ভারতীয় সিম কার্ড ব্যবহার করে পাকিস্তানে ওটিপি পাঠানোর অভিযোগ। এমনকী সেই ওটিপি ব্যবহার করেই সীমান্তের ওপারে বসেই সক্রিয় করা হতো সিমকার্ড। আর সেই সূত্র পেতেই সন্দেহভাজন এক যুবককে গ্রেপ্তার করল রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দারা। মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে ওই যুবককে আজ রবিবার গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃত ওই যুবকের নাম সুমন শেখ। সূত্রের খবর, ধৃত এই যুবক বহরমপুরের গাধিয়া গ্রামের বাসিন্দা হলেও পুনেতেই থাকত। ইতিমধ্যে ধৃত যুবককে দফায় দফায় জেরা শুরু করেছেন গোয়েন্দারা। তদন্তকারীদের দাবি, গুপ্তচরবৃত্তিতেই ভারতীয় সিমকার্ডগুলি ব্যবহার করা হতো। এর পিছনে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই আছে বলেও মনে করা হচ্ছে। এমনকী কখনও পুনে আবার কখনও বহরমপুরে বসেই ধৃত সুমন ওটিপি পাক হ্যান্ডেলারদের কাছে পৌঁছে দিত বলেও অনুমান তদন্তকারীদের।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে সিম কার্ড পাচার হচ্ছে পাকিস্তানে! গোপন সূত্রে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে আসে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের গোয়েন্দাদের কাছে। এরপরেই তদন্তে নামেন গোয়েন্দারা। বিভিন্ন সূত্রে খোঁজ চালিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, মুর্শিদাবাদের বহরমপুর থেকে সিমকার্ডের ওটিপি পাঠানো হচ্ছে পাকিস্তানে। সেইমতো গত সপ্তাহে শেখ জুহাব নামে এক সিম কার্ডের ব্যবসায়ীকে গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেপ্তার করে। জেরার মুখে সে স্বীকার করে যে, প্রি অ্যাকটিভেটেড বেআইনি সিমের বড় খদ্দের হচ্ছে সুমন শেখ। ওই যুবকই তাঁর কাছ থেকে ফোনে সিমকার্ডগুলির নম্বর নিয়ে নেয়। আর তা নেওয়া হতো বেনামে।
এজন্য বিভিন্ন ব্যক্তির আধার কার্ডের কপি জোগাড় করা হতো। আর তা পৌঁছে যেত শেখ জুহাবের কাছে। সেই মতো তৈরি হয়ে যেত সিম কার্ডের নম্বর। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এজন্য মোটা অঙ্কের টাকা পেতেন ধৃত শেখ জুহাব। কেউ যাতে বুঝতে না পারে সেজন্য সুমন পুরো টাকা অনলাইনে পাঠাত। জুহাবকে জেরার সূত্র ধরে গোয়েন্দারা জানতে পারেন যে, ধৃত সুমন বহরমপুরের বাসিন্দা হলেও পুনেতে লেদ কারখানায় কাজ করে। সম্প্রতি সে ছুটি নিয়ে বহরমপুরে এসেছে, এমন তথ্যও জানতে পারেন গোয়েন্দারা। সেইমতো শনিবার রাতে বহরমপুর সংলগ্ন একটি জায়গা থেকে সুমনকে গোয়েন্দারা গ্রেপ্তার করা হয়। এরপরেই আজ রবিবার বিধাননগর আদালতে তোলা হলে তাঁকে ১৪ দিনের জন্য পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন বিচারক।
এদিকে ধৃত সুমনকে জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য হাতে এসেছে তদন্তকারীদের। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, কাজ করার সময় মহারাষ্ট্রে এক ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় হয় সুমনের। ওই ব্যক্তি তাঁকে জানায়, পাকিস্তানে ভারতীয় সিমকার্ডের বিপুল চাহিদা রয়েছে। আর তা জোগাড় করে দিলে মিলবে মোটা টাকা। তবে সরাসরি করাচি কিংবা ইসলামাবাদে নয়, তাঁর কাজ হবে সিমকার্ডের নম্বর জোগাড় করে দেওয়া। এরপরেই হোয়াটসঅ্যাপে পাকিস্তানের একটি বিশেষ নম্বরে পাঠিয়ে দিতে হতো সিমকার্ডের ওটিপি। এজন্য মোটা টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে পাকিস্তান থেকে সুমনকে পাঠানো হতো বলেও জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা।
শুধু তাই নয়, ক্রিপ্টোকারেন্সি ভাঙিয়ে সেই টাকা দিয়ে সুমন ফের জুহাবের কাছ থেকে সিমকার্ড ডিজিটাল পদ্ধতিতে কিনত। এত সিমকার্ড কেন প্রয়োজন, তা কখনও সুমনকে জিজ্ঞাসাও করেনি জুহাব। বরং বেআইনিভাবে সে হোয়াটসঅ্যাপে নম্বর ও ওটিপি পাঠিয়ে দিত সুমনকে। সেই ওটিপি পৌঁছে যেত পাকিস্তানে। গোয়েন্দাদের মতে, পাকিস্তানে বসে দেশের বিভিন্ন জায়গায় গুপ্তচরবৃত্তির জন্য এই সিমগুলি কাজে লাগায় পাক চর সংস্থা। তবে পাক চরদের সঙ্গে সঙ্গে ওই ভারতীয় সিমকার্ডগুলি পাকিস্তানের সাইবার জালিয়াতরা ব্যবহার করত কি না, সেই তথ্যও খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা।
আরও পড়ুন:
সর্বশেষ খবর
-
মিরিকে ধস, জলমগ্ন আলিপুরদুয়ার, তোর্সায় বেড়েছে জল, বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গে দুর্ভোগে পর্যটকরা!
-
শিল্পের খরা কাটছে জঙ্গলমহলে! ইকো টুরিজমে ভরসা করে কর্মসংস্থানের ডাক ঝাড়গ্রামে
-
বাংলায় লিচু-বিপ্লব! অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সুবাদে আকাশপথে ভিনরাজ্যে মরশুমি ফল
-
বয়সকে তুড়িতে উড়িয়ে দুর্গম ‘মুকার বে’ শৃঙ্গ জয় ষাটোর্ধ্ব বসন্তর
-
গাড়িতে বোমা, প্রাক্তন প্রেমিকাকে অপহরণ করে ‘সহমরণে’র ফাঁদ, তারপর…