Chandigarh

চণ্ডীগড় নিয়ে বড় পদক্ষেপ করবে কেন্দ্র! ‘পাঞ্জাবের রাজধানী ছিনতাইয়ের চেষ্টা’, সরব আপ-কংগ্রেস

পাঞ্জাব ও হরিয়ানার যুগ্ম রাজধানী চণ্ডীগড়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: নভেম্বর ২৩, ২০২৫, ১৬:৫৮

options
link
চণ্ডীগড় নিয়ে বড় পদক্ষেপ করবে কেন্দ্র! ‘পাঞ্জাবের রাজধানী ছিনতাইয়ের চেষ্টা’, সরব আপ-কংগ্রেস

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সংসদে শুরু হতে চলেছে শীতকালীন অধিবেশন। আর এবারের অধিবেশনে মোদি সরকার চণ্ডীগড়ে বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের জন্য পদক্ষেপ করতে চলেছে। পেশ করতে চলেছে ভারতীয় সংবিধানের ১৩১তম সংশোধনী বিল। ইতিমধ্যেই আম আদমি পার্টি, কংগ্রেস ও অকালি দল এই পদক্ষেপের নিন্দা করেছে। তাদের দাবি, এটা পাঞ্জাব বিরোধী পদক্ষেপ।

Advertisement

কেন বিতর্ক? আসলে এই বিলের উদ্দেশ্য চণ্ডীগড়কে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৪০-এর অন্তর্ভুক্ত করা। ফলে দাদরা ও নগর হাভেলি, লাক্ষাদ্বীপ, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, দমন ও দিউ এবং পুদুচেরির মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সমতুল প্রশাসন কার্যকর হবে চণ্ডীগড়ে। ফলে রাষ্ট্রপতি চণ্ডীগড়ের জন্য নিয়মকানুন তৈরির ক্ষমতা পাবেন। বর্তমানে রাজ্যপালই চণ্ডীগড়ের শাসক। উল্লেখ্য, পাঞ্জাব ও হরিয়ানার যুগ্ম রাজধানী চণ্ডীগড়।

Advertisement

কী আছে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৪০-এ? এই অনুচ্ছেদে বলা আছে রাষ্ট্রপতিশান্তি, অগ্রগতি এবং সুশাসনের জন্য বিধিমালা তৈরি করতে পারবেন (ক) আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, (খ) লাক্ষাদ্বীপ, (গ) দাদরা ও নগর হাভেলি, (ঘ) দমন ও দিউ এবং (ঙ) পুদুচেরির কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের জন্য। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে চণ্ডীগড়ও। ১৯৬৬ সালের ১ নভেম্বর জন্ম হয়েছিল হরিয়ানা রাজ্যের। পাঞ্জাবের হিন্দিভাষী-বহুল পূর্বাঞ্চল নিয়ে গঠিত হয় সেটি। অন্যদিকে পাঞ্জাব থেকে যায় পশ্চিমাঞ্চলের পাঞ্জাবিদের নিয়ে। চণ্ডীগড় যেন দুই রাজ্যেরই প্রশাসনিক কেন্দ্র তথা রাজধানী হিসেবে থাকতে পারে, সেদিকে তাকিয়েই একে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই মুহূর্তে পাঞ্জাবের রাজ্যপালই চণ্ডীগড়ের প্রশাসক। পাঞ্জাবের রাজনীতিবিদরা বহুদিন ধরেই দাবি করে আসছেন চণ্ডীগড়কে পাঞ্জাবের অন্তর্ভুক্ত করা হোক। হরিয়ানাকে দেওয়া হোক আলাদা রাজধানী। এই অবস্থায় এবার কেন্দ্রের পদক্ষেপের কথা জানতে পেরে তাই ক্ষুব্ধ রাজনৈতিক মহল।

Advertisement

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী ভগবত মান এই বিষয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ”চণ্ডীগড় তৈরির জন্য আমাদের গ্রামগুলি ধ্বংস করা হয়েছিল। এর উপর কেবল পাঞ্জাবেরই অধিকার রয়েছে। আমরা হাল ছাড়ব না এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করব।”

অন্যদিকে আপ সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলছেন, ”ইতিহাস সাক্ষী, পাঞ্জাবিরা কখনও স্বৈরশাসনের কাছে মাথা নত করেনি। এবারও তা করবে না। চণ্ডীগড় পাঞ্জাবের ছিল, আছে এবং থাকবে। পাঞ্জাব সর্বদা দেশের নিরাপত্তা, শস্য এবং জলের জন্য আত্মত্যাগ করেছে। অথচ তাকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।” এদিকে পাঞ্জাবের কংগ্রেস সভাপতি অমরিন্দর সিং রাজাও প্রতিবাদে মুখর হয়েছেন। তাঁর কথায়, ”চণ্ডীগড় পাঞ্জাবের। এটি ছিনিয়ে নেওয়ার যে কোনও প্রচেষ্টার গুরুতর পরিণতি হবে।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.