Anandapur Fire

আগুন লাগার পর শেষ ফোন এসেছিল! ‘মৃত্যুপুরী’ আনন্দপুরে নাতির খোঁজে চোখে জল নিয়ে অপেক্ষায় দাদু

Anandapur Fire News: রবিবার মাঝরাত থেকে জ্বলছে আনন্দপুরের মোমো কারখানা। আগুনে ভস্মীভূত কারখানার বাইরে স্বজনহারাদের আর্তনাদ। একরাশ উৎকন্ঠা নিয়ে নিখোঁজদের পরিজনরা দাঁড়িয়ে রয়েছে। ২৫ ও ৩০ বছর বয়সি দুই যুবতী জ্বলন্ত কারখানার দিকে তাঁকিয়ে হাউহাউ করে কেঁদেই চলছেন।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১৩:৪৯

options
link
আগুন লাগার পর শেষ ফোন এসেছিল! ‘মৃত্যুপুরী’ আনন্দপুরে নাতির খোঁজে চোখে জল নিয়ে অপেক্ষায় দাদু
পরিজনদের সঙ্গে কথা বলছেন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। নিজস্ব চিত্র

রবিবার মাঝরাত থেকে জ্বলছে আনন্দপুরের (Anandapur Fire) মোমো কারখানা। আগুনে ভস্মীভূত কারখানার বাইরে স্বজনহারাদের আর্তনাদ। একরাশ উৎকন্ঠা নিয়ে নিখোঁজদের পরিজনরা দাঁড়িয়ে রয়েছে। ২৫ ও ৩০ বছর বয়সি দুই যুবতী জ্বলন্ত কারখানার দিকে তাঁকিয়ে হাউহাউ করে কেঁদেই চলছেন। দু’জনের স্বামী নাকি ওই কারখানায় কাজ করেন। রবিবার রাতে কারখানায় ছিলেন। তাঁদের স্বামীর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। বৃদ্ধ দাদু দু’চোখে জল নিয়ে ভোর থেকে দাঁড়িয়ে রয়েছেন অভিশপ্ত কারখানার সামনে। তাঁর নাতি পঙ্কজ হালদার ওই মোমো কারখানায় রাতে ডিউটিতে ছিলেন। আগুন লাগার পর থেকে তাঁরও কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর বাইকটি কারখানার বাইরে পড়ে রয়েছে। যা দেখে পরিজনদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

Advertisement

পঙ্কজ হালদারের দাদু বলেন, “আগুন লাগার পর নাতি স্ত্রীকে ফোন করেছিল। এরপর পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে বাইরে তাঁর বাইক দেখতে পেলেও তাঁর কোনও খোঁজ পাইনি। জানি না, তাঁর অবস্থা এখন কী?” বলতে বলতে মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়েন। সময় যত পার হতে থাকে, একরাশ হতাশা যেন তাঁকে গ্রাস করতে থাকে। পঙ্কজের পরিবারের আর এক সদস্য জানান, “শেষবার কথা বলার সময় তিনি বলেছিলেন, দেওয়াল ভাঙার চেষ্টা করছেন। তারপর থেকে আর কোনও যোগাযোগ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা সুব্রত দাঁ তাঁর আত্মীয় কারখানার পাশে ডেকরেটর্সের ওই গুদামে কাজ করতেন। তিনি বলেন, “ভিতরে ঢুকে দেখা গিয়েছে সব কিছু পুড়ে ছাই। সারি সারি পড়ে আছে পোড়া দেহের অংশ। অনেকে বলছেন, ভিতরে প্রায় ৩০ জন ছিলেন। সামনের গেট বন্ধ থাকায় দমকল আসার আগেই যারা বেরিয়ে পড়তে পেরেছিলেন, তাঁরা পিছনের রাস্তা ধরেই পালিয়েছেন।”

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার নাজিরাবাদের মোমো কারখানা যেন ‘মৃত্যুপুরী’ হয়ে উঠেছে। কালো ধোঁয়ায় মুখ ঢেকে গিয়েছিল গোটা এলাকা। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে কালো ছাই, পুড়ে যাওয়া গুদাম ও কারখানায় পোড়া চামড়ার গন্ধ। মঙ্গলবার সকালেও কারখানার আগুন পুরোপুরি নেভেনি বলে খবর। ধ্বংসস্তূপের ভিতরে বেশ কিছু জায়গায় এখনও পকেট ফায়ার দেখা যাচ্ছে বলে দমকল সূত্রে খবর। দমকল কর্মীরা এখনও কাজ চালাচ্ছেন। চারিদিকে পুলিশের কড়া পাহারা। সময় যত গড়াচ্ছে, একের পর এক দুঃসংবাদ আসছে। অসমর্থিত সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, আটজনের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের বাইরে সামনে সারি সারি দাঁড়িয়ে রয়েছে অ‌্যাম্বুল‌্যান্স। সেই অ‌্যাম্বুল‌্যান্সেই একের পর এক দেহ তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল গতকাল, সোমবার। সেগুলির পিছনে অনেককেই ছুটতে দেখা যায়।

Advertisement
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.