‘দিল্লি কিন্তু ভয়ংকর জায়গা’, এনডিএ’র নতুন সাংসদদের সতর্ক করলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী, কীসের ভয়?
বুধবার সকালে ব্রেকফাস্ট মিটে এনডিএ-র নতুন রাজ্যসভার সাংসদদের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর ডাকা ওই ব্রেকফাস্ট মিটে উপস্থিত ছিলেন প্রায় জনা ৩০ সাংসদ।
এর মধ্যে ভাঙন ধরেছে শিব সেনার উদ্ধব শিবিরেও। এর মধ্যে রাজ্যসভাতেও শক্তি বেড়েছে বিজেপির। রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে আম আদমি পার্টির সাত সাংসদ যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। বাংলাতেও তৃণমূলের ৩ রাজ্যসভার সাংসদ তৃণমূলের সাংসদপদ ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়ে ফের সাংসদ হয়েছেন। অর্থাৎ এনডিএ শিবিরে রাতারাতি সাংসদসংখ্যা অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। এনডিএর বৈঠক শেষে ওই নতুন সাংসদদের দিল্লির রাজনীতির প্রাথমিক পাঠ দিলেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
বুধবার সকালে ব্রেকফাস্ট মিটে এনডিএ-র নতুন রাজ্যসভার সাংসদদের সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাখানেক সময় কাটান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রধানমন্ত্রীর ডাকা ওই ব্রেকফাস্ট মিটে উপস্থিত ছিলেন প্রায় জনা ৩০ সাংসদ। প্রত্যেকেই হয় নতুন করে এনডিএ-তে যোগ দিয়েছেন নয়তো প্রথমবার এনডিএর কোনও দলের টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন।
সূত্রের খবর, ওই সাংসদদের একান্ত আলাপচারিতায় দিল্লির রাজনীতির গতিপ্রকৃতি, মারপ্যাঁচ নিয়ে সতর্ক করে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি সাংসদদের বলেন, "দিল্লি কিন্তু খুব বিপজ্জনক জায়গা। বিভিন্ন দিক থেকে বিভিন্ন রকম চক্রান্ত হতে পারে। কার সঙ্গে আপনারা দেখা করছেন, কখন দেখা করছেন, সেগুলি নিয়ে যত্নবান হন। ভুলে যাবেন না দিল্লি খুব বিপজ্জনক।"
তাৎপর্যপূর্ণভাবে নতুন যে সাংসদরা এদিন মোদির ক্লাসে হাজির ছিলেন, তাঁদের মধ্যে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতীন নবীনও ছিলেন। তিনিও এই প্রথমবার সংসদে যাচ্ছেন। সূত্রের খবর, নবীন-সহ নতুন সাংসদদের সহবতের পাঠও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কীভাবে সংসদে নিজেদের সংযত রাখতে হবে। কীভাবে বিরোধী দলের মোকাবিলা করতে হবে। সবকিছু নিয়েই পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, এনডিএ সাংসদদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সতর্ক করে দিয়েছেন, কোনওভাবেই যাতে সাংসদদের সরকারি লেটারহেডের অপব্যবহার না হয়। আবার একই সঙ্গে ফোনে যাতে কোনও সাংসদ কারও প্রতি ক্ষোভপ্রকাশ না করেন, বা বিরক্ত হয়ে কথা না বলেন সেটাও নিশ্চিত করতে বলেছেন মোদি। মোদি নতুন সাংসদদের বলেছেন, অভিজ্ঞ সাংসদদের থেকে আচরণ শিখতে। সেটা বিরোধী শিবিরের সাংসদও হতে পারেন।
সাংসদদের ওই বৈঠকে নিজের ব্যক্তিগত রুটিন নিয়েও মুখ খুলেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, দিনে মাত্র ৩ ঘণ্টা করে ঘুমোন। তবে চমকপ্রদভাবে বিছানায় যাওয়ার মাত্র ৮ সেকেন্ডের মধ্যে ঘুম এসে যায় তাঁর। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ, "প্রতি মুহূর্তে বাঁচুন। এই মুহূর্তে আমি আপনাদের সঙ্গে আছি, এর বাইরে আর কিছু ভাবছি না। এটাই সাফল্যের সবচেয়ে বড় মন্ত্র। আমি এই মুহূর্তে বাঁচায় ভরসা রাখি।"
বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করার সময় জেট ল্যাগ কীভাবে সামলান? প্রধানমন্ত্রী মোদি মজার উত্তর দিয়েছেন সাংসদদের সেই প্রশ্নের। মোদি বলেছেন, "আমি যখন যে দেশে যাই, বিমানে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে সেই দেশের সময় অনুযায়ী আমার ঘড়িতে সময় সেট করে নিই। তাহলেই আর কোনও সমস্যা হয় না।" সূত্রের খবর, সাংসদদের প্রধানমন্ত্রী পরামর্শ দিয়েছেন, যত বেশি সম্ভব সংসদে হাজিরা দিতে। সম্ভব হলে সংসদে ১০০ শতাংশ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে।