Ram Setu

রামসেতু ‘জাতীয় হেরিটেজ’ মর্যাদা পায়নি, আরটিআই আবেদনে সাফ জানাল এএসআই

ভারতের রামেশ্বরম আর শ্রীলঙ্কার মান্নার দ্বীপের মাঝখানে ৪৮ কিমি দীর্ঘ চুনাপাথরের এই অগভীর চর পক প্রণালী থেকে মান্নার উপসাগরকে পৃথক করেছে। এই প্রবাল খাড়ি সম্পর্কে অনেকের বিশ্বাস, রামায়ণের রামের বানর সেনারা রাবণের লঙ্কায় পৌঁছতে এটি নির্মাণ করেছিল। নিজস্ব উদ্যোগে রামসেতুকে জাতীয় সৌধের মর্যাদা দিতে সময় বেঁধে দেওয়ার আবেদন করেছিলেন সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। এ নিয়ে কেন্দ্রকে গত বছর ২৯ আগস্ট নোটিসও দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: মার্চ ২৪, ২০২৬, ১৬:১৫

options
link
রামসেতু ‘জাতীয় হেরিটেজ’ মর্যাদা পায়নি, আরটিআই আবেদনে সাফ জানাল এএসআই
রাম সেতু। ছবি: সংগৃহীত।

হেরিটেজ’ বা ‘ঐতিহ্য’। বিজেপি তাদের রাজনৈতিক ইস্তাহারে রামসেতুকে এমনই তকমা দেয়। কিন্তু কোনও সরকারি নথিপত্রে রামায়ণের প্রসঙ্গ জড়িত এই সেতু (Ram Setu) এমন মর্যাদা পায়নি। আর্কিওলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই)-র আওতায় রামসেতু সংরক্ষিত নয়, এমনকী তাকে এমন স্বীকৃতি প্রদানের ভাবনাচিন্তাও নেই বলে তথ্য জানার অধিকার আইনে (আরটিআই) পেশ করা আবেদনে জবাব এসেছে।

Advertisement

ভারতের রামেশ্বরম আর শ্রীলঙ্কার মান্নার দ্বীপের মাঝখানে ৪৮ কিমি দীর্ঘ চুনাপাথরের এই অগভীর চর পক প্রণালী থেকে মান্নার উপসাগরকে পৃথক করেছে। এই প্রবাল খাড়ি সম্পর্কে অনেকের বিশ্বাস, রামায়ণের রামের বানর সেনারা রাবণের লঙ্কায় পৌঁছতে এটি নির্মাণ করেছিল। নিজস্ব উদ্যোগে রামসেতুকে জাতীয় সৌধের মর্যাদা দিতে সময় বেঁধে দেওয়ার আবেদন করেছিলেন সুব্রহ্মণ্যম স্বামী। এ নিয়ে কেন্দ্রকে গত বছর ২৯ আগস্ট নোটিসও দেয় সুপ্রিম কোর্ট। যদিও আরটিআইয়ের আবেদনের জবাবে জাতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের মনুমেন্ট বিভাগ বলেছে, রামসেতুর জাতীয় গুরুত্ববাহী সৌধ বা মিনারের স্বীকৃতি নেই এবং এএসআইয়ের নয়াদিল্লির সদর দপ্তরের কাছে এমন কোনও প্রস্তাবও বিবেচনাধীন নেই।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

আরটিআই আবেদনে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হয়েছিল, রামসেতুকে প্রাচীন সৌধ ও পুরাতাত্ত্বিক স্থান ও ধ্বংসাবশেষ আইনে কেন্দ্রীয় ভাবে সুরক্ষিত সৌধের স্বীকৃতি দিয়ে বিজ্ঞপ্তি, কোনও গেজেট বেরিয়েছে কি না, কোনও সমীক্ষা, বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ বা ওই কাঠামোর ওপর কোনও বৈজ্ঞানিক স্টাডি হয়েছে কি না। যাবতীয় প্রশ্নের উত্তরে এএসআই স্পষ্ট বলেছে, রামসেতু সুরক্ষিত সৌধ হিসাবে তাদের আওতায় পড়ে না। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সৌধ বলে ঘোষণার ব্যাপারে অভ্যন্তরীণ রিভিউ, পরীক্ষা কিছুই হয়নি। কোনও কমিটি বা তার রিপোর্টও নেই।

Advertisement

২০০৯-এর ইস্তাহারে বিজেপি বলেছিল, রামসেতু আমাদের জাতীয় হেরিটেজ। এর ধর্মীয় গুরুত্ব অসীম। থোরিয়ামের মজুত ভাণ্ডার বলে জ্বালানি সংক্রান্ত সুরক্ষার কথা ভেবে এর সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। রামসেতু রক্ষায় ইউপিএ জমানার সেতুসমুদ্রম শিপ চ্যানেল প্রোজেক্টের জন্য বিকল্প রুট খুঁজে বের করার প্রস্তাবও দেয় বিজেপি। ২০০৭-এ শীর্ষ আদালত রামসেতু এলাকায় কাজ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। বিষয়টি আজও ঝুলে আছে। ২০১৪-র নির্বাচনী ইস্তাহারেও রামসেতুকে ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়। কিন্তু আরটিআইয়ের অধীনে এএসআইয়েরর জবাবে পরিষ্কার, চলতি আইনে এমন অবস্থানের কোনও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিই নেই।

কয়েক বছর আগে নির্দল রাজ্যসভা সাংসদ কার্তিকেয় শর্মা রামসেতু সংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য ও তাকে দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্যের অঙ্গ বলে সমীক্ষার কোনও উদ্যোগ আছে কি না। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং জবাবে বলেন, “ওই কাঠামোর প্রকৃত চরিত্র ও উৎস স্পষ্ট নির্ধারণে সীমাবদ্ধতা আছে। ওটাই আসল রামসেতু, জোর দিয়ে বলা কঠিন। যদিও এমনটা হওয়ার কিছু লক্ষণ রয়েছে।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন