রাহুল সিনহা

‘দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি বলেই নোবেল পেয়েছেন অভিজিৎ’, রাহুল সিনহার মন্তব্যে বিতর্ক

তীব্র প্রতিক্রিয়া রাজনৈতিক মহলে, রাহুল সিনহার সমালোচনা সোশ্যাল মিডিয়াতেও।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: অক্টোবর ১৭, ২০২৩, ২০:৩৮

options
link
‘দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি বলেই নোবেল পেয়েছেন অভিজিৎ’, রাহুল সিনহার মন্তব্যে বিতর্ক

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করতে গিয়ে মাত্রা ছাড়ালেন রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতা রাহুল সিনহা। অভিজিৎবাবুকে তোপ দাগতে গিয়ে গিয়ে ব‌্যক্তিগত আক্রমণ করে বসেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা। তিনি বলেন, “যাঁদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদেশি, মূলত তাঁরাই নোবেল পেয়ে যাচ্ছেন। নোবেল পাওয়ার জন্য এটা কোনও ডিগ্রি কি না জানি না। পীযূষ গোয়েল ঠিক কথাই বলেছেন। কারণ অভিজিৎবাবুরা দেশের অর্থনীতিকে বামপন্থার নীতিতে চালাতে চাইছেন। কিন্তু এ দেশে বামপন্থাই অচল হয়ে গিয়েছে।” এর আগে অমর্ত‌্য সেনের ক্ষেত্রেও এই ধরনের মন্তব‌্য করা হয়েছিল।

Advertisement

এর আগে কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল মন্তব্য করেন, অভিজিৎবাবু বামপন্থী। ওঁর কথা কেউ শোনেনি। অভিজিৎবাবু কংগ্রেসের ‘ন্যায়’ প্রকল্পের পরামর্শ দিয়েছিলেন।কিন্তু ভারতের মানুষে সেই প্রকল্প প্রত্যাখ্যান করেছে। এ বিষয়ে তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতা বলেন, “অভিজিৎবাবু শুধু বাংলা নয়, গোটা দেশকে গর্বিত করেছেন। তাই গোয়েলের মন্তব‌্য বিজেপি তথা গেরুয়া শিবিরের সংকীর্ণ মানসিকতার পরিচয়।” কলকাতার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম বলেন, “ওঁর মতো একজন নোবেলজয়ীর সমালোচনা করার যোগ‌্যতা আছে কি না, সেটা আগে ভাবা উচিত। আমি যদি রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সমালোচনা করি, লোকে আমাকে পাগল বলবে। তাই যে বা যাঁরা অভিজিৎবাবুকে কটাক্ষ করছেন, দেখতে হবে তাঁদের সেই যোগ‌্যতা আছে কি না। যদি দেখা যায় সমকক্ষ না হয়েও এই ধরনের আক্রমণ করছেন, তাহলে বুঝতে হবে তিনি হয় পাগল নয়তো বিজেপি।” শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ‌্যায়ের মত, “দুর্ভাগ‌্যজনক। যাকে আক্রমণ করছে ভুলে যাচ্ছে যে তিনি নোবেলজয়ী।”

Advertisement

[আরও পড়ুন: ‘ওঁর তত্ত্ব মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে’, নোবেলজয়ী অভিজিৎকে তোপ রেলমন্ত্রীর ]

সিপিএমের পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীর মতে, “বিজেপির মতো দলের এর চেয়ে বেশি কিছু আশা করা অন‌্যায়। ওরা তো রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা বিক্রি, রেল-বিএসএনএল-এর বেসরকারিকরণে বিশ্বাস করে। তাই ওরা অভিজিৎবাবুর মতো মানুষকে পছন্দ করে না, বদনাম করার চেষ্টা করে। কারণ, ওদের নীতি অভিজিৎবাবুর তত্ত্বের পুরো উলটো। শুধু একটা অনুরোধ, দেশের গর্ব এমন মানুষ সম্পর্কে মন্তব‌্য করা থেকে বিরত থাকুন।” কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা ও সাংসদ প্রদীপ ভট্টাচার্য বলেন, “অভিজিৎবাবু ‘ন‌্যায়’ সমর্থন করেছিলেন বলে কি ওঁর কৃতিত্ব খাটো হয়ে গেল? বিজেপি নেতাদের যোগ‌্যতার প্রতিফলন এই ধরনের মন্তব‌্য।” শুধু তাই নয়, সোশ্যাল মিডিয়াতেও প্রবল সমালোচনা হচ্ছে দুই বিজেপি নেতার।ইতিমধ্যেই রাহুল সিনহার মন্তব্য নিয়ে একাধিক ‘মিম’ ছড়িয়েছে নেটদুনিয়ায়।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.