Sikkim

কথায় কথায় বন্ধ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক! কেন্দ্রীয় নির্মাণ সংস্থাকে কড়া চিঠি ক্ষুব্ধ সিকিমের

সড়ক যোগাযোগের 'লাইফ লাইন' এই ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ২১, ২০২৫, ২২:১৬

options
link
কথায় কথায় বন্ধ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক! কেন্দ্রীয় নির্মাণ সংস্থাকে কড়া চিঠি ক্ষুব্ধ সিকিমের

বিশ্বজ্যোতি ভট্টাচার্য, শিলিগুড়ি: সড়ক যোগাযোগের ‘লাইফ লাইন’ ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক ঘনঘন বন্ধ থাকায় ক্ষুব্ধ সিকিমের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন দপ্তর। শুক্রবার জাতীয় মহাসড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশনকে (এনএইচআইডিসিএল) কড়া ভাষায় চিঠি লিখে ক্ষোভের কথা জানান সিকিমের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব সিএস রাও। তিনি খোলাখুলি অভিযোগ করেন, ছোটখাটো কাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সড়ক বন্ধ রাখা হচ্ছে। একবার নয়, বারবার। এর ফলে সিকিমের পর্যটন ভিত্তিক অর্থনীতিতে খারাপ প্রভাব পড়ছে। তিনি জাতীয় মহাসড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশনকে ট্র্যাফিক আপডেট, ডাইভারশন এবং সড়ক বন্ধ হয়ে গেলে মেরামতের আনুমানিক সময়সীমা সম্পর্কে জানাতে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা মোবাইল অ্যাপ তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন।

Advertisement

সিকিম রাজ্য সরকারের এমন কঠোর মনোভাবে খুশি ট্যুর অপারেটর এবং পর্যটক মহল। তাদের কথায়, ছোটখাটো মেরামতের জন্যও জাতীয় সড়ক পুরোপুরি বন্ধ রাখা হচ্ছে। এর ফলে ঘুরপথে যাতায়াত করতে গিয়ে পর্যটকদের যেমন বেশি খরচ হচ্ছে। তেমন শিলিগুড়ি থেকে গ্যাংটকে পৌঁছাতে বেশি সময় লাগছে। তাদের কথায়, সিকিম রাজ্য সরকার নড়েচড়ে বসায় এখন দেখার পরিস্থিতি পালটায় কিনা।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

Advertisement

 

সিকিমের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব চিঠিতে স্পষ্ট জানান, ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক বন্ধের সংখ্যা এবং সময়কাল বেড়েছে। ছোট কাজের জন্যও আগাম কিছু না জানিয়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ করা হচ্ছে। এর ফলে পর্যটক ও সিকিমের বাসিন্দাদের চলাচল করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। গত কয়েক মাসে জাতীয় মহাসড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশন বারবার ভূমিধস এবং মেরামতের জন্য জাতীয় সড়কের কিছু অংশ বন্ধ করেছে। সিকিম থেকে কালিম্পং এবং বিপরীতে যাওয়ার জন্য যানবাহনগুলিকে বিকল্প রুট নিতে হয়েছে। ফলে শিলিগুড়ি থেকে প্রায় দ্বিগুণ দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়েছে। যানবাহনগুলি অতিরিক্ত দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য পর্যটক এবং সাধারণ যাত্রীদের অতিরিক্ত অর্থ খরচ হচ্ছে। ভরা মরশুমে এই ধরনের ঘটনা পর্যটন শিল্পকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

সিকিমের পর্যটন ও বেসামরিক বিমান পরিবহন দপ্তরের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব জানান, জাতীয় মহাসড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশনের উচিত পর্যটন মরশুমে জাতীয় সড়ক বন্ধ করা এড়িয়ে চলা। যদি বন্ধ অনিবার্য হয় তবে পুরো দিনের জন্য নয়। কিছু সময়ের জন্য করা উচিত। এছাড়াও ট্যুর অপারেটর সংস্থাগুলোকে আগে থেকে অবহিত করা উচিত যেন তারা পর্যটকদের যাতায়াতের রুট ঠিক করে দিতে পারে। সড়ক বন্ধের ক্ষেত্রে ডাইভারশনগুলিতে যথাযথ চিহ্ন এবং সাইনবোর্ড দেওয়া, ট্রাফিক কর্মী মোতায়েন এবং জনসাধারণের জন্য ঘোষণা রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্য সচিব চিঠিতে আরও উল্লেখ করেছেন জাতীয় মহাসড়ক ও পরিকাঠামো উন্নয়ন কর্পোরেশনের উচিত রাস্তার অবস্থা, ট্র্যাফিক আপডেট, ডাইভারশন এবং বন্ধ হয়ে গেলে রুটটি পুনরুদ্ধারের জন্য আনুমানিক সময়সীমা সম্পর্কে একটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম অথবা মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা। এটি স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক এবং ট্যুর অপারেটরদের তথ্য জানতে সাহায্য করবে।

 

পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, “বরাবর আমরা যে কথাগুলো বলে এসেছি সেটাই অতিরিক্ত মুখ্যসচিব চিঠি দিয়ে জানিয়েছেন। দেখা যাক কি দাঁড়ায়।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন