Rahul Gandhi

সংগঠনে দম নেই! শরিকের শর্ত মেনেই জোটের সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের

দক্ষিণের ওই রাজ্যে দল পুরোপুরি ডিএমকে নির্ভর। নিজেদের সংগঠনে জোর নেই। ফলে অতিরিক্ত দর কষাকষির জায়গায় কংগ্রেস নেই।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ১৪:১১

options
link
সংগঠনে দম নেই! শরিকের শর্ত মেনেই জোটের সিদ্ধান্ত কংগ্রেসের
মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধী। ফাইল ছবি।

নিজেদের সংগঠনে জোর নেই। ভোটব্যাঙ্কও বিরাট শক্তিশালী নয়। ফলে একপ্রকার বাধ্য হয়ে ডিএমকের দেওয়া শর্তেই তামিলনাড়ুতে জোটে রাজি হয়ে গেল কংগ্রেস। তবে ‘বোনাস’ হিসাবে একটি রাজ্যসভার আসন ও বিধানসভায় গোটা তিনেক অতিরিক্ত আসন লড়াই করার সুযোগ পেতে পারে হাত শিবির।

Advertisement

এতদিন দেশের অন্য প্রান্তে ইন্ডিয়া জোটে ছোটখাট বিবাদ-অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হলেও তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস-ডিএমকে জোট গত কয়েক বছর মসৃণভাবেই এগিয়েছে। মাঝখানে কিছু কংগ্রেস নেতার আলটপকা মন্তব্যে সেই মসৃণতা ধাক্কা খেয়েছিল। কিন্তু ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস হাইকম্যান্ড স্পষ্ট করে দিল, কোনও জোটবদল নয়। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস লড়বে ডিএমকের সঙ্গী হিসাবেই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

বেশ কিছুদিন ধরেই ডিএমকেতে ক্ষোভ জমছিল রাজ্যের কংগ্রেস নেতাদের মধ্যে। ক্ষোভের মূল কারণ, অসম্মান। তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস এবং ডিএমকের জোট যতই মসৃণ হোক, রাজ্য রাজনীতিতে কংগ্রেসকে সেভাবে গুরুত্ব দেয় না ডিএমকে। লোকসভায় ৩৯ আসনের মধ্যে কংগ্রেসের জন্য ৯ আসন ছাড়া হলেও বিধানসভায় সে তুলনায় অনেক কম আসন ছাড়া হয়। এমনকী, সে রাজ্যে ডিএমকে কংগ্রেস জোট ক্ষমতায় থাকলেও সরকারে কংগ্রেসের কোনও অংশিদারিত্ব নেই। স্থানীয় পুরসভা, বিভিন্ন উন্নয়ন বোর্ডেও কংগ্রেস নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এমন বিবিধ অভিযোগ তুলে ডিএমকের সঙ্গ ছাড়ার বার্তা দিচ্ছিলেন অনেক নেতা। দলের অন্দরে কেউ কেউ স্বাবলম্বী হয়ে একলা চলার পক্ষে ছিলেন। কেউ আবার অভিনেতা বিজয়ের নতুন দল টিভিকে’র সঙ্গে হাত মেলানোর পক্ষে ছিলেন। সদ্যই তামিলনাড়ুতে নতুন রাজনৈতিক দল তৈরি করেছেন সুপারস্টার বিজয়। শুরুতে বেশ সাড়াও ফেলেছেন। ঘোষণা করেছেন, শরিকদের সঙ্গে ক্ষমতা ভাগ করে নিতে কোনও আপত্তি নেই তাঁর। তিনি আবার ঘোষণা করেছেন, কংগ্রেস টিভিকের স্বাভাবিক মিত্র হতে পারে।

Advertisement

এই পরিস্থিতিতে রাহুল গান্ধী খোদ ডিএমকের শীর্ষ নেত্রী কানিমোঝির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে কর্মীদের দাবিদাওয়ার কথা ডিএমকে নেত্রীর সামনে তুলেও ধরেন। কিন্তু ডিএমকে কোনওভাবেই ক্ষমতায় কংগ্রেসকে অংশীদার করার প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এমনকী কংগ্রেস যে পরিমাণ আসনে লড়তে চাইছিল তাতেও রাজি হয়নি। তামিলনাড়ু বিধানসভা মোট আসন ২৩৪।  এর মধ্যে ২০২১ সালে তামিলনাড়ুতে কংগ্রেস মাত্র ২৫ আসন লড়ে ১৮টিতে জেতে। এবার হাত শিবির অন্তত ৪২ আসনে লড়তে চায়। সেই সঙ্গে শরিক ডিএমকের কাছে একটি রাজ্যসভার আসনও দাবি রয়েছে তাঁদের। সবচেয়ে বড় দাবি ছিল ক্ষমতায় অংশীদার হওয়া। এই তিন নম্বর দাবিটি পুরো খারিজ করেছেন কানিমোঝি। সাফ জানিয়েছেন, ক্ষমতায় এলেও এক দলেরই সরকার হবে। কংগ্রেস ১৭টি অতিরিক্ত আসন দাবি করেছিল, সেখানে মাত্র গোটা তিনেক ছাড়তে রাজি হয়েছেন কানিমোঝি। সেটা টেনেটুনে পাঁচ হতে পারে। একমাত্র রাজ্যসভার আসনটি তারা ছাড়তে রাজি। সব মিলিয়ে কংগ্রেসের মূল দাবিগুলিই খারিজ করেছে ডিএমকে। তাও জোটে রাজি হয়ে গেলেন রাহুল (Rahul Gandhi)। কারণ, দক্ষিণের ওই রাজ্যে দল পুরোপুরি ডিএমকে নির্ভর। নিজেদের সংগঠনে জোর নেই। ফলে অতিরিক্ত দর কষাকষির জায়গায় কংগ্রেস নেই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.