Hawker Eviction

হকার উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ, রেলকে জানাতে হবে বিকল্প জায়গা, বড় নির্দেশ হাই কোর্টের

বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গনগর, মথুরাপুর, যাদবপুর-সহ যত রেলের নোটিস নিয়ে মামলা হয়েছে জুন মাস পর্যন্ত, সেখানে নতুন করে আগের উচ্ছেদের নোটিস কার্যকর করা যাবে না।

Advertisement
গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: জুন ১৭, ২০২৬, ২১:৫৯

options
link
হকার উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ, রেলকে জানাতে হবে বিকল্প জায়গা, বড় নির্দেশ হাই কোর্টের
মধ্যমগ্রাম স্টেশনে হকার উচ্ছেদের স্থগিতাদেশ বহাল ডিভিশন বেঞ্চেও।

কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সমাজের দুর্বল শ্রেণির মৌলিক অধিকার কোনও কারণ দেখিয়ে খর্ব করা যায় না। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের সাহায্য করার কথা। আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের এই যুক্তিতে আপাতত হকার উচ্ছেদে (Hawker Eviction) স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাই কোর্ট। বালিগঞ্জ, বামনগাছি, বারুইপুর, ডানকুনি, গুমা, বনগাঁ, দুর্গনগর, মথুরাপুর, যাদবপুর-সহ যত রেলের নোটিস নিয়ে মামলা হয়েছে জুন মাস পর্যন্ত, সেখানে নতুন করে আগের নোটিস কার্যকর করা যাবে না।

Advertisement

মামলাকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, “যেভাবে উচ্ছেদ করা হচ্ছে তাতে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। কেন্দ্র বা রাজ্য কেউ এই অধিকার কেড়ে নিতে পারে না। জীবনের অধিকার, কর্মসংস্থানের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। সমাজের দুর্বল শ্রেণির মৌলিক অধিকার কোনও কারণ দেখিয়ে খর্ব করা যায় না। রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের সাহায্য করার কথা। ঠেলা গাড়ি, ঝুপড়ি দোকান করে হাজার হাজার পরিবার সংসার চালাচ্ছে। বলা ভালো চালাতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের উপর আরও চাপ বাড়ানো সরকারের কাজ হতে পারে না।”

Advertisement

তাঁর আরও যুক্তি, “রাষ্ট্র তাদের শত্রু হিসেবে আচরণ করতে পারে না। অথচ এখানে হঠাৎ বুলডোজার পাঠিয়ে ভেঙেচুরে সব শেষ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতি রাতে কোনও না কোনও জায়গায় লোকজন রাতপাহারা দিয়ে বসে থাকছেন। তাতেও বুলডোজার হামলা থেকে বাঁচতে পারছে না। যখন কেউ রেলের জমিতে বসে পড়ছেন, তখন তাকে বাধা না দিলে ২-৩ দশক পর তাকে উচ্ছেদ করা যাবে না, এটা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে আছে। রাজ্যে পুলিশের সংগঠন করায় বাধা দেওয়ার মামালতেও এই যুক্তি কাজে লেগেছিল।”

Advertisement

অন্যান্য মামলাকারীর আইনজীবী ফিরদৌস শামিমের দাবি, “বহু ক্ষেত্রে রেলযাত্রীরা অভিযোগ করছেন বলেই প্ল্যাটফর্ম ও রেলের রাস্তা থেকে উচ্ছেদ হচ্ছে। বারুইপুরে ১৯৯৫ থেকে লাইসেন্স পাওয়া ৪০ টা পরিবারকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। ডানকুনিতে ৩২টি পরিবার নোটিস পেয়েছেন। ওই নোটিসে কোনও তারিখ, সই নেই। পালটা রেলের আইনজীবী ধীরজ ত্রিবেদী বলেন, “১৮৮১ সালে তাঁদের ওই জমি কিনে নেওয়ার ন্যূনতম দাম জমা দেওয়ার নোটিস দেওয়া হয়। আজ পর্যন্ত কেউ জমা দেয়নি।” সে কারণেই উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত বলেই জানান তিনি। সবপক্ষের আইনজীবীর বক্তব্য শোনার পর বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য বলেন, “রেলের জায়গা, প্ল্যাটফর্ম যদি দখল করে দোকান বসে, সেক্ষেত্রে রেল তাঁদের তুলবে না? কিছুক্ষেত্রে রেল স্টল করে বসার ব্যবস্থা করেছিল। তাঁদের উচ্ছেদের ঘটনা কি আছে? লাইসেন্স আছে এমন লোকেদের তুলেছে এটা বলতে পারবেন?” এই মর্মে রিপোর্ট তলব করেছে হাই কোর্টে। বৈধ হকার হলে তাঁদের বিকল্প বসার জায়গার বন্দোবস্ত করতে হবে রেলকেই। তবে আপাতত উচ্ছেদে স্থগিতাদেশ জারি করা হয়েছে।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.