Samik Bhattacharya

‘রাজনীতির একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার জায়গা নয় বইমেলা’, সাফ জানালেন শমীক

'যে কোনও ভাবনার সাহিত্যচর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ এবং জায়গা থাকা উচিত', বলছেন রাজ্যসভার সাংসদ।

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ৩০, ২০২৬, ১৪:৫৩

options
link
‘রাজনীতির একাধিপত্য প্রতিষ্ঠার জায়গা নয় বইমেলা’, সাফ জানালেন শমীক
শমীক ভট্টাচার্যের হাতে স্মারক তুলে দিচ্ছেন নির্গুনানন্দ মহারাজ। ছবি: অরিজিৎ সাহা

স্টাফ রিপোর্টার: কলকাতা বইমেলায় ভারতীয়ত্বের ছাপ থাকতে হবে। সকলের বিচরণক্ষেত্র হয়ে উঠুক বইমেলা। এমনটাই দাবি জানালেন রাজ‌্যসভার সাংসদ তথা বিজেপির রাজ‌্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya)। সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর জন্মদিন উপলক্ষে সাহিতি‌্যকের স্মরণে মহাজাতি সদনে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল প্রকাশক সংগঠন বঙ্গীয় গ্রন্থশিল্প পরিষদ। এই অনুষ্ঠানে শতাধিক প্রকাশক, মুদ্রাকর ও বই বিক্রেতা অংশ নিয়েছিল। দুই প্রধান বক্তা ছিলেন সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য ও গবেষক-বিজ্ঞানী তথা আরএসএস-এর দক্ষিণবঙ্গের প্রচারক প্রমুখ জিষ্ণু বসু এবং কবি বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত ছিলেন। আগামী বছরের আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলাকে কোনও একক সংগঠনের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে সকল প্রকাশক, মুদ্রাকর ও বই বিক্রেতার জন্য উন্মুক্ত করার দাবি তুলেছে সংঘ পরিবার-ঘনিষ্ঠ প্রকাশনা জগতের একাংশ, তা এদিনের সভা থেকেই স্পষ্ট হয়েছে।

Advertisement

শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattacharya) বলেন, ‘‘কলকাতা বইমেলা একমাত্র, যেখানে সরাসরি পাঠকরা আসেন, বই কেনেন। পৃথিবীর আর কোনও দেশে, কোনও বইমেলায় এই দৃশ্য দেখা যায় না। তাই যতই আন্তর্জাতিক বইমেলার কথা বলা হোক না, বইমেলায় থাকুক ভারতীয়ত্বের ছাপ।’’ তঁার কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গে এখন এমন একটি সরকার তৈরি হয়েছে, যারা কোনও দলের সরকার হবে না, মানুষের সরকার হবে। আজ এখানে আমি দলের প্রতিনিধিত্ব করছি। কিন্তু সরকারের কোনও প্রতিনিধিত্ব থাকলে ভালো হত, আপনাদের অনেকের অনেক অভিযোগ আছে, অভিমান আছে। তুলে ধরতে পারতেন।’’

Advertisement
Sangh takes initiative to open International Kolkata Book Fair to everyone
ফাইল ছবি

শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘কলকাতা বইমেলা একমাত্র, যেখানে সরাসরি পাঠকরা আসেন, বই কেনেন। পৃথিবীর আর কোনও দেশে, কোনও বইমেলায় এই দৃশ্য দেখা যায় না। তাই যতই আন্তর্জাতিক বইমেলার কথা বলা হোক না, বইমেলায় থাকুক ভারতীয়ত্বের ছাপ।’’

বইমেলা পরিচালনার ক্ষেত্রে যে আর একাধিপত‌্য চলবে না তা কার্যত বুঝিয়ে দিয়েছেন শমীক। তিনি বলেন, ‘‘যে যঁার মত প্রকাশ করুন। প্রতে‌্যককে পারলে একটু জায়গা করে দিতে হবে। সম্পূর্ণভাবে রাজনীতির একাধিপত‌্য প্রতিষ্ঠা করার জায়গা বইমেলা নয়। বিরুদ্ধ মতকে স্বাগত জানানো উচিত। আমরা চাই যে কোনও ভাবনার সাহিত্যচর্চার পর্যাপ্ত সুযোগ এবং জায়গা থাকা উচিত। একজন বামপন্থী মানুষ মার্কসীয় সাহিত্যচর্চা করবেন, বর্তমান সরকারের বিরোধিতা করবেন, এটাই তো স্বাভাবিক।’’

Advertisement

শমীক বলেন, বুদ্ধদেব গুহ অমর, কারণ তিনি শুধুই সাহিত্যিক নন। তাঁর দৃঢ়তার জন্য তিনি চিরস্মরণীয়। তঁার কথায়, বইমেলায় সাহিত‌্য থাকবে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যও বেঁচে থাকবেন, বুদ্ধদেব গুহও থাকবেন। নিজের বক্তৃতায় শমীক নাম না করে সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিজের সঙ্গে রবীন্দ্র সংগীত বাজাকে কটাক্ষ করেন।’’ এদিন অনুষ্ঠানে কলকাতা ময়দানে আবার বইমেলা ফেরানোর আবেদন করেছেন সাহিত্যিক বুদ্ধদেব গুহর কন্যা মালিনী গুহ। জিষ্ণু বসুও এদিন তঁার বক্তবে‌্য বুদ্ধদেব গুহকে স্মরণ করেন। এদিকে, প্রকাশক পাবলিশার্স অ‌্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ যে আর বাইমেলায় থাকবে না, তা এদিন স্পষ্ট হয়েছে আয়োজকদের তরফে দেবজিৎ সরকারের বক্তবে‌্য।

সাংবাদিকদের দেবজিৎ বলেন, ‘‘এখন থেকে গিল্ড আর একা কিছু করবে না। যেসব বিচু‌্যতির দায় এসেছে সেসব আর গিল্ড একা বহন করবে না। সকলে মিলে বইমেলা হবে।’’ গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে-র বক্তব‌্য, ‘‘অনেকে পরামর্শ দিয়েছে। আলোচনা-পর্যালোচনা করে সবকিছু হবে। সকলকে তো জায়গা দেওয়া যায় না, এটা নিয়ে ক্ষোভ থাকে। জায়গার পরিধি বাড়াতে হবে।’’ এদিনের অনুষ্ঠানে এছাড়াও বক্তব‌্য রাখেন কবি বিনায়ক বন্দে‌্যাপাধ‌্যায় ও বঙ্গীয় গ্রন্থশিল্প পরিষদের সভাপতি নির্গুনানন্দ মহারাজ, আয়োজকদের তরফে দেবজিৎ সরকার, প্রসেনজিৎ বক্সি। ছিলেন বন্ধু গৌরব মহারাজ, স্বরূপপ্রসাদ ঘোষ, তনুজা চক্রবর্তী, সাধন তালুকদার, আয়োজকদের তরফে সপ্তর্ষি চৌধুরি ছাড়াও বিজেপির পরিচিত মুখ রাজু বন্দে‌্যাপাধ‌্যায়, অমিতাভ রায় প্রমুখ।

সাংবাদিকদের দেবজিৎ বলেন, ‘‘এখন থেকে গিল্ড আর একা কিছু করবে না। যেসব বিচু‌্যতির দায় এসেছে সেসব আর গিল্ড একা বহন করবে না। সকলে মিলে বইমেলা হবে।’’

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.