Calcutta HC

‘পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ’ আইনের শর্ত শিথিলে রাজ্যকেই বিবেচনার দায়িত্ব দিল হাই কোর্ট

আদালতের নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিল হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ।

গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: মে ২১, ২০২৬, ২১:৩০

options
link
‘পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ’ আইনের শর্ত শিথিলে রাজ্যকেই বিবেচনার দায়িত্ব দিল হাই কোর্ট
কলকাতা হাই কোর্ট। ফাইল ছবি

গবাদি পশু জবাই নিয়ে মামলায় ১৯৫০ সালের আইন মনে করাল কলকাতা হাই কোর্ট। যেখানে ওই আইনের ১২ নং ধারায় ধর্মীয় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে পশুবলিতে যে ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, এ বিষয়ে রাজ্যকে বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিল হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের নির্দেশের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এদিন এই সংক্রান্ত মামলায় পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইনের একাধিক ধারা-উপধারাকে অসংবিধানিক আখ্যা দিয়ে তা খারিজের আবেদন জানায় মামলার পক্ষ ভুক্ত একাংশ। সে বিষয়ে এদিন আদালত কোনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বলে জানিয়েছে ডিভিশন বেঞ্চ।

Advertisement

আদালতে জানিয়েছে, এই মামলার প্রত্যেকপক্ষের জবাব- সাওয়াল জবাব শুনে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যেহেতু ধর্মীয় ক্ষেত্রে ছাড়ের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে রাজ্যকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করে প্রকাশ্যে গবাদি পশু জবাই ও বিক্রিতে বেশ কিছু নির্দেশিকা এনেছে রাজ্য সরকার। যেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যত্রতত্র বা নিয়ম বহির্ভূতভাবে পশু হত্যা দেওয়া যাবে না। এছাড়াও বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মূলত গরু, মহিষের মতো গবাদি পশুর বাছুরের বলির ক্ষেত্রে একগুচ্ছ শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বকরি ঈদের আগে গরু-মোষ জবাই নিয়ে রাজ্য সরকারের দেওয়া ১৩ মে-র বিজ্ঞপ্তিকে চ্যালেঞ্জ করে এবং শর্ত শিথিল করার আবেদন জানিয়ে ১৭ টি মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাই কোর্টে।

Advertisement

জমিয়ত ই-উলেমার আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য জানান, “আমরা রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি এবং সংশ্লিষ্ট আইনের সাংবিধানিক বৈধতা— উভয়কেই চ্যালেঞ্জ করেছি। ১৯৫০ সালের আইনটির উদ্দেশ্য ছিল, পশুজবাই নিয়ন্ত্রণ করা। কৃষিকাজের স্বার্থে পশু সংরক্ষণ করা উচিত, তাই ওই আইন আনা হয়। কিন্তু এখন আর কৃষিকাজ গরু বা মহিষের উপর নির্ভরশীল নয়। প্রযুক্তির উন্নতির ফলে সেই পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। অন্য দিকে, পরিসংখ্যান বলছে গবাদি পশুর সংখ্যা স্বাস্থ্যকর হারে বৃদ্ধি পেয়েছে এবং দুধ উৎপাদনও বেড়েছে। মোট গবাদি পশুর জনসংখ্যার ৩৬ শতাংশেরও বেশি গরু। গরুর সংখ্যা ১.৩ শতাংশ বেড়েছে। পুরুষ গবাদিপশুর সংখ্যা কমলেও, স্ত্রী গবাদি পশুর সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।”  যদিও হাই কোর্ট জানায়, যদি এই আইন কার্যকর না থাকত, তা হলে এতগুলি মামলা দায়ের করারই কোনও প্রয়োজন হত না। প্রতি বছর এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। তা হলে কি এটা বলা যায় ন্যায্য হবে যে আইনটি কার্যকর ছিল না! এমনকি এতদিন পর কেন আইনকে চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে আদালত।

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.