Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
  • শনিবার
  • ১৫ আগস্ট ২০২৬
Krishnanagar

বয়সকে তুড়িতে উড়িয়ে দুর্গম ‘মুকার বে’ শৃঙ্গ জয় ষাটোর্ধ্ব বসন্তর

প্রায় ৬৫ বছর আগে শেষবার এই শৃঙ্গে অভিযান হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় এই রুটে আর উল্লেখযোগ্য কোনও অভিযান হয়নি। দুর্গম, টেকনিক্যাল এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পথই তার অন্যতম কারণ।

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জুন ২৮, ২০২৬, ১৪:০৬

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জুন ২৮, ২০২৬, ১৪:০৬

options
link
বয়সকে তুড়িতে উড়িয়ে দুর্গম ‘মুকার বে’ শৃঙ্গ জয় ষাটোর্ধ্ব বসন্তর zoom
মুকার বে শৃঙ্গজয়ের পর পর্বতারোহী বসন্ত সিংহরায়ের সঙ্গে অন্যরা। নিজস্ব ছবি।
Advertisement

বয়স যে কেবল একটি সংখ্যামাত্র, তা ফের প্রমাণ করলেন ষাটোর্ধ্ব এভারেস্টজয়ী বসন্ত সিংহরায়। তাঁর নেতৃত্বে হিমাচল প্রদেশের ৬,০৬৯ মিটার উচ্চতার দুর্গম ‘মুকার বে’ শৃঙ্গ সফলভাবে জয় করলেন কৃষ্ণনগরের মাউন্টেনিয়ারিং অ্যাসোসিয়েশন অব কৃষ্ণনগর (ম্যাক)-এর চার সদস্যের একটি দল। বসন্ত সিংহরায়ের পাশাপাশি দলে ছিলেন বিশ্বনাথ সাহা, পার্থসারথি লায়েক এবং নদীয়ার নবদ্বীপের বামুনপুকুর হাই স্কুলের শিক্ষক প্রশান্ত সিংহ। গত ২৩ জুন সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে দীর্ঘ ও কঠিন অভিযানের শেষে তাঁরা শৃঙ্গ স্পর্শ করেন। গত ৬ জুন কৃষ্ণনগর থেকে যাত্রা শুরু হয় অভিযাত্রীদের। হাওড়া হয়ে নেতাজি এক্সপ্রেসে চণ্ডীগড়, সেখান থেকে মানালি হয়ে হুন্ডার পর্যন্ত গাড়িতে পৌঁছে শুরু হয় পদযাত্রা। টানা দু’দিন হেঁটে দলটি পৌঁছায় বিয়াস কুন্ডে, যা বিপাশা নদীর উৎসস্থল। সেখান থেকেই শুরু হয় প্রকৃত পর্বতারোহণ। প্রায় ৬৫ বছর আগে শেষবার এই শৃঙ্গে অভিযান হয়েছিল। এরপর দীর্ঘ সময় এই রুটে আর উল্লেখযোগ্য কোনও অভিযান হয়নি। দুর্গম, টেকনিক্যাল এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পথই তার অন্যতম কারণ।

অভিযানের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে প্রশান্ত সিংহ বলেন, “মুকার বে-র পথে অসংখ্য হিমবাহের ফাটল বা ক্রেভাস রয়েছে। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের প্রভাবে বরফ গলে গিয়ে বহু জায়গায় পাথুরে কর্নিস বেরিয়ে এসেছে। ফলে গত কয়েক দশকে পথটি আরও ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। তিনটি শৃঙ্গে পতাকা উত্তোলন করা সম্ভব হলেও চতুর্থ তথা মুকার বে শৃঙ্গে পৌঁছনো ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।” তিনি জানান, মানালি শৃঙ্গ অভিযানের সময় প্রায় ২ হাজার মিটার দড়ি ব্যবহার করতে হয়েছে। খাড়া বরফের ঢাল, ধারালো কর্নিস এবং ঢিলা পাথরের মধ্যে দিয়ে রক ক্লাইম্বিং করে এগোতে হয়েছে।

Advertisement

ক্র্যাম্পন লাগানো ভারী জুতো পরে সেই পথ অতিক্রম করা ছিল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এরই মধ্যে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে সামিট ক্যাম্পে টানা প্রায় ২৭ ঘণ্টা তাঁবুর মধ্যে আটকে থাকতে হয়। সব প্রতিকূলতা জয় করে শেষ পর্যন্ত মুকার বে শৃঙ্গ স্পর্শ করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত বলে জানান তিনি। বসন্ত সিংহরায় বলেন, “আমার এই বয়সে এই শৃঙ্গ জয় অপ্রত্যাশিত। আমার সঙ্গে যে সকল পর্বতারোহী ছিলেন, তাঁদের নিরাপদে শৃঙ্গ জয় ও ফিরে আসাটাই আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যে সব জায়গায় বিপদের আশঙ্কা ছিল, চেষ্টা করেছি যতটা ওভারকাম করার।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.