Supreme Court

‘স্পর্শকাতর’ ভোজশালায় নমাজে না, মুসলিম পক্ষের আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, যেহেতু বিষয়টি বিতর্কিত ফলে এখনই এখানে নমাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ১৪, ২০২৬, ১৬:৫২

options
link
‘স্পর্শকাতর’ ভোজশালায় নমাজে না, মুসলিম পক্ষের আর্জি খারিজ সুপ্রিম কোর্টে
'স্পর্শকাতর' ভোজশালায় নমাজ পড়ার অনুমতি দিল না সুপ্রিম কোর্ট।

‘স্পর্শকাতর’ ভোজশালায় মুসলিমদের নমাজ পড়ার অনুমতি দিল না সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, যেহেতু বিষয়টি বিতর্কিত ফলে এখনই এখানে নমাজ পড়ার অনুমতি দেওয়া হবে না। তবে মুসলিম পক্ষকে কিছুটা স্বস্তি দিয়ে আদালতের তরফে জানানো হয়েছে, মন্দির সংলগ্ন খোলা জায়গায় শুক্রবার দুপুর ১টা থেকে ৩টে পর্যন্ত নমাজ পড়া যাবে। একইসঙ্গে মধ্যপ্রদেশ সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নমাজ পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার। 

Advertisement

ভোজশালাকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করেছিল মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট। সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মুসলিম পক্ষ। মঙ্গলবার আদালত মুসলিম পক্ষের সেই আপিল শুনতে রাজি হয়েছে। আদালত জানিয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। ফলে সব পক্ষকেই এই বিষয়ে শব্দচয়নে সতর্ক থাকতে হবে। মুসলিম পক্ষের আর্জি ছিল, ভোজশালা আসলে মসজিদ সেখানে তাদের নমাজ পড়তে দেওয়া হোক। তবে আদালত জানিয়েছে, এখনই নমাজ পড়ার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়া যাবে না। তবে ভোজশালা সংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার একটি নির্দিষ্ট সময়ে নমাজ পড়া যাবে। আদালত জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত যাই হোক তা আলোচনার মাধ্যমে নিতে হবে। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তির চেষ্টা করবে আদালত।

Advertisement

আদালত জানিয়েছে, এখনই নমাজ পড়ার অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেওয়া যাবে না। তবে ভোজশালা সংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার একটি নির্দিষ্ট সময়ে নমাজ পড়া যাবে।

উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশের ধার শহরের ভোজশালায় রয়েছে হাজার বছরের পুরানো একটি বিতর্কিত সৌধ। মুসলিমদের দাবি ওটি আসলে মসজিদ। অন্যদিকে হিন্দুদের দাবি ওই সৌধ রাজা ভোজের তৈরি সরস্বতী মন্দির। সরকারি নিয়ম মেনে সপ্তাহে দু’দিন দুই ধর্মের মানুষই এখানে পালন করে ধর্মীয় আচার। বাকি দিনগুলোতে এখানে প্রবেশের অনুমতি থাকলেও পুজো বা নমাজ নিষিদ্ধ। এই নিয়মে বদল চেয়ে ২০২২ সালে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় হিন্দুত্ববাদী সংগঠন। হিন্দু পক্ষের আইনজীবী হরিশংকর জৈন মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টকে জানান, ২০০৩ সালের একটি নোটিসের জেরে মুসলিমদের ভোজশালায় নমাজের অধিকার দেওয়া হয়েছিল ঠিকই কিন্তু এটি আসলে হিন্দু মন্দির। তাই এখানে শুধুমাত্র হিন্দুদের উপাসনার অনুমতি দেওয়া হোক।

Advertisement

এরপর ওই স্থানে ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ (আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া বা এএসআই)-কে বৈজ্ঞানিক সমীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। সমীক্ষায় সেখানে একাধিক ঐতিহাসিক নমুনার পাশাপাশি পাওয়া যায় ৯৪ টি মূর্তি। এরপর ভোজশালাকে মন্দির হিসেবে ঘোষণা করে রায় দেয় উচ্চ আদালত।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.