Bihar

ধর্ষণের অভিযোগে করায় গৃহবধূকেই শাস্তি! থুতু চাটতে বাধ্য করল বিহারের খাপ পঞ্চায়েত

গ্রামেরই এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন গৃহবধূ। সেই 'অপরাধে' নির্যাতিতাকেই শাস্তি দিল খাপ পঞ্চায়েত। ভরা সভায় মহিলাকে থুতু চাটতে বাধ্য করলেন গ্রামের মোড়লরা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: আগস্ট ৩, ২০২৬, ১৮:১৮

options
link
ধর্ষণের অভিযোগে করায় গৃহবধূকেই শাস্তি! থুতু চাটতে বাধ্য করল বিহারের খাপ পঞ্চায়েত
ছবি এআই দ্বারা নির্মিত।

গ্রামেরই এক যুবকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ তুলেছিলেন গৃহবধূ। সেই ‘অপরাধে’ নির্যাতিতাকেই শাস্তি দিল খাপ পঞ্চায়েত। ভরা সভায় মহিলাকে থুতু চাটতে বাধ্য করলেন গ্রামের মোড়লরা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে বিহারের বেগুসরাইয়ে। সোশাল মিডিয়ার ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি ‘সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল’। নির্যাতিতাকে এভাবে প্রকাশ্যে অপমানের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

জানা গিয়েছে, এই ঘটনা গত জুন মাসের। সম্প্রতি ঘটনার ভিডিও সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর ১ আগস্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই গৃহবধূ। এফআইআর অনুযায়ী, ২ জুন রাতে মহিলার একা থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী এক যুবক জোর করে তাঁর বাড়িতে ঢোকেন। এরপর ধর্ষণ করা হয় ওই মহিলাকে। শারীরিক নির্যাতনের পর যুবক জানালা দিয়ে পালানোর সময় গ্রামবাসীরাই ওই যুবককে ধরে ফেলেন। অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার পরিবর্তে গ্রামেই খাপ পঞ্চায়েত বসানো হয়। সেখানে দু’জনকে চরম হেনস্থা করেন গ্রামের মোড়লরা।

Advertisement

এফআইআর অনুযায়ী, ২ জুন রাতে মহিলার একা থাকার সুযোগ নিয়ে প্রতিবেশী এক যুবক জোর করে তাঁর বাড়িতে ঢোকেন। এরপর ধর্ষণ করা হয় ওই মহিলাকে।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নির্যাতিতা কান ধরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মহিলা। তাঁকে ঘিরে রয়েছেন গ্রামবাসীরা। বেশ কয়েকজন শিশুকেও দেখা যাচ্ছে সেখানে। মাতব্বরদের নির্দেশ মতো মাটিতে মুখ দিয়ে থুতু চাটতে দেখা যায় মহিলাকে। এরপর ফুটেজে দেখা যায় এক ব্যক্তিকে। অনুযান, এই যুবকই ধর্ষণে অভিযুক্ত। তাঁকেও কান ধরে ক্ষমা চাইতে ও থুতু চাটতে বাধ্য করা হয়।

Advertisement

৩১ জুলাই ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার একদিন পর অর্থাৎ ১ আগস্ট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন মহিলা। ধর্ষণের পাশাপাশি পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যদিও গ্রামবাসীদের তরফে এই ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের দাবি, ওই মহিলা ও অভিযুক্তের আগে থেকে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আপত্তিকর অবস্থায় ধরা পড়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় পঞ্চায়েত। কিন্তু প্রশ্ন হল, আইন আদালতকে শিকেয় তুলে কীভাবে পঞ্চায়েত কাউকে এমন মধ্যযুগীয় বর্বর শাস্তির বিধান দিতে পারে!

 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.