গুজবের পরিণতি, সিরিয়ার শিশুমৃত্যুর ভিডিওই ৫ জনের প্রাণ কেড়েছে মহারাষ্ট্রে

ক্রমশ প্রাণঘাতী হচ্ছে ফেক নিউজ ও ভিডিও, সতর্ক থাকুন।  

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুলাই ৬, ২০১৮, ১৩:৩৬

options
link
গুজবের পরিণতি, সিরিয়ার শিশুমৃত্যুর ভিডিওই ৫ জনের প্রাণ কেড়েছে মহারাষ্ট্রে
প্রতীকী ছবি।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাঘে ছুঁলে আঠেরো। পুলিশে ছুঁলে ছত্রিশ। আর গুজব ছুঁলে একেবারে প্রাণহানি। সাম্প্রতিক অতীতে দেশের দিকে তাকালে এই সত্যিই উঠে আসছে। ফেক নিউজ আর গুজবের জেরে একের পর এক প্রাণ যাচ্ছে। সম্প্রতি জানা গেল, যে ভিডিওর জেরে মহারাষ্ট্রের ধুলে জেলায় পাঁচ ব্যক্তির প্রাণ গিয়েছে, তা আসলে সিরিয়ার এক শিশুমৃত্যুর ভিডিও।

Advertisement

[  ফের শিরোনামে উন্নাও, জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে তরুণীকে যৌন হেনস্তা ৩ যুবকের   ]

Advertisement

ধুলে, নাসিকের মতো প্রত্যন্ত এলাকায় ছড়াচ্ছে এই ফেক ভিডিও। যেখানে প্রায় মোবাইল নেটওয়ার্কই থাকে না সেখানেও মোবাইলে পৌঁছে গিয়েছে শিশুমৃত্যুর ভিডিও। তার জেরেই ক্ষিপ্ত ছিল জনতা।  কিন্তু কেউই পরখ করে দেখেননি যে এ ভিডিও কোথাকার। ফেক নিউজের যা ধর্ম হয়, এক্ষেত্রেও তাই ঘটেছে। সত্যাসত্য বিচার ছাড়াই তাতিয়ে দিয়েছিল জনতাকে। এরপর পাঁচজন ‘বহিরাগত’ ধুলেয় এলে তাদেরই অবধারিতভাবে ছেলেধরা হিসেবে ধরে নেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের মধ্যে একজন আবার এক শিশুর সঙ্গে কথা বলছিলেন। কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা যায় তাঁকে। এরপর আর দেরি করেনি জনতা। শুরু হয় গণপ্রহার। ঘরের দরজা বন্ধ করে পিটিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয় পাঁচজনকে। কিন্তু এর নেপথ্যে থেকে গেল একটি সিরিয়ার ভিডিও। সম্প্রতি একটি বিশিষ্ট ওয়েবসাইটের পক্ষ থেকে ভিডিওটির সত্যাসত্য যাচাই করে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, অন্য একটি ভিডিও সম্পর্কেও। পাকিস্তানের ছেলেধরার ভিডিওটিও ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অঞ্চলে। তার জেরেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Advertisement

[  সকল ধর্মাবলম্বীর জন্য খুলতে হবে পুরীর মন্দির, রথযাত্রার আগে রায় শীর্ষ আদালতের ]

তথ্য বলছে, গত চার মাসে প্রায় ২৯ জনের প্রাণ গিয়েছে এই গুজবের জেরে। অসম থেকে মহারাষ্ট্র ক্রমাগত একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি চলছে। উদ্বিগ্ন কেন্দ্র রাজ্যগুলির ডিজিপি-কে সতর্ক করেছিল। জানানো হয়েছিল হোয়্যাটসঅ্যাপকেও। ভয়াবহ এই পরিণতি জানতে পেরে সতর্ক হয়েছে এই মেসেজিং প্ল্যাটফর্মেও। এই ধরনের ফেক নিউজ বা ভিডিওয় নজর রাখা হবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে সাধারণ মানুষ যেভাবে গুজবে প্রভাবিত হচ্ছেন তা কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, সে পথ অবশ্য কারও জানা নেই।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.