Abhishek Banerjee

১৪ জুন সই জাল, ১৬-য় ডিজে মামলায় হাজিরা, আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অভিষেককে সমন সিআইডি-র

যুক্তির জাল সাজিয়ে সিআইডি তদন্ত এড়ানোর ছক? অভিষেকের বক্তব্যে ঘনাচ্ছে জল্পনা।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ১২, ২০২৬, ২৩:৫০

options
link
১৪ জুন সই জাল, ১৬-য় ডিজে মামলায় হাজিরা, আড়াই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অভিষেককে সমন সিআইডি-র
নিজের বাড়িতে ফিরে সিআইডি নিয়ে প্রতিক্রিয়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থাকে নিজের বাড়ির সামনে আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে অবশেষে শুক্রবার সন্ধ্যায় মুখ খুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, ”বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ফিরেই ভবানীভবনে সিআইডি-র অফিসে গিয়েছিলাম, সাড়ে ৫ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। সহযোগিতা করেছি। সশরীরে হাজিরা দিতে বলেছিলেন। ৬টার আগে গিয়েছি। ১৪ তারিখ আবার যাব। আমি পালিয়ে যাইনি। আমি সবসময় তদন্তে সহযোগিতা করেছি। আমার সামর্থ্য অনুযায়ী যেটুকু সহযোগিতা করা উচিত, তা করছি।”

Advertisement

তাঁর এই বক্তব্যের পর সিআইডি অফিসাররা ফের কালীঘাট রোডের বাড়িতে ঢুকে অপেক্ষা করেন অভিষেকের হাতে নোটিস তুলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু সিআইডি আধিকারিকদের মুখোমুখি হননি অভিষেক। শেষমেশ নোটিস দেওয়া হল তাঁর অফিসের এক কর্মীকেই। ১৬ জুন তাঁকে এই মামলায় হাজিরা দিতে হবে সিআইডি দপ্তরে। তার আগে অবশ্য ১৪ জুন সই জাল মামলায় হাজিরা দিতে অভিষেককে সিআইডি দপ্তরে যেতে হবে। সূত্রের খবর, এই মামলায় আরেক বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও সিআইডি রবিবার তলব করেছে। দু’জনকে মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে।

Advertisement

এতক্ষণ অপেক্ষা করালেন সিআইডিকে? এর জবাবে অভিষেক বলেন, ”আজ দলনেত্রীর বাড়িতে মিটিং ছিল। সাংসদ ছিলেন। আমাদের মিটিং চলাকালীন সিআইডির একটা টিম কোনও আলাদা মামলায় নোটিস দিতে আসে। আমি আমার আপ্তসহায়ক পার্থকে বলি নোটিস দিতে। আমি অনুরোধ করি যদি ওঁর হাতে দিতে না পারেন তাহলে অপেক্ষা করতে হবে। এখন সোয়া সাতটার মধ্যে এসেছি। ফিরে এসে দেখেছি নেই। যখন ইচ্ছা চলে আসবেন, তা হয় না। যদি ফোন করে আসেন, যোগাযোগ করে আসেন, তাহলে থাকব। আর যদি স্পষ্ট করে বলে দেন অন্য কাউকে দেবেন না। আমি অনুরোধ করব যদি আসেন তো আসতে পারেন। আর যদি না আসেন তাহলে অপেক্ষা করতে হবে। আমি তদন্ত এড়াচ্ছি না।” 

কেন এতক্ষণ অপেক্ষা করালেন সিআইডিকে? এর জবাবে অভিষেক বলেন, ”আজ দলনেত্রীর বাড়িতে মিটিং ছিল। সাংসদ ছিলেন। আমাদের মিটিং চলাকালীন সিআইডির একটা টিম কোনও আলাদা মামলায় নোটিস দিতে আসে। আমি আমার আপ্তসহায়ক পার্থকে বলি নোটিস দিতে। আমি অনুরোধ করি যদি ওঁর হাতে দিতে না পারেন তাহলে অপেক্ষা করতে হবে। এখন সোয়া সাতটার মধ্যে এসেছি। ফিরে এসে দেখেছি নেই। যখন ইচ্ছা চলে আসবেন, তা হয় না। যদি ফোন করে আসেন, যোগাযোগ করে আসেন, তাহলে থাকব। আর যদি স্পষ্ট করে বলে দেন অন্য কাউকে দেবেন না। আমি অনুরোধ করব যদি আসেন তো আসতে পারেন। আর যদি না আসেন তাহলে অপেক্ষা করতে হবে। আমি তদন্ত এড়াচ্ছি না।” বিধানসভায় সই জাল কাণ্ডে বৃহস্পতিবার সিআইডি দপ্তরে অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ সংক্রান্ত খবরাখবর নিয়ে এদিন সাংবাদিকদের উপর ক্ষোভপ্রকাশ করেন তিনি। তাঁর কথায়, ”আমাকে কী কী প্রশ্ন করা হয়েছে, তা মিডিয়ায় লিক হয়েছে। আমি যখন কিছু বলিনি, তখন নিশ্চয়ই তদন্তকারী সংস্থার কাছ থেকে বেরিয়েছে। আমি এনিয়ে আদালতে যাব।”

Advertisement

নির্বাচনী প্রচারের সময় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ডিজে’ মন্তব্যের বিরোধিতায় দায়ের হওয়া মামলায়  শুক্রবার বিকেলে তাঁর বাড়িতে নোটিস দিতে যায় সিআইডি। কিন্তু কালীঘাট রোডের বাড়িতে তিনি না থাকায় ঠায় আড়াই ঘণ্টা বাড়ির বাইরে অপেক্ষা করতে হয় আধিকারিকরা। সেসময় বাড়ির সামনে জড়ো হতে থাকেন দলীয় কর্মীরাও।

সূত্রের খবর, এই সময়ে কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে বৈঠকে ব্যস্ত ছিলেন অভিষেক।  সিআইডি আগমনের খবর পেয়েও তিনি আসেননি। নিজের কাজ সামলে সন্ধ্যা ৭টার পর বাড়িতে ফেরেন। সিআইডি-র কার্যকলাপ নিয়ে একরাশ ক্ষোভ উগরে দেওয়ার পরও অবশ্য অভিষেক নিজে নোটিসটি গ্রহণ করেননি। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের বক্তব্য রাখার পর বাড়ির ভিতরে ঢুকে যান। তদন্তকারী আধিকারিকরা ফের একপ্রস্ত অপেক্ষা করার পর কার্যত হাল ছেড়েই অভিষেকের অফিসের কর্মীর হাতেই নোটিসটি দেন। 

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.