NEET

পাঁজরের ৯টি হাড় ভাঙা, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর উদ্যোগে নিশ্চিন্তে নিট পরীক্ষা দিলেন কলকাতার ছাত্রী

দুর্ঘটনার জেরে পাঁজরের ৯টি হাড় ভেঙেছে। কোনওমতে মৃত্যুকে ফাঁকি দিলেও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই অবস্থাতেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিশেষ উদ্যোগে নিট-ইউজি পরীক্ষা দিলেন কলকাতার বাসিন্দা সৃষ্টি দুবে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২১, ২০২৬, ২০:০৫

options
link
পাঁজরের ৯টি হাড় ভাঙা, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর উদ্যোগে নিশ্চিন্তে নিট পরীক্ষা দিলেন কলকাতার ছাত্রী
শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ উদ্যোগে নিট পরীক্ষা দিলেন কলকাতার অসুস্থ ছাত্রী।

দুর্ঘটনার জেরে পাঁজরের ৯টি হাড় ভেঙেছে। কোনওমতে মৃত্যুকে ফাঁকি দিলেও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই অবস্থাতেই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বিশেষ উদ্যোগে নিট-ইউজি পরীক্ষা দিলেন কলকাতার বাসিন্দা সৃষ্টি দুবে। রবিবার ঢাকুরিয়ার বিনোদিনী হাইস্কুলে তাঁর পরীক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়। পরীক্ষাকেন্দ্রের বাইরে অ্যাম্বুল্যান্সের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন চিকিৎসকরাও।

Advertisement

গত ১৪ জুন এক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন সৃষ্টি। দুর্ঘটনার জেরে পাঁজরের ৯টি হাড় ভেঙেছিল তাঁর। ফুসফুসেও গুরুতর আঘাত লাগে। এই অবস্থায় তাঁর শরীরের রক্তনালীর বড় অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসকরা। কিছুদিন কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রয়োজন হয় তাঁর। এই অবস্থাতেই দেশের সবচেয়ে বড় মেডিক্যাল প্রবেশিকা পরীক্ষায় বসার সিদ্ধান্ত নেন সৃষ্টি। মেয়ের জেদের জেরে পরিবারের তরফে যোগাযোগ করা হয় জাতীয় পরীক্ষক সংস্থা এনটিএ-র সঙ্গে। বিষয়টি খোদ শিক্ষামন্ত্রীও কানেও যায়। এরপরই সৃষ্টির পরীক্ষার জন্য কার্যত ‘অভিযানে’ নামে এনটিএ।

Advertisement

নিচের তলায় আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়। বুকের ড্রেন পাইপ-সহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়েই পরীক্ষায় বসেন সৃষ্টি। পরীক্ষা চলাকালীন সেখানে উপস্থিত ছিলেন আইএলএস হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্যারামেডিকদের একটি দল।

ঢাকুরিয়ার বিনোদিনী বালিকা বিদ্যালয়ে আসন পড়েছিল সৃষ্টির। সেখানে নিচের তলায় আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হয় পরীক্ষার জন্য। বুকের ড্রেন পাইপ-সহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সঙ্গে নিয়েই পরীক্ষায় বসার অনুমতি মেলে। পরীক্ষা চলাকালীন সেখানে উপস্থিত ছিলেন আইএলএস হাসপাতালের চিকিৎসক ও প্যারামেডিকদের একটি দল। যে কোনও জরুরি পরিস্থিতি সামাল দিতে পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে রাখা ছিল একটি অ্যাম্বুল্যান্স। আধিকারিকদের দাবি, পরীক্ষা দেওয়ার সময় সৃষ্টির স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিরাপত্তা যাতে কোনওভাবে বিঘ্নিত না হয় সেজন্য সমস্তরকম পদক্ষেপ করা হয়েছিল।

Advertisement

শুধু তাই নয়, মেয়ের পরীক্ষার উপযুক্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে কিনা তা জানতে সৃষ্টির বাবা-মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন খোদ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এনটিএ, স্থানীয় প্রশাসন, চিকিৎসক এবং আধিকারিকদের যৌথ উদ্যোগে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। মেয়ের পরীক্ষার জন্য সরকারের এহেন উদ্যোগে খুশি সৃষ্টির বাবা-মা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, এনটিএ এবং পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। নিটের প্রশ্নফাঁস ও পুনঃপরীক্ষা নিয়ে গোটা দেশে বিতর্কের মাঝে এই ঘটনা এক অন্য নজির তৈরি করল বাংলা-সহ গোটা দেশে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.