সমকামী যৌনতা অপরাধ? খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ

মৌলিক অধিকার কী করে ক্ষুণ্ণ হতে পারে, প্রশ্ন আদালতের।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ৮, ২০১৮, ১৩:৪২

options
link
সমকামী যৌনতা অপরাধ? খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: সমকামী যৌনতা কি অপরাধ? ভারতীয় দণ্ডবিধির কুখ্যাত ‘সেকসন ৩৭৭’ মোতাবেক তাই-ই। এবার তা পালটানোর পক্ষে এক কদম এগোল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। সোমবার এক ল্যান্ডমার্ক রায়ে আদালত জানাল, পুরনো রায় খতিয়ে দেখবে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ। এলজিবিটি কমিউনিটির সদস্যরা সে রায়কে ইতিমধ্যেই নৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন।

Advertisement

[ শহরে মিছিলে শামিল রূপান্তরকামী-সমকামীরা ]

Advertisement

সমকামী যৌনতা অপরাধ? ‘সেকসন ৩৭৭’ মোতাবেক ফিকে হয়ে যায় রামধনুর রং। তবু চলে আন্দোলন। ২০১৩ সালের রায়ের পরও চলেছে আন্দোলন। সর্বোচ্চ আদালতের কাছে জমা পড়েছে একাধিক আবেদন। এবার সে রায়ের সাংবিধানিক বৈধতা খতিয়ে দেখতে আগ্রহী হল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রর নেতৃত্বাধীন তিন বিচারপতির এক বেঞ্চ সোমবার এ কথাই জানাল। বিচারপতিদের পর্যবেক্ষণ, যৌনতা নিয়ে কারও পছন্দ আলাদা হতে পারে। কিন্তু সে কারণে তাঁকে একটা ভয়ের পরিবেশে থাকতে হবে, তা কাম্য নয়। সংবিধান প্রত্যেক ব্যক্তির মৌলিক অধিকারকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আর্টিকেল ২১ মোতাবেক ব্যক্তিস্বাতন্ত্র স্বীকৃতি পেতে বাধ্য। সুতরাং সেখানে হস্তক্ষেপ করা যায় না। কিন্তু তা যে আইনের চৌহদ্দি ছাপিয়ে যাবে তা নয়। কিন্তু আইনের চাপে কারও ব্যক্তি স্বাধীনতা বা সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ হবে, তাও হয় না। এই পর্যবেক্ষণের মুখে দাঁড়িয়ে পুরনো রায় কতটা সাংবিধানিক, তা পুনরায় খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হল।

Advertisement

ভারতকে দেশীয় অস্ত্রে লড়তে হবে, ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র সওয়াল সেনাপ্রধানের ]

২০০৯ সালে দিল্লি হাই কোর্ট সমকামিতাকে স্বীকৃতিই দিয়েছিল। যদিও সুপ্রিম কোর্ট হাই কোর্টের সে রায়কে বৈধতা দেয়নি। এদিকে গতবছরই এক রায়ে যৌনতার ক্ষেত্রে ব্যক্তির পছন্দকেও গোপনীয়তার অন্যতম উপকরণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তাই যদি হয়ে থাকে, তাহলে সমকামী যৌনতাকে কোনওভাবেই অবৈধ হিসেবে গণ্য করা যায় না। এই স্ববিরোধিতাতে পৌঁছেই সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য, সামাজিক নৈতিকতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায়। আইনকেও জীবনের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে চলতে হয়। সুতরাং আইনের কারণে একটা শ্রেণির মানুষ ভয়ার্ত হয়ে থাকবেন, তা কখনওই মেনে নেওয়া যায় না।

২৬ জানুয়ারি অক্ষরধাম মন্দিরে হামলার ছক ফাঁস, চূড়ান্ত সতর্কতা ]

এলজিবিটি কমিউনিটির পাঁচ সদস্য এর রিট পিটিশনে জানিয়েছিলেন, তাঁদের স্বাভাবিক যৌনতা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে পুলিশের ভয়ে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রের জবাব জানতে চেয়ে একটি নোটিসও দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.