Crude Oil

ভারতের বদলে রাস্তা বদলে চিনমুখী ইরানি তেল বোঝাই জাহাজ, হঠাৎ কেন রুট বদল?

৭ বছর পর প্রথমবার সরাসরি ইরানের থেকে অপরিশোধিত তেল কিনছিল ভারত। সেই মতো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গুজরাটের বন্দরের দিকে আসছিল তেল বোঝাই একটি জাহাজ। তবে মাঝপথে হঠাৎই রাস্তা বদল করল জাহাজটি।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: এপ্রিল ৪, ২০২৬, ০০:১৬

options
link
ভারতের বদলে রাস্তা বদলে চিনমুখী ইরানি তেল বোঝাই জাহাজ, হঠাৎ কেন রুট বদল?
ইরানের তেল বোঝাই জাহাজ পিং শুন।

৭ বছর পর প্রথমবার সরাসরি ইরানের থেকে অপরিশোধিত তেল কিনছিল ভারত। সেই মতো মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গুজরাটের বন্দরের দিকে আসছিল তেল বোঝাই একটি জাহাজ। তবে মাঝপথে হঠাৎই রাস্তা বদল করল জাহাজটি। মোড় ঘুরে জাহাজটি এখন চিনমুখী। জানা যাচ্ছে, এই তেল বোঝাই জাহাজ যদি ভারতে আসত তবে ২০১৯ সালের পর প্রথমবার ইরানের অপরিশোধিত তেল কিনত দিল্লি।

Advertisement

জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, পিং শুন নামের আফরাম্যাক্স জাহাজটি প্রথম গন্তব্য ছিল গুজরাটের ভাদিনার বন্দর। তবে হঠাৎই গতিপথ বদল করে সেটি। বর্তমানে তার গন্তব্য দেখাচ্ছে চিনের দোংইংকে বন্দর। জানা যাচ্ছে, ২০০২ সালে নির্মিত এই জাহাজটির উপর ২০২৫ সালে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল আমেরিকা। বর্তমানে এর গন্তব্য চিন হলেও মাঝপথে জাহাজটির গন্তব্য পরিবর্তন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু কেন জাহাজটি হঠাৎ রাস্তা বদল করল? ওয়াকিবহাল মহলের মতে, হতে পারে আর্থিক চুক্তি নিতে সমস্যার জেরে জাহাজটি পথ পরিবর্তন করেছে। হিসেবমতো তেল রপ্তানির পর অর্থ মেটানোর সময়সীমা থাকে ৩০ থেকে ৬০ দিন। এমনটা হতে পারে জাহাজটি অবিলম্বে বা নির্ধারিত সময়ের কম সময়ের মধ্যে অর্থ পরিশোধের দাবি জানিয়েছিল।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

পিং শুন জাহাজটিতে ৬ লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যা ৪ মার্চ খার্গ দ্বীপ থেকে বোঝাই করা হয়েছিল।

যদিও এই অপরিশোধিত তেলের ক্রেতা বা বিক্রেতা কারা তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মনে করা হচ্ছে, এই অপরিশোধিত তেল যাওয়ার কথা ছিল ভাদিনারে রুশ তেল সংস্থা রসনেফট সমর্থিত নায়ারা এনার্জির কাছে। এই সংস্থার বার্ষিক জ্বালানি তেল সংশোধনের ক্ষমতা বার্ষিক ২০ মিলিয়ন টন। রিফাইনিং ও মডেলিং বিভাগের প্রধান বিশ্লেষক সুমিত রিটোলিয়া বলেন, ইরানের তেলের গন্তব্য পরিবর্তনের বিষয়টি অস্বাভাবিক না হলেও এটা প্রমাণ করে লজিস্টিকের মতোই বাণিজ্যিক শর্তাবলী ও আর্থিক ঝুঁকি বাড়ছে। হতে পারে অর্থনৈতিক সমস্যা মিটলে জাহাজটি ফের ভারতমুখী হবে। এদিকে ইরানের তেল কেনা নিয়ে দেশের জ্বালানি মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, প্রযুক্তিগত ও বাণিজ্যিক পরিস্থিতি যাচাইয়ের উপরেই নির্ভর করবে ইরানের তেল কেনার বিষয়টি।

Advertisement

উল্লেখ্য, গত মাসে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি মাথায় রেখে ইরানের তেল ক্রয়ের উপর ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছিল আমেরিকা। আগামী ১৯ এপ্রিল শেষ হচ্ছে সেই ছাড়। মনে করা হচ্ছে, ইরানের তেল বোঝাই জাহাজগুলি ৯৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল বহন করছে। যার মধ্যে ৫১ মিলিয়ন ব্যারেল ভারতে বিক্রি করা হতে পারে। পিং শুন জাহাজটিতে ৬ লক্ষ ব্যারেল তেল রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যা ৪ মার্চ খার্গ দ্বীপ থেকে বোঝাই করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত, অতীতে ভারত ছিল ইরানের তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা। তবে ২০১৮ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার পর ২০১৯ সকালে ভারত ইরানের তেল কেনা বন্ধ করে এবং বিকল্প পথে পা বাড়ায়। ভারত ২০১৮ সালে প্রতিদিন প্রায় ৫,১৮,০০০ ব্যারেল ইরানি তেল ক্রয় করত, যা ২০১৯ সালের জানুয়ারি-মে মাসে কমে প্রতিদিন ২,৬৮,০০০ ব্যারেলে দাঁড়ায়। এরপর থেকে আর কোনো আমদানি হয়নি।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.