতশিল্পী নীরজ শ্রীধরের অনুষ্ঠান। দু'দিনে দুই দমদার পারফরম্যান্স আমেরিকার মাটিতে পুজোর আনন্দ আরও বাড়িয়ে তুলবে নিঃসন্দেহে।
পুজোর দুটি দিন যেন বছরের বাকি ৩৬৩ দিন কাটানোর রসদ। বিদেশে শনি আর রবি মানেই যাবতীয় অনুষ্ঠান। তাই বাংলার চার-পাঁচদিনের দুর্গাপুজো সেখানে সংক্ষিপ্ত, মাত্র দু'দিনের। উৎসবের মেয়াদ কম হতে পারে, কিন্তু আনন্দ কম নয় মোটেও। বরং তা অনেক বেশি। আসলে এই সময়টার জন্য সারাবছর ধরে অপেক্ষা করে থাকেন বিশ্বের সব বাঙালিই। যেভাবেই হোক, চেটেপুটে তার আনন্দ উপভোগ করতেই হবে।