Advertisement
Advertisement
Advertisement
Sangbad Pratidin
  • ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
  • শুক্রবার
  • ৫ জুন ২০২৬
Nadia

৪০ ফুট উঁচু কদমের মগডালে ‘কলির কেষ্ট’, হাজার বায়নাক্কার পর বোতল দেখেই তড়তড়িয়ে নামলেন যুবক!

৪০ ফুট উঁচু গাছের মগডালে উঠে বসে রয়েছেন যুবক! অনেক অনুরোধ, অনুনয়-বিনয়েও কাজ হয়নি! দমকল কর্মী, পুলিশকেও তাঁকে উদ্ধারে গিয়ে বেগ পেতে হয়। দীর্ঘক্ষণ গাছের মগডালে একইভাবে বসেছিলেন তিনি।

Advertisement
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ২০:৪৯

link
স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২৬, ২০২৬, ২০:৪৯

options
link
৪০ ফুট উঁচু কদমের মগডালে ‘কলির কেষ্ট’, হাজার বায়নাক্কার পর বোতল দেখেই তড়তড়িয়ে নামলেন যুবক! zoom
গাছে উঠে বসে থাকা যুবক। নিজস্ব চিত্র

৪০ ফুট উঁচু গাছের মগডালে উঠে বসে রয়েছেন যুবক! অনেক অনুরোধ, অনুনয়-বিনয়েও কাজ হয়নি! দমকল কর্মী, পুলিশকেও তাঁকে উদ্ধারে গিয়ে বেগ পেতে হয়। দীর্ঘক্ষণ গাছের মগডালে একইভাবে বসেছিলেন তিনি। তাঁকে অক্ষত অবস্থায় গাছ থেকে নিচে নামাতে কালঘাম ছুটে গিয়েছিল দমকল-পুলিশের। শেষপর্যন্ত ঘণ্টা দুয়ের অনুরোধ, চেষ্টার পর নিজেই মগডাল থেকে নেমে এলেন! কোন যাদুমন্ত্রে তাঁকে নামানো সম্ভব হল? নিচ থেকে কী খাওয়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তাঁকে?

জানা গিয়েছে, ঘটনাটি নদিয়ার শান্তিপুর থানার অন্তর্গত উদয়পুর প্রাইমারি স্কুল এলাকার। আজ, সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবসের ছুটি। এদিন সকালে ওই এলাকার একটি গাছের নিচে একটি জামা পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওই জামা কীভাবে সেখানে এল? সেই কথা বলার ফাঁকে স্থানীয়দের মধ্যে কয়েকজন গাছের দিকে তাকান। চোখ উপরে যেতেই দৃষ্টি স্থির হয়ে যায় তাঁদের! গাছের উপরে কে ও?

Advertisement

দেখা যায়, গাছের উপর বসে রয়েছেন এক যুবক! তাও আবার একদম মগডালে। ৪০ ফুট উঁচু কদম গাছের মগডালে তাঁকে দেখে তখন আশপাশে হইহই পড়ে গিয়েছে। ওই যুবকের হাতে লাঠি, কাঁধে ব্যাগ। কার্যত ‘কলির কেষ্ট’ সেজে কদমগাছেই উঠে আছেন তিনি! ওভাবে গাছে বসে থাকলে যখন তখন দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। অত উঁচু থেকে পড়লে মৃত্যুও হতে পারে! সেসব ভেবেই স্থানীয়দের মধ্যে হইচই, আতঙ্ক দেখা যায়। নিচে নামার অনুরোধ করলেও সেই কথা কানেও তোলেননি মগডালে বসে থাকা ওই যুবক।

খবর দেওয়া হলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। পুলিশ কর্মীরাও তাঁকে গাছ থেকে নেমে আসার কথা বলতে থাকেন। কিন্তু কে শোনে কার কথা? ওই যুবককে উদ্ধারে দমকল কর্মীরাও গাছে ওঠার চেষ্টা শুরু করেন। কিন্তু যুবকের হাতে লাঠি থাকায় তাঁর কাছে পৌঁছনোও কার্যত প্রায় অসম্ভব ও ঝুঁকিরও। এদিকে প্রায় দু’ঘণ্টা পেরোতে চলেছে। গাছের উপরে থাকা ওই যুবক ‘নট নড়নচড়ন’। তাহলে উপায়?

এবার তাঁকে নিচ থেকেই লোভনীয় খাবার দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়। খাবারের কথা শুনে নিচের দিকে তাকিয়েওছিলেন ওই ‘কলির কেষ্ট’। খাবারেই হয়তো কাজ হবে, এই বুঝে দোকান থেকে খাবারও আনা হয়। কিন্তু এবার মুখ ফিরিয়ে নেন তিনি। শেষপর্যন্ত কেউ একজন বোতলের কথা বলেন। কোনও কিছুতেই যখন কাজ হচ্ছে না, পানীয়ের (মদের) বোতল এনে দেখাই যাক না! যেমন ভাবা তেমন কাজ। বোতল এনে নিচ থেকে দেখাতেই যেন ধন্বন্তরীর মতো কাজ হয়! মগডালেই নড়াচড়া শুরু করেন ওই যুবক। বোতল দেখানোর পর আর তেমন অনুরোধ করতে হয়নি। তড়তড়িয়ে মগডাল থেকে নিচে নেমে আসেন তিনি! হাঁফ ছাড়েন সকলে, কেউ বা আবার গালও পেড়েছেন!  

নিচে নামলেই পুলিশ তাঁকে আটক করে বলে খবর। সারাদিন চেষ্টা করেও যুবকের নাম ও পরিচয় জানতে পারা যায়নি। পরে সন্ধে নাগাদ জানা যায় ওই যুবকের বাড়ি আসামে! কিন্তু আসাম থেকে সুদূর নদিয়ায় কী করতে এসেছিলেন তিনি? কেনই বা গাছের মগডালে উঠে বসে থাকা? সেই উত্তরও খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু যে বোতলের জন্য নেমে এলেন তিনি? সেই বোতল কি তাঁকে দেওয়া হল? না, সেটি জানা যায়নি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Advertisement

Share this article on

The article link is copied.