পিঠে নবতিপর শাশুড়ি। প্রখর রোদে নুয়ে পড়া কোনওমতে হেঁটে চলেছেন এক মহিলা। জঙ্গল, পাথুরে রাস্তা, ঝর্ণা পেরিয়ে তাঁর গন্তব্য ৯ কিলোমিটার দূরের এক ব্যাঙ্ক। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের তরফে বলা হয়েছে, পেনশনের টাকা পেতে গেলে শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে আসতে হবে। এদিকে ৯০ বছরের বৃদ্ধা হাঁটতে চলতে পারেন না, এই অবস্থায় তাঁকে কাঁধে নিয়েই অসম্ভব এই যাত্রা বউমার। সাধারণ পরিষেবা পাওয়ার জন্য ছত্তিশগড়ের মানুষের এই করুণ জীবনযাত্রার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সোশাল মিডিয়ায়।
আরও পড়ুন:
জানা গিয়েছে, এই ঘটনা ছত্তিশগড়ের সুরগুজা জেলার মইনপাত অঞ্চলের। ৯০ বছরের ওই বৃদ্ধা মাসে ১৫০০ টাকা করে সরকারি পেনশন পান। সেই টাকা তোলার জন্য বৃদ্ধাকে যেতে হয় বাড়ি থেকে ৯ কিলোমিটার দূরে। দীর্ঘ এই পথ পাড়ি দিতে বৃদ্ধার ভরসা তাঁর বউমা সুখমানিয়া বাই। প্রতি মাসে তো কখনও কয়েকমাসের টাকা জমিয়ে তিনি শাশুড়িকে পিঠে নিয়ে পাড়ি দেন দুর্গম পথ। তাঁর দাবি, ব্যাঙ্কের তরফে জানানো হয়েছে পেনশন পেতে গেলে সুবিধাভোগীদের আঙুলের ছাপ বা পরিচয় যাচাইয়ের জন্য গ্রাহককে সশরীরে ব্যাঙ্কে উপস্থিত হতে হবে। তবে ব্যাঙ্কে আসার জন্য পরিবহণ ব্যবস্থা নেই, তাই বাধ্য হয়েই শাশুড়িকে পিঠে নিয়ে জঙ্গলের মধ্য দিয়ে যেতে হয়।
সুখমানিয়া বাই বলেন, বৃদ্ধাকে ব্যাঙ্কে নিয়ে গেলে তবেই টাকাটা পাওয়া যায়। ওই এলাকায় কোনও পরিবহণ ব্যবস্থা নেই। যাত্রাপথে ছোট নদী ও জঙ্গলের পথ পেরিয়ে যেতে হয়। ৯ কিলোমিটারের এই রাস্তা পার হওয়ার পর তবে মেলে ১৫০০ টাকা।
ভাইরাল ওই ভিডিওতে সুখমানিয়া বাই বলেন, বৃদ্ধাকে ব্যাঙ্কে নিয়ে গেলে তবেই টাকাটা পাওয়া যায়। ওই এলাকায় কোনও পরিবহণ ব্যবস্থা নেই। যাত্রাপথে ছোট নদী ও জঙ্গলের পথ পেরিয়ে যেতে হয়। ৯ কিলোমিটারের এই রাস্তা পার হওয়ার পর তবে মেলে ১৫০০ টাকা। মহিলার আরও দাবি, আগে এই পেনশনের টাকা স্থানীয়ভাবে পৌঁছে দেওয়া হত সুবিধাভোগীদের কাছে। কিন্তু এখন সেই ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। তাই কষ্ট হলেও বাধ্য হয়ে এভাবেই ব্যাঙ্কে যেতে হয় আমাদের।
मैनपाट के कुनिया जंगलपारा में 90 साल की सास को हर महीने 9 किलोमीटर पीठ पर ढोकर बैंक ले जाती बहू…
ये सिर्फ तस्वीर नहीं, “सुशासन” के दावों पर बड़ा सवाल है।
एक तरफ बहू का समर्पण, दूसरी तरफ व्यवस्था की संवेदनहीनता।@vishnudsai #mainpat #PensionStruggle #BankRules #व्यवस्था_पर_सवाल pic.twitter.com/VwRyc8xfif— Archna parganiha (@archana2098) May 23, 2026
ডিজিটাল ইন্ডিয়ার জমানায় নাগরিক পরিষেবার এমন ভয়ংকর ছবি সামনে আসার পর সরকারের দিকে আঙুল তুলেছেন নেটিজেনরা। অনেকেই বলেছেন, সরকার দাবি করে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার মাধ্যমে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে জনকল্যাণমূলক পরিষেবা। এই তো তার বাস্তব ছবি। প্রত্যন্ত অঞ্চলের বয়স্ক ও শয্যাশায়ী পেনশনভোগীদের কেন এখনও তথ্য যাচাইয়ের জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে? পাশাপাশি ছত্তিশগড়ের বহু প্রত্যন্ত অঞ্চলের দুর্বল অবকাঠামো এবং প্রশাসনিক সুবিধার বেহাল অবস্থা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেটিজেনরা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
ক্ষমা করো…, ব্রাজিলের কাছে হারের পর নতমস্তক জাপান, ভিডিওতে মুগ্ধ ফুটবলদুনিয়া
-
‘কোনও আলোচনা হয়নি’, ট্রাম্পের ‘একতরফা’ দাবি ওড়াল ইরান, অনিশ্চিত দোহা শান্তি বৈঠক
-
শাহের হাতেই শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুট মূর্তির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন! বৈঠকে শুভেন্দু-সহ কেন্দ্রীয় নেতারা
-
ছেঁড়া জুতো পরে ‘ইক্কা’র ট্রেলার লঞ্চে, কোটি কোটি টাকার মালিক সানির এ কী দুর্দশা!
-
বিরাম নেই বৃষ্টির! কলকাতায় জারি হলুদ সতর্কতা, আর কী পূর্বাভাস হাওয়া অফিসের?