সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শহরের পুরসভা পরিচালিত স্কুলগুলিতে সপ্তাহে দু’বার ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিল বৃহণ্মুম্বই পুরসভা। শুক্রবার এই মর্মে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে পুর অধিবেশনে। এখন পুর কমিশনার অজয় মেহতা প্রশাসনিক অনুমোদন দিলেই, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এদিকে, পুরসভার এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টি।
[মানসিক অবসাদে আত্মঘাতী জেলাশাসক, রেললাইনের ধারে উদ্ধার দেহ]
গত মাসে তামিলনাড়ুর সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে অন্তত একবার ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মাদ্রাজ হাই কোর্ট। বিধানসভায় মাদ্রাজ হাই কোর্টের নির্দেশ মহারাষ্ট্রের স্কুল ও কলেজগুলিতেও কার্যকর করার দাবি তুলেছিলেন বিজেপির এক বিধায়ক। এই নিয়ে বিধানসভায় শাসক ও বিরোধী দলের বিধায়কদের মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডাও হয়। তবে সারা রাজ্যে না হলেও, এবার মুম্বই শহরের পুরসভা পরিচালিত স্কুলগুলিতে সপ্তাহে দু’বার ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। শুক্রবার পুর অধিবেশনে এই মর্মে একটি প্রস্তাব পেশ করেন বিজেপি কাউন্সিলর সন্দীপ প্যাটেল। বিজেপি কাউন্সিলরের প্রস্তাবকে সমর্থন করে শিব সেনা। এরপরই প্রস্তাবটি অনুমোদন করে দেন বৃহন্মুম্বই পুরসভার মেয়র বিশ্বনাথ মহাদেশ্বর। যদিও এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য রাখতে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে অধিবেশন বয়কট করেন কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির কাউন্সিলররা। বিজেপি কাউন্সিলর সন্দীপ প্যাটেল বলেন, ‘সম্প্রতি তামিলনাড়ুর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক বলে রায় দিয়েছে মাদ্রাজ হাই কোর্ট। আমার মনে হয়েছিল, তামিলনাড়ুকে যদি এটা হাতে পারে, তাহলে মুম্বইতে কেন নয়? আমি একটা প্রস্তাব দিয়েছিলাম। যথেষ্ট সমর্থন থাকায় মেয়র সেটি অনুমোদন করেছেন। আমি কৃতজ্ঞ।’ এখন শুধু বৃহন্মুম্বই পুরসভার কমিশনারের প্রশাসনিক অনুমোদনের অপেক্ষা। তারপর মুম্বই শহরের পুরসভা পরিচালিত স্কুলগুলিতে সপ্তাহে দু’বার ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে পড়ুয়া ও শিক্ষিক-শিক্ষিকাদের।
[ফের মারণ ‘ব্লু হোয়েল’-এর খপ্পরে কিশোর, পুলিশি তৎপরতায় রক্ষা]
বস্তুত, মুম্বইয়ে পুরসভার স্কুলগুলিতে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া নিয়ে নীতিগতভাবে আপত্তি নেই বিরোধী দল কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টিরও। তবে যেভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে, তার বিরোধিতা করেছে দু’দলই। মুম্বইয়ের কংগ্রেস বিধায়ক রবি রাজা বলেন, ‘আমরা স্কুলে ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার বিরোধিতা করছি না। কিন্তু যেভাবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হতে চলেছে, তা নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। এতে মানুষের মৌলিক অধিকার খর্ব হবে। এর প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা পুর কমিশনারকে চিঠি দেব।’ বৃহন্মুম্বই পুরসভার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন সমাজবাদী পার্টির কাউন্সিলর রায়াস শেখও।
[গো-মাংসর খোঁজে বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালানোর অনুমতি চাইল মহারাষ্ট্র]
এদিকে, ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়া বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত ‘অসাংবিধানিক’ বলে মন্তব্য করেছেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদ-উল মুসলিমিনের (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের মোদি সরকার দেশের ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্রটাই নষ্ট করে দিতে চাইছে। দেশ জুড়ে হিন্দুত্ববাদী ভাবধারা প্রচারের চেষ্টা চলছে।
[OMG! ছাতা মাথায় ট্রেন চালাচ্ছেন চালক, ভাইরাল ভিডিও]
সর্বশেষ খবর
-
৬ মাসেই মোহভঙ্গ, ‘চিটার’ পৃথ্বীর সঙ্গে বাগদান ভাঙলেন সোশাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার
-
‘বন্ধুত্বের বন্ধন…’, জন্মদিনে ‘বন্ধু’ মোদিকে মিষ্টি শুভেচ্ছা মেলোনির
-
অন্নপূর্ণার টাকায় উমা আরাধনা, চাঁদা না নিয়েই অসাধ্যসাধন বাংলার ‘দুর্গা’দের
-
পশ্চিমবঙ্গে বিশ্বকর্মা যোজনা দর্জি-ক্ষৌরকারদের! তৃণমূল সরকারকে দুষে শুভেন্দু বললেন ‘পরিযায়ী বিশ্বকর্মাদের রাজ্যে ফেরাব’
-
এখনও হয়নি প্রতীক-সিদ্ধান্ত! ঝুলেই উপনির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থীদের ভবিষ্যৎ, কী মত দু’পক্ষের?