TMC

সংসদে মোদি সরকারকে কোণঠাসা করতে সক্রিয় তৃণমূল, লিখিত প্রশ্নে ‘সেঞ্চুরি’ সৌগত-মালার, কী অবস্থা বাকিদের?

সংসদীয় অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রাজ্য তথা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় শাসক বিজেপির থেকে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা অনেকটাই এগিয়ে।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬, ০৯:৫৯

options
link
সংসদে মোদি সরকারকে কোণঠাসা করতে সক্রিয় তৃণমূল, লিখিত প্রশ্নে ‘সেঞ্চুরি’ সৌগত-মালার, কী অবস্থা বাকিদের?
(বাঁ দিক থেকে ডান দিকে) তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তৃণমূল সাংসদ মালা রায়। ফাইল চিত্র।

সংসদীয় অধিবেশনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি রাজ্য তথা দেশের গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় শাসক বিজেপির থেকে বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা অনেকটাই এগিয়ে। বিশেষ করে নিজের রাজ্যের ইস্যু সংসদে উত্থাপন করার পাশাপাশি বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনার তথ্য ফাঁস করার ক্ষেত্রে জোড়াফুলের সাংসদদের অনেকের ভূমিকা বিশেষ নজর কেড়েছে। আবার বেশ কয়েকজন প্রবীণ সাংসদের ‘পারফরম্যান্স’ হতাশজনক বলেও তৃণমূল সংসদীয় দলের রিপোর্টে উঠে এসেছে। চলতি অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশন থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় দু’বছরে লিখিত প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে তৃণমূলের ২৮ জন সাংসদের মধ্যে সেঞ্চুরি পার করেছেন সৌগত রায় ও মালা রায়। বরাবর দুরন্ত বাগ্মী প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা দমদমের সাংসদ সৌগতবাবু একাধিক ইস্যুতে লোকসভায় নজরকাড়া বক্তব্য রাখার পাশাপাশি ১৩৩টি লিখিত প্রশ্ন করেছেন। আর তার পরেই রয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার সাংসদ তথা কলকাতা পুরসভার চেয়ারপার্সন মালা রায়।

Advertisement

২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই সংসদের অধিবেশনে যোগ দিয়ে মৌখিক প্রশ্ন রাখার পাশাপাশি লিখিত আকারে ১০৫টি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন করে কেন্দ্রীয় সরকারকে একাধিক ইস্যুতে কার্যত কোণঠাসা করে দিয়েছেন তিনি। ১০০ দিনের ন্যায্য পাওনা থেকে শুরু করে বাংলার প্রতি বঞ্চনার কথা কেন্দ্রীয় সরকারের মন্ত্রীদের জবানিতেই স্বীকারোক্তির আকারে সংসদে নথিভুক্ত করিয়েছেন সৌগত-মালা। বিশেষ করে মনরেগা থেকে শুরু করে বাংলার আবাস যোজনা-জলজীবন মিশনের পাওনা অর্থ যে কেন্দ্রীয় সরকার পরিকল্পিত চক্রান্ত করেই দিচ্ছে না, তা মালা রায়ের লিখিত প্রশ্নে একাধিকবার ফাঁস হয়ে গিয়েছে। মেট্রো রেলের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে ‘ডোর স্ক্রিন’ নিয়েও দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল সাংসদের প্রশ্ন মহানগরবাসীর কাছে তারিফ কুড়িয়েছে।

Advertisement

সৌগত-মালা লিখিত প্রশ্ন করায়, সেঞ্চুরি পার করলেও সংসদীয় দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশন থেকে আজ পর্যন্ত একটিও লিখিত প্রশ্ন করেননি কলকাতা উত্তরের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। একইভাবে কোনও প্রশ্ন জমা দেননি হাওড়ার প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় ও বোলপুরের সাংসদ অসিত মাল। তবে ২২ গজে নিজের ক্রিকেটীয় জীবনের মতোই গত দু-বছরে ৯০টি লিখিত প্রশ্ন করায় নজর কেড়েছেন বর্ধমান-দুর্গাপুরের সাংসদ কীর্তি আজাদ। দুর্গাপুরের ইসকো-কয়লা খনির শ্রমিক ও এলাকার ধানচাষিদের ইস্যু নিয়ে সংসদে প্রশ্ন তুলেছেন কীর্তি।

Advertisement

সৌগত-মালা লিখিত প্রশ্ন করায়, সেঞ্চুরি পার করলেও সংসদীয় দপ্তরের পরিসংখ্যান বলছে, অষ্টাদশ লোকসভার প্রথম অধিবেশন থেকে আজ পর্যন্ত একটিও লিখিত প্রশ্ন করেননি কলকাতা উত্তরের প্রবীণ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।

পিছিয়ে নেই আরেক ক্রিকেটীয় সহোদর ইউসুফ পাঠান, তিনি মুর্শিদাবাদের নদীভাঙন ও বিড়ি শ্রমিকদের নানা ইস্যুর পাশাপাশি বাংলার স্বার্থ নিয়ে ৬৮টি প্রশ্ন করেছেন। তাৎপর্যপূর্ণ হল এবার বাজেটে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনকে তুলোধোনা করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য রাখা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সংসদে অষ্টাদশ লোকসভায় ৫২টি প্রশ্ন করেছেন। রুপোলি পর্দার চার সাংসদ দীপক অধিকারী, জুন মালিয়া, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সায়নী ঘোষ লিখিত প্রশ্নের ক্ষেত্রে খুব একটা পিছিয়ে নেই। ঘাটালের বন্যা থেকে শুরু করে মেদিনীপুরের মাদুর শিল্পের সমস্যা-সহ বাংলার নানা ইস্যু নিয়ে গত দু-বছরে দেব ৭৬টি, হুগলির শিল্পাঞ্চলের সমস্যা-সহ রাজ্যের বক্তব্য তুলে ধরে ৮৮টি প্রশ্ন করেছেন রচনা এবং সায়নী ঘোষ ৭৭টি লিখিত প্রশ্ন করে রীতিমতো চাপে ফেলে দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। অন্যদিকে, মেদিনীপুরের মানুষের জীবন-যন্ত্রণার পাশাপাশি বাংলার তরফে ৩০টি প্রশ্ন করেছেন জুন মালিয়া।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.