সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নৃশংস। মর্মান্তিক। ভয়াবহ। মাত্র দুই ঘণ্টায় পরপর ছ’টা খুন। মঙ্গলবার ভোররাতে একের পর এক ছয়জনকে খুন করলো নরেশ নামে এক প্রাক্তন সেনা অফিসার। হরিয়ানার পালওয়ালে ঘটনাটি ঘটেছে। স্টোনম্যানের কায়দায় মৃতদের মাথা খুন করে থেঁতলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পালওয়ালের সাইকো কিলারের হাতে খুনের এই ঘটনার পরই আতঙ্ক ছড়িয়েছে। হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের তরফে।
[সেনার চাকরি করলে মরতেই হবে, জওয়ানদের ‘অপমান’ বিজেপি সাংসদের]
মঙ্গলবার ভোররাতে মৃতদেহগুলি পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান, লোহার রড দিয়ে থেঁতলে খুন করা হয়েছে ছয় ব্যক্তিকে। পুলিশের দাবি, রাত্রি ২টো থেকে মঙ্গলবার ভোর ৪টের মধ্যে অর্থাৎ দুই ঘণ্টাতেই পালওয়ালের বিভিন্ন এলাকায় এই খুনগুলি করা হয়েছে। পু্লিশ জানিয়েছে, প্রাক্তন সেনা অফিসার নরেশ মানসিক ভারসাম্যহীন। তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনকী গ্রেপ্তারির সময়ও তিনি এক পুলিশ অফিসারকে আক্রমণ করেছিল। নরেশকে প্রথমে পালওয়ালের সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও পরে তাঁকে ফরিদাবাদের একটি হাসপাতালে পাঠানো হয়। পুলিশের বক্তব্য, এই খুনগুলি ‘র্যানডম’। সিসিটিভি ফুটেজে নরেশের হাতে একটি লোহার রড দেখতে পাওয়া গিয়েছে। অনুমান, ওই লোহার রডটি দিয়েই পরপর যাঁদের সামনে পেয়েছে, তাঁদের খুন করেছে নরেশ।
[‘হিন্দুস্তান শুধুমাত্র হিন্দুদের’, বিতর্কিত মন্তব্য বিজেপি বিধায়কের]
প্রথমে পালওয়ালের একটি হাসপাতালে ঢোকে নরেশ। সিসিটিভিতে দেখা যায়, হেলতে দুলতে রাত ২.৩০ মিনিট নাগাদ হাতে একটি লোহার রড নিয়ে হাসপাতালের বারান্দা দিয়ে হেঁটে চলেছে সে। হাসপাতালেই আঞ্জুম নামের এক মহিলাকে খুন করে সে। বারান্দার পাশেই একটি শৌচালয়ে আঞ্জুমের মৃতদেহ লুকিয়ে রেখে দেয় নরেশ। হাসপাতাল থেকে এরপর পালিয়ে যায়। এরপর পালওয়ালের আগ্রা রোড থেকে মিনার গেটে পৌঁছনোর রাস্তায় আরও পাঁচ জনকে খুন করে সে। নরেশ শেষ খুনটি করে মিনার গেটে একটি স্থানীয় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের যন্ত্রপাতির কারখানার পাশে। পালওয়ালেরই রসুলপুর রোডে একটি বাজারের পাশে এক প্রহরীকে খুন করে নরেশ।
[হোটেল কর্মীদের মারধর-ভাঙচুর, তারাপীঠে বিতর্কে বিহারের মন্ত্রী]
নরেশকে গুরুতর জখম অবস্থায় পালওয়ালের আদর্শ কলোনির সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। নরেশের গায়েও আঘাচের চিহ্ন নিয়ে ধাঁধায় পুলিশ। খুনগুলি করে সে কি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিল? উঠে আসছে এই প্রশ্নগুলিও। পালওয়ালের এসপি সুলোচনা গজরাজ বলেন, নরেশের বয়স ৪০-৪৫-এর মধ্যে। নরেশ মানসিক অবসাদে ভুগছে বলেও জানান সুলোচনা। চোখের সামনে পরপর যাঁদের দেখেছেন, নরেশ তাঁদেরই খুন করেছে। রাস্তা দিয়ে হাঁটার সময় পরপর এই ঘটনাটি ঘটায় নরেশ। এর পিছনে আলাদা কোনও মোটিভ খুঁজে পায়নি পুলিশ। তার পরিবারে কোনওরকম অশান্তি ছিল কি না, অতীতে নরেশের কোনও ‘ক্রিমিনাল রেকর্ড’ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নরেশের কাছে একটি পরিচয়পত্র উদ্ধার করেছে পু্লিশ। তা থেকেই জানা যায়, সে একজন প্রাক্তন সেনা অফিসার। কিন্তু তদন্তের স্বার্থে বাকি কোনও তথ্য এখনও পর্যন্ত জানায়নি তারা।
সর্বশেষ খবর
-
জিমন্যাস্টিক্সে ফাইনালে প্রণতি নায়েক, অব্যবস্থার শিকার, একার লড়াইয়েও চমক বঙ্গকন্যার
-
সাংসদ যেন কৃষক! নিজের বাড়িতে করম পুজোয় মাতলেন জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো
-
‘বন্ধুত্বে’র প্রতিদান! মুকুন্দপুরে মমতাপন্থীদের ‘আক্রান্ত’ হওয়ার প্রতিবাদ কংগ্রেসের, সুগম জোটের পথ?
-
চৈতন্য ও সুলক্ষণা, ২ হস্তিশাবকের নামকরণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী, কেন এই নাম? জানালেন নিজেই
-
এবিভিপি-টিএমসিপি সংঘর্ষের জের! ১ মাস বন্ধ বারাসত বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল! বেরিয়ে গেলেন ছাত্ররা