সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: অভাবের সংসার৷ বিকালে মুড়ি বিক্রি কোনওক্রমে কাটে দিন৷ নুন আনতে পান্তা ফুরানো সংসারে দারিদ্রই একমাত্র সঙ্গী৷ তবে, খাওয়া জুটুক অথবা না জুটুক, ছেলের পড়াশোনা নিয়ে কোনও খামতি রাখেননি বাবা৷ চড়া সুদে ঋণ নিয়েও জুগিয়ে গিয়েছেন ছেলের পড়ার খরচ৷ বাবার হাড়ভাঙা পরিশ্রমেরও মান রেখেছে ছেলেও৷ উচ্চ মাধ্যমিকে অষ্টম স্থান ছিনিয়ে বাগুইআটির মান উজ্জ্বল করেছে বিশ্বজিৎ দত্ত৷
বাবা শিবনারায়ণ দত্ত৷ বাগুইআটি এলাকায় মুড়ি বিক্রি করেন৷ সেই রোজগারেই গোটা পরিবার চলে৷ অভাবকে জয় করে একজন মুড়ি বিক্রেতার ছেলে হয়েও বিশ্বজিৎ দত্ত এবার রাজ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে অষ্টম স্থান পেয়েছে। দমদম কৃষ্ণপুর হাইস্কুলের মেধাবী এই ছাত্রের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র৷ বিশ্বজিৎ বাণিজ্য বিভাগে ৪৮৩ নম্বর নিয়ে রাজ্যে অষ্টম স্থান পেয়েছে৷ বড় হয়ে সে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট হতে চান৷ তার এই রেজাল্টে খুশি এলাকার বাসিন্দা৷
[জেলার মুখরক্ষা করল দুই কৃতী ছাত্রী, খুশির হাওয়া বালুরঘাটে]
মুড়ি ওয়ালার ছেলে কিনা উচ্চ মাধ্যমিকে অষ্টম! ভাবতেই খানিকটা সঙ্কোচ বোধ করছেন সদ্য শহরের জল-হাওয়ায় বেড়ে ওঠা বাগুইআটি৷ এমনিতেই, বাগুইআটি এলাকাটি উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দুষ্কৃতীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ দুষ্কৃতী তাণ্ডব থেকে সিন্ডিকেট দৌরাত্ম্যের জেরে বারংবার সংবাদ শীর্ষে উঠে এসেছে বাগুইআটি৷ একাধিক বার বিভিন্ন অপরাধের ঘটনাও ঘটে গিয়েছে এই এলাকায়৷ কিন্তু, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রথম ১০-এর মধ্যে অষ্টম স্থান সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রথম বলে মনে করছেন বাগুইআটি অঞ্চলের বাসিন্দারা৷ তাঁদের আশা, এবার অন্তত অপরাধের কালো অধ্যায় দূরে রেখে উচ্চমাধ্যমিকে অষ্টম বিশ্বজিতের সাফল্য ভাগাভাগি করে নিক গোটা বাগুইআটি৷ অদূর ভবিষ্যতে বিশ্বজিতের পাশে এসে দাঁড়াক বাগুইয়াটির সাহায্যের হাত৷
সর্বশেষ খবর
-
‘অতীত নিয়ে আটকে থাকলে উন্নয়ন সম্ভব নয়’, দিল্লি-ঢাকা চাপানউতরের মাঝেই বললেন ত্রিবেদী
-
তৃপ্তি-রশ্মিকা নন! আমিই ‘ন্যাশনাল ক্রাশ’, রবি কিষানের রসিক টনিকে ‘ডেলুলু’ তোপ নেটভুবনের
-
‘তথ্য লুকোবেন না’, জরুরি বৈঠকে ডেঙ্গু রুখতে নভেম্বর পর্যন্ত নজরদারির নির্দেশ শুভেন্দুর
-
ডনবাসই ‘জিয়নকাঠি’, না পেলে হবে মৃত্যুদণ্ড! ক্ষমতা বাঁচাতে যুদ্ধই ভরসা পুতিনের
-
হজমের সমস্যা থেকে লিভারের অসুখ, আগেভাগে রোগ ধরতে উদ্যোগ ডিসান শিলিগুড়ির