Aniket Mahato

‘রাজ্য দিলেও, সিনিয়র রেসিডেন্ট পোস্ট নেব না’, প্রতিহিংসার অভিযোগে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের আর্জি অনিকেতের

সিনিয়র রেসিডেন্ট পোস্ট ছাড়তে ৩০ লক্ষ টাকার বন্ড জমা দিতে হয় অনিকেতকে।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জানুয়ারি ২, ২০২৬, ২২:১৯

options
link
‘রাজ্য দিলেও, সিনিয়র রেসিডেন্ট পোস্ট নেব না’, প্রতিহিংসার অভিযোগে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের আর্জি অনিকেতের

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: ‘রাজ্য দিলেও, সিনিয়র রেসিডেন্ট পোস্ট নেব না’, সাংবাদিক বৈঠক করে ঘোষণা অনিকেত মাহাতোর (Aniket Mahato)। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ তুলে এই সিদ্ধান্ত বলে সাফ জানালেন তিনি। তবে সিনিয়র রেসিডেন্ট পোস্ট ছাড়তে ৩০ লক্ষ টাকার বন্ড জমা দিতে হয়। বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করা একার পক্ষে তাঁর সম্ভব নয়। তাই ক্রাউড ফান্ডিংয়ের আর্জি অনিকেতের।

Advertisement

গত মাসেই পোস্টিং মামলায় স্বস্তি পেয়েছেন অনিকেত। সুপ্রিম কোর্টে বহাল রয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশ। সুতরাং আদালতের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রায়গঞ্জ নয়, জুনিয়র ডাক্তার অনিকেতকে পোস্টিং দিতে হবে আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। তবে অনিকেত মাহাতোর দাবি, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরেও কার্যত হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে রাজ্য সরকার। পোস্টিং দেওয়ার কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাঁর কথায়, “সামান্য পোস্টিং মামলায় কোটি কোটি টাকা খরচ টাকা খরচ হয়েছে। তা সত্ত্বেও এখন পোস্টিংয়ের নির্দেশিকা পাইনি।” তিনি সাফ জানান, “রাজ্য দিলেও, সিনিয়র রেসিডেন্টের পোস্টিং নেব না।” তবে এই মুহূর্তে সিনিয়র রেসিডেন্সিয়াল ডক্টর পোস্ট না নিতে ৩০ লক্ষ টাকা দিতে হবে। বিপুল টাকা একার পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয় অনিকেতের (Aniket Mahato)। সে কারণে ‘ক্রাউড ফান্ডিং’য়ের আর্জি জানান তিনি।

Advertisement

একসময় অভয়া আন্দোলনের অন্যতম মুখ ছিলেন অনিকেত। তাঁর দাবি, সেই সময় হাসপাতালে ‘থ্রেট কালচারে’র বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। সে কারণে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। তার ফলে জীবনের মূল লক্ষ্য চিকিৎসা সেবাও সঠিকভাবে করতে পারছেন না বলেই অভিযোগ। এমনকী নিজের মানহানির আশঙ্কাও করছেন অনিকেত। সে কারণেই সিনিয়র রেসিডেন্ট পোস্ট না নেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর। বলে রাখা ভালো, অনেকেরই দাবি, অভয়া ফান্ডে নিয়ে নাকি বিপুল আর্থিক তছরূপ হয়েছে। বারবার সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টের সদস্যরা। তবে এখনও পর্যন্ত অভয়া ফান্ডের জমা খরচের হিসাব দিতে পারেননি তাঁরা। অথচ বর্তমানে অভয়া মঞ্চে ফাটলের ইঙ্গিত দিয়ে পদ থেকে অব্যাহতি নিয়ে কার্যত নিজের দায় ঝাড়তে যেন ব্যস্ত অনিকেত। আবার ব্যক্তিগত প্রয়োজন পূরণে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের আর্জিও জানিয়েছেন। সুতরাং এখান থেকে আরও স্পষ্ট অভয়ার ধর্ষণ ও খুন কাণ্ডের সুবিচারের দাবি নিয়ে যেন আরও কোনও মাথাব্যথা নেই খোদ ‘আন্দোলনকারী’দেরই।

Advertisement

এনিয়ে ‘ভয়েস অফ অভয়া ভয়েস অফ উইমেন’ এর সাধারণ সম্পাদক ডাঃ বিপ্লব চন্দ্রের প্রতিক্রিয়া, ”জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্ট থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হল আর জি কর আন্দোলনের আপোসহীন নেতা অনিকেত মাহাতো। ফ্রন্ট ছাড়ার কারণগুলো অত্যন্ত সঙ্গত বলে আমরা মনে করি।সরকার যেভাবে প্রতিহিংসা পরায়ণ তাতে ওর পক্ষে সরকারি হাসপাতালে কাজ করা সম্ভব ছিল না ।তাই সিনিয়র রেসিডেন্ট পদ থেকে ও সরে দাঁড়ালো। যেভাবে অভয়ার খুনের প্রথম দিন থেকে ন্যায় বিচারের আন্দোলনে অনিকেত অবিচল ছিল, আগামী দিনেও ও এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেবে। আমরা চিকিৎসকরা,জুনিয়র ডাক্তার, মেডিক্যাল ছাত্র-সহ মেডিক্যাল কমিউনিটির সকলে এবং শুভবুদ্ধি সম্পন্ন সর্বস্তরের নাগরিক বিশেষ করে মহিলারা যেভাবে আর জি কর আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন তারা আগামী দিনে অনিকেত মাহাতোর পাশে থেকে ওর লড়াইয়ে সহযোগিতা করব। অভয়ার ন্যায় বিচারের আন্দোলন চালিয়ে যেতে অনিকেত বদ্ধপরিকর থাকবে এই প্রত্যাশা রাখি।”

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.