Pak Drone

ঢুকলেই গুলি করে ধ্বংস করে দেয় ভারত, তাও কেন বারবার ড্রোন পাঠাচ্ছে পাকিস্তান?

গত মঙ্গলবার সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানিয়েছিলেন, নিয়ন্ত্রণরেখায় ড্রোন ওড়ানো নিয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চের নিয়ন্ত্রণরেখায় সন্দেহজনক একটি উড়ন্ত বস্তুকে দেখা যায়।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১৮:৫১

options
link
ঢুকলেই গুলি করে ধ্বংস করে দেয় ভারত, তাও কেন বারবার ড্রোন পাঠাচ্ছে পাকিস্তান?
প্রতীকী ছবি।

জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে জঙ্গিহানা এবং তার প্রত্যাঘাত হিসাবে ভারতীয় সেনার অপারেশন সিঁদুর অভিযানের পর থেকেই নয়াদিল্লি-ইসলামাবাদের মধ্যে টানাপড়েন চরমে। এই আবহেও ধারাবাহিক ভাবে ভারতে পাক ড্রোন পাঠিয়ে চলেছে পাকিস্তান। গত ৯ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তে অন্তত ১২ বার হানা দিয়েছে পাক ড্রোন। তা থেকেই অনেকের আশঙ্কা, তবে কি জম্মু-কাশ্মীরে আবার বড়সড় হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে? না কি পাকিস্তানের দিক থেকে জঙ্গি অনুপ্রবেশ ঘটছে? 

Advertisement

গত মঙ্গলবার সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী জানিয়েছিলেন, নিয়ন্ত্রণরেখায় ড্রোন ওড়ানো নিয়ে পাকিস্তানকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও বৃহস্পতিবার জম্মু-কাশ্মীরের পুঞ্চের নিয়ন্ত্রণরেখায় সন্দেহজনক একটি উড়ন্ত বস্তুকে দেখা যায়। সেনা সূত্রে খবর, এ দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ দেগওয়ার এলাকায় ভারতীয় সেনার একটি চৌকির কাছে উড়তে দেখা যায় ওই বস্তুটিকে। সেনা প্রায় ৪০ রাউন্ড গুলি চালালেও সেটিকে ধ্বংস করা যায়নি। সন্দেহজনক ড্রোনটি বেশ কিছুক্ষণ ওড়ার পরে নিয়ন্ত্রণরেখার ও-পারে চলে যায়।

Advertisement

যদিও সেনা সূত্রে খবর, এই ড্রোনগুলি হামলাকারী কামিকাজি ড্রোন নয়। এগুলি মূলত ছোট নজরদার ড্রোন। বিস্ফোরকহীন এই ড্রোনগুলি ওড়েও অনেক নীচ দিয়ে। সেনা আধিকারিকদের একাংশের মত, হামলার উদ্দেশ্য থাকলে এমন ড্রোন পাঠানো হত, যা সহজে চিহ্নিত করা যাবে না। কিন্তু এই ড্রোনগুলিতে আলো জ্বলে। অর্থাৎ, সহজেই যাতে চিহ্নিত করা যায়, এমন ড্রোন পাঠানো হচ্ছে। তা হলে ঠিক কী কারণে বারবার এমন ড্রোন পাঠানো হচ্ছে? তিন সম্ভাবনার কথাই জানাচ্ছেন সেনা আধিকারিকদের একাংশ।

Advertisement

ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা

এই ধরনের নজরদার ড্রোন পাঠানোর উদ্দেশ্যই হল আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পরীক্ষা করে নেওয়া। সেনা আধিকারিকদের মত, পাকিস্তান বুঝতে চাইছে, ভারতের রেডার এবং ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা কতটা সক্রিয়। ড্রোন নজরে এলে কত দ্রুত সক্রিয় হয় ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এ ছাড়াও কোন সীমান্ত কতটা সংবেদনশীল, কোথায় কোথায় সেনার গতিবিধি বেশি, তা-ও বুঝতে চাইছে পাক সেনা।

জঙ্গি অনুপ্রবেশ

পাকিস্তান বুঝতে চাইছে, নিয়ন্ত্রণরেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের কোথায় কোথায় ভারতীয় সেনার নিরাপত্তায় খামতি রয়েছে, কোথায় নজরদারি ব্যবস্থা কমজোর। এই ধরনের জায়গা চিহ্নিত করে সেখান দিয়ে জঙ্গিদের অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা হতে পারে বলেই মনে করছেন সেনা আধিকারিকদের কেউ কেউ। যদিও পাকিস্তানের কোনও প্রচেষ্টাই সফল হয়নি, কারণ প্রতিবার পাক ড্রোনের হানা প্রতিহত করেছে ভারতের ড্রোন প্রতিরোধী ব্যবস্থা।

অস্ত্র-ওষুধ সরবরাহ

সেনার একটি অংশের মত, অনেক সময় উপত্যকায় গা ঢাকা দিয়ে থাকা সন্ত্রাসবাদীদের আগ্নেয়াস্ত্র এবং ওষুধ সরবরাহ করতেও ভারতে ড্রোন পাঠানো হয়। সম্প্রতি এ রকম একটি ড্রোনকে গুলি করেও নামিয়েছে ভারতীয় সেনা। তাতে পিস্তল, ম্যাগাজিন, কার্তুজ এবং গ্রেনেড মিলেছে। যদিও বাকি ড্রোনগুলি তেমন ছিল না। ফলে আসল উদ্দেশ্য অস্ত্র সরবরাহ নয় বলেই মনে করছেন সেনার ওই অংশ।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.