অরুণাচল প্রদেশের ক্রমশ থাবা বসাচ্ছে চিনের পিপলস লিবারেশন আর্মি। আপার সুবনসিরি জেলায় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে তাদের গতিবিধি বাড়ার পাশাপাশি অবৈধভাবে দখল করছে ভারতের জমি। গুরুতর এই অভিযোগ তুলে সম্প্রতি সরব হয়েছিলেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ। বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হতেই এবার নড়েচড়ে বসল সরকার। অরুণাচলের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মামা নাটুং সোমবার জানালেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইইয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। তবে আদিবাসীদের তোলা অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে ভারতীয় সেনা।
রাজ্যের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মামা নাটুং সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই ইস্যুতে বলেন, যে অভিযোগ তোলা হয়েছে সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছি আমরা। জেলা প্রশাসন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় জনগণ এবং পঞ্চায়েত কমিটিগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের উপর ভিত্তিতে যাবতীয় পদক্ষেপ করা হবে। যদি সত্যিই কোনও অবৈধ দখল হয়ে থাকে, তবে তা খুবই অন্যায় হবে। এলাকায় আসলে কী ঘটছে তা খুঁজে বের করতে আমরা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব।
আরও পড়ুন:
অরুণাচলের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মামা নাটুং সোমবার জানালেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাইইয়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।
সরকারের তরফে বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও ভারতীয় সেনা এই অভিযোগ পুরোপুরি খারিজ করেছে। সেনার তরফে এহেন দাবিকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলা হয়েছে। সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘আমরা কিছু সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন দেখেছি যেখানে অভিযোগ করা হয়েছে যে চিনা পিএলএ অরুণাচল প্রদেশে অনুপ্রবেশ করে সেনা ক্যাম্প স্থাপন করেছে। এই প্রতিবেদনগুলো মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি অরুণাচলের আদিবাসী সংগঠন ‘নাহ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ জেলা প্রশাসনের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। যেখানে তাঁদের অভিযোগ, গত ৬ বছরের মধ্যে চিনের সেনাবাহিনী তাদের পৈতৃক জমি, চারণভূমির বড় অংশ দখল করে নিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, চিন গত ১০-১৫ বছর ধরে ওই এলাকায় ধীরে ধীরে দখলদারি শুরু করেছে। তবে ২০২০ সাল থেকে এই আগ্রাসন ভয়ংকরভাবে বেড়ে গিয়েছে। আপার সুবানসিরির তাকসিং অঞ্চলের ৫টি এলাকায় চিনা আগ্রাসনের তালিকাও তুলে ধরেছে সংগঠনটি। যেগুলি হল, আসাফিলা এলাকায় ওয়িং, পোট্রাং (হ্রদ), মারপান (মারনাফে) অঞ্চল, পানিয়ার (চুজারতা এলাকা) এবং টিনডিনটাং (টিজি)। স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, এইসব এলাকাগুলি ২০২০ সাল পর্যন্ত তাঁদের দখলে ছিল, কিন্তু বর্তমানে সেখানে চিন সেনা ঘাঁটি গেড়েছে।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
তহবিল মামলায় ধাক্কা কালীঘাট তৃণমূলের, দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ হাই কোর্টে
-
বেতনের নথি সইয়ে অনীহা প্রশাসকদের! পরিচালন সমিতি ভাঙায় সমস্যায় স্কুলের পার্শ্বশিক্ষকরা
-
রাম মন্দির দর্শনে বাধা কংগ্রেস নেতা অজয় রাইকে! অযোধ্যায় ‘গৃহবন্দি’ করল যোগীর পুলিশ
-
ছুটছেন এমবাপে-ডেম্বেলেরা, সুইডেনের বিরুদ্ধে নামার আগে দেশঁর মাথাব্যথা নিজের দলই!
-
‘একেবারে মেরুদণ্ডহীন-চটিচাটা’, মোদির প্রশংসা করতেই কেন কটাক্ষের শিকার মাধবন?