High Court

বিদেশি বলে সন্দেহ হলে নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় সন্দেহভাজনেরই, সাফ জানাল হাই কোর্ট

আদালতের মতে, জমির মালিকানা বা রাজস্বের নথি দিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ হয় না।

গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: জুলাই ২৯, ২০২৬, ২১:৫০

options
link
বিদেশি বলে সন্দেহ হলে নাগরিকত্ব প্রমাণের দায় সন্দেহভাজনেরই, সাফ জানাল হাই কোর্ট
ফাইল ছবি।

কাউকে বিদেশি বলে সন্দেহ করা হলে তাঁর নাগরিকত্বের প্রমাণ তাঁকেই দিতে হবে। নাগরিকত্ব প্রমাণে রাষ্ট্রের কোনও দায় নেই। এই সংক্রান্ত এক মামলায় রায়ে জানিয়ে দিল কলকাতা হাই কোর্ট। শুধু তাই নয়, ভোটার, আধার, প্যান বা জমির নথি দিয়ে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ হয় না বলেও ফের স্পষ্ট করে দিয়েছেন বিচারপতি দেবাংশু বসাক ও বিচারপতি অজয়কুমার গুপ্তের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের মতে, জমির মালিকানা বা রাজস্বের নথি দিয়ে নাগরিকত্ব প্রমাণ হয় না। ভোটার, আধার, প্যান, ব্যাংক রেকর্ড, জমির দলিল এককভাবে নাগরিকত্বের প্রমাণ নয়। এগুলি শুধু পরিচয়পত্র। মামলায় আদালত জানায়, নাগরিকত্ব নির্ধারিত হবে সিটিজেনশিপ অ্যাক্ট, ১৯৫৫ অনুযায়ী ও ফরেনার্স অ্যাক্ট, ১৯৪৬-এর ৯ নম্বর ধারা মেনে। সন্দেহ হলে প্রমাণের দায় আবেদনকারীর।

Advertisement

আদালতে রাজ্যের বক্তব্য, মামলাকারীর ভাইপো বাংলাদেশি নাগরিক। পুলিশ আটক করার পর তিনি নিজেই সে কথা স্বীকার করেছিলেন। তার ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে। আইন অনুযায়ী তাঁকে ডিটেনশন শিবিরে রাখা হয়েছে এবং ৬০ দিনের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলা হয়েছে।

মুর্শিদাবাদের এক ব্যক্তির নিখোঁজের ঘটনায় মামলা দায়ের হয় কলকাতা হাই কোর্টে। সুমন মোল্লা নামের এক ব্যক্তি এই মামলা দায়ের করেন। অভিযোগ, গত ১৮ জুন তাঁর ভাইপোকে বেআইনি ভাবে তুলে নিয়ে গিয়েছে পুলিশ। রাখা হয়েছে ডিটেনশন শিবিরে। ভাইপো ভারতীয়, প্রমাণ করতে মামলাকারী তাঁর ভোটার কার্ড, আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ব্যাঙ্কের পাসবই এবং দাদুর আমলের জমির নথি আদালতে দেখিয়েছেন। পারিবারিক অন্যান্য নথিও জমা দেওয়া হয়েছে। দেখানো হয়েছে বাবার সম্পর্কের এক আত্মীয়ের পাসপোর্ট। কিন্তু আদালত জানিয়েছে, এই সমস্ত নথির কোনওটিতেই তাঁর নাগরিকত্ব প্রমাণিত হয় না। ২০২৫ সালের অভিবাসন এবং বিদেশি আইন উল্লেখ করে আদালত জানিয়েছে, সন্দেহ দূর করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির। 

Advertisement

আদালতে রাজ্যের বক্তব্য, মামলাকারীর ভাইপো বাংলাদেশি নাগরিক। পুলিশ আটক করার পর তিনি নিজেই সে কথা স্বীকার করেছিলেন। তার ভিডিও রেকর্ডিং রয়েছে। আইন অনুযায়ী তাঁকে ডিটেনশন শিবিরে রাখা হয়েছে এবং ৬০ দিনের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে বলা হয়েছে। এখনও গ্রহণযোগ্য কোনও নথি তিনি দেখাতে পারেননি। এদিকে আবেদনকারীর আইনজীবীর দাবি, এর আগে এসআইআর প্রক্রিয়ায় তাঁর ভাইপোর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাঁরা ট্রাইব্যুনালে আবেদনও করেছেন। এখনও সেখানে মামলার নিষ্পত্তি হয়নি। তার মধ্যেই পুলিশ তাঁকে আটক করেছে। মামলাকারীর আইনজীবী দাদুর আমলের জমির রেকর্ড, ভোটার-আধার সংক্রান্ত তথ্যের উল্লেখ করে জানান, তাঁর মক্কেল ভারতীয়। না হলে এত নথি কোনও এক জনের পক্ষে জাল করা সম্ভব নয়। এরপরই ডিভিশন বেঞ্চের এদিনের পর্যবেক্ষণ যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের ফলে এসআইআরয়ের সময় নাম বাদ পড়া অনেক পরিবারের কাছেই নাগরিকত্ব প্রমাণের পথ আরও কঠিন হল।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.