Indus Waters Treaty

সিন্ধু চুক্তি নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক আঙিনায় নাকি কান্না পাকিস্তানের, পাত্তাই দিল না ভারত

নেদারল্যান্ডের হেগ শহরের পিস প্যালেসে ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির শুনানি ডাকে আন্তর্জাতিক আদালত। গত সপ্তাহে এই বিষয়ে নোটিস পাঠানো হয় ভারতকে। যদিও নয়াদিল্লি বিষয়টিকে পাত্তা দিতেই রাজি নয়।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ২, ২০২৬, ১৮:৫৩

options
link
সিন্ধু চুক্তি নিয়ে ফের আন্তর্জাতিক আঙিনায় নাকি কান্না পাকিস্তানের, পাত্তাই দিল না ভারত
নরেন্দ্র মোদি (বাঁ দিকে), শাহবাজ শরিফ ডান দিকে। ফাইল চিত্র।

সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত করেছে ভারত। প্রতিবাদে হেগের আন্তর্জাতিক আদালতে (Court of Arbitration) নালিশ ঠুকেছে পাকিস্তান। সম্প্রতি শুনানির দিন ধার্য করে দিল্লির জবাব তলব করে হেগের আদলত। যদিও সোমবার দিল্লি স্পষ্ট করে দিল, তারা সিওএ-র এই আইনি প্রক্রিয়ার বৈধতা স্বীকার করে না। ফলে শুনানিতে অংশও নেবে না।

Advertisement

নেদারল্যান্ডের হেগে শহরের পিস প্যালেসে ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তির শুনানি ডেকেছিল আন্তর্জাতিক আদালত। গত সপ্তাহে এই বিষয়ে নোটিস পাঠানো হয় ভারতকে। চুক্তির কাগজপত্র জমা দিতে বলে আদালত। যদিও নয়াদিল্লি পাকিস্তানের নালিশের বিষয়টিকে পাত্তা দিতেই রাজি নয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি আধিকারিকের বক্তব্য, “অবৈধভাবে গঠিত সিওএ নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ ছাড়াই সমান্তরাল কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু আমরা সিওএর বৈধতা স্বীকার করি না, তাই আমরা এর কোনও জবাব দেব না।” যোগ করেন, যেহেতু বর্তমানে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্থগিত রয়েছে, এই অবস্থায় ভারত জবাব দিতে বাধ্য নয়। “এটা (আন্তর্জাতিক আদালতে নালিশ) আসলে ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলতে পাকিস্তানের একটি কৌশল।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

পহেলগাঁও কাণ্ডের পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একাধিক কূটনৈতিক পদক্ষেপ করেছে ভারত সরকার। ১৯৬০ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল, আপাতত সাময়িক ভাবে তা স্থগিত রাখার কথা জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের এই পদক্ষেপকে ভিয়েনা চুক্তির বিধিভঙ্গ হিসাবে দাবি করেছে ইসলামাবাদ।

Advertisement

১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্বব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই চুক্তি অনুসারে, ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকবে সিন্ধুর পূর্বের তিন উপনদী— বিপাশা (বিয়াস), শতদ্রু (সাটলেজ) এবং ইরাবতী (রাভি)-র জল। এছাড়া সিন্ধু ও তার দুই উপনদী বিতস্তা (ঝিলম), চন্দ্রভাগার (চেনাব) জলের উপরে থাকবে পাকিস্তানের অধিকার। এই নদীগুলি ভারতের দিক থেকে পাকিস্তানের দিকে বয়ে যায়। এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল নেহরু ও পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আয়ুব খানের মধ্যে।

চুক্তির শর্ত বলছে, ভারত বা পাকিস্তান নিজেদের প্রয়োজনে ওই জল ব্যবহার করলেও কোনও অবস্থাতেই জলপ্রবাহ আটকে রাখতে পারবে না। ভারত চুক্তি স্থগিত রাখায় পাকিস্তানের পঞ্জাব এবং সিন্ধু প্রদেশে জলসেচ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞেরা। যার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষিতে। কারণ, সিন্ধু ও তার উপনদীগুলির জলের উপরেই পাকিস্তানের ৮০ শতাংশ কৃষি নির্ভরশীল! 

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.