স্টাফ রিপোর্টার: যাদবপুর নিয়ে নিজের মন্তব্যে অনড় রইলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ৷ রবিবার দিলীপবাবু বলেন, “অনেকে আমার বক্তব্যের সমালোচনা করছেন৷ তাতে আমার কিছু করার নেই৷ আমি যা বলেছি জেনে বুঝেই বলেছি৷ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তব চিত্রটাই তুলে ধরেছি৷” সিনেমা কাণ্ডে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের আচরণের প্রসঙ্গে শনিবার বিজেপি সভাপতির বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়৷ এদিন নিজের অবস্থানে অনড় থেকে তিনি কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছেন আগামী দিনে যাদবপুর ইস্যুতে লাগাতার আক্রমণের পথেই থাকবে বিজেপি৷
শনিবার যাদবপুরের ছাত্রীদের প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতির কুরুচিকর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়৷ সিনেমা প্রদর্শনের দিন ছাত্রীদের আচরণের প্রসঙ্গ টেনে তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “ওই মেয়েগুলো ওঁচা, নিম্নস্তরের বেহায়া মেয়ে৷” এই মন্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে৷ মন্তব্যের সমালোচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পড়ুয়ারাও৷
বিজেপি সভাপতির বিরুদ্ধে পাল্টা সরব হন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র থেকে শুরু করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরিও৷ রবিবার খড়গপুরে এক দলীয় কর্মসূচির পর সাংবাদিকদের সামনে দিলীপ ঘোষ নিজের মন্তব্যের সপক্ষে ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “আমার ভাষার তারতম্য থাকতেই পারে৷ আমার ভাষাটা শহুরে ভাষা নয়৷ আমি গ্রাম্য ভাষায় বলেছি৷ কিন্তু যা বলেছি সেটাই এই মুহূর্তে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ৷”
একইসঙ্গে তিনি এটাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁর বক্তব্যের সঙ্গে দলের অনেকে একমত নাও হতে পারেন৷ দলীয় সূত্রে অবশ্য খবর, দিলীপ ঘোষের এই বক্তব্যকে সমর্থন করছেন না বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একাংশ৷ ওই অংশের মতে, এই ধরনের মন্তব্যে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে৷ বিশেষ করে কোনও শিক্ষাক্ষেত্রে পড়ুয়াদের নিয়ে কিছু বলতে হলে শব্দ প্রয়োগের ক্ষেত্রে সংযত থাকা দরকার৷ কারণ শিক্ষার্থীরা একটু আবেগ-প্রবণ হন৷
রবিবারই বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের তরফে দিলীপবাবুর সঙ্গে যোগাযোগ করে বলা হয়, “ভেবেচিন্তে কথা বললে ভাল হয়৷ ছাত্রছাত্রীদের আবেগের কথা মাথায় রাখতে হবে৷ তা ছাড়া কথার ভুল ব্যাখ্যাও হয় অনেক ক্ষেত্রে৷” দিলীপবাবু নিজে এই ফোনের কথা স্বীকার করেছেন৷ তাঁর মন্তব্য, “নিশ্চিতভাবেই বিষয়টির অপব্যাখ্যা যাতে না হয় সেটা মাথায় রাখা উচিত ছিল৷”
এদিকে, সিপিএম কিংবা কংগ্রেসের নাম না করে এদিন বিজেপির রাজ্য সভাপতি বলেন, কিছু রাজনৈতিক নেতা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনে রেখে রুটি সেঁকছে৷ ছাত্রদের অর্বাচীন করে দেওয়া হচ্ছে৷ এই মন্তব্য করে পরোক্ষে সূর্যকান্ত মিশ্র ও অধীর চৌধুরিকেই যে তিনি বিঁধতে চেয়েছেন এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল৷ এদিকে, বিজেপি সভাপতির মন্তব্যের প্রতিবাদে আজ সোমবার যাদবপুর ৮বি বাসস্ট্যান্ডে বিক্ষোভ সভার ডাক দিয়েছে সারা ভারত প্রগতিশীল মহিলা সমিতি৷ ঢাকুরিয়া থেকে মিছিল করবে বামপন্থী ছাত্র ও যুব সংগঠন৷
সর্বশেষ খবর
-
‘কালো হিরে’র হ্যাটট্রিকে স্বমহিমায় ফরাসি বিপ্লব, নরওয়েকে গোলের মালা ফ্রান্সের
-
কন্ডোম-খাট-বালিশ, বিধাননগরে তৃণমূলের ওয়ার্ড অফিস যেন হোটেল! দেখে হতবাক স্বাস্থ্যমন্ত্রী
-
‘কী করে ওকে বলব…?’ ভূমিকম্পে মেয়ের প্রাণ বাঁচিয়ে মৃত স্ত্রী, ভেঙে পড়লেন ভেনেজুয়েলার ফুটবলার
-
‘মুসলমানদের নিয়ে স্যাটাভাঙা মার’! জনসভায় বেনজির হুঁশিয়ারি হুমায়ুনের
-
সন্তানের কান্নায় অতিষ্ঠ, ধারালো অস্ত্রের কোপে ৬ মাসের শিশুকন্যাকে গলা কেটে খুন মা’র!