Ritabrata Banerjee

৫০ বিধায়কের সমর্থনেই মমতার হাত থেকে তৃণমূলের ‘মালিকানা’ পাবেন ঋতব্রত! কী বলছে নিয়ম?

গোটা দলের মালিকানা পেতে শুধু বিধায়কদের সমর্থন যথেষ্ট নয়, আরও অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে ঋতব্রতদের।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: জুন ২, ২০২৬, ১৯:৪৯

options
link
৫০ বিধায়কের সমর্থনেই মমতার হাত থেকে তৃণমূলের ‘মালিকানা’ পাবেন ঋতব্রত! কী বলছে নিয়ম?
প্রতীক নিয়ে লড়াই। ফাইল ছবি।

বিধানসভায় ভরাডুবির পর তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙন অবধারিত। সব ঠিক থাকলে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা হিসাবে তুলে ধরে বুধবারই রাজ্যে ‘নতুন তৃণমূল’ আত্মপ্রকাশ করতে পারে। অথবা, ঋতব্রত পঞ্চাশের কিছু বেশি বিধায়কের সমর্থনে নতুন তৃণমূলের মালিকানা দাবি করতে পারেন। কিন্তু প্রশ্ন হল, শুধু ৫০ বিধায়কের সমর্থনই কি পরিষদীয় দলে ভাঙনের জন্য যথেষ্ট? ওই বিধায়কদের সমর্থনে বলিয়ান হয়ে ঋতব্রত কি নিজেকে তৃণমূলের আসল ‘মালিক’ বলে দাবি করতে পারেন? দলের প্রতীক এবং যাবতীয় সম্পত্তির অধিকারী হিসাবে নিজেকে পেশ করতে পারেন?

Advertisement

কী বলছে নিয়ম?
দলত্যাগ বিরোধী আইন বলছে, যদি একসঙ্গে কোনও দলের দুই-তৃতীয়াংশ বিধায়ক দলত্যাগ করে অন্য দলে যোগদান করেন বা নিজেদেরে ‘পৃথক দল’ বা সংগঠন হিসাবে ঘোষণা করেন, তাহলে তাঁদের দলত্যাগ বিরোধী আইনে পড়তে হবে না। অর্থাৎ ওই বিধায়করা নিজেদের বিধায়ক পদ হারাবেন না। কিন্তু দুই-তৃতীয়াংশের কম বিধায়ক দলত্যাগ করলে প্রত্যেকেই পদ হারাতে হতে পারে। তৃণমূলের ক্ষেত্রে এই দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাটা ৫৪ বা মতান্তরে ৫৩। এই সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন জোগাড় করে ঋতব্রতরা যদি তৃণমূল থেকে বেরিয়ে অন্য দলে যোগ দেন, বা নিজেদের অন্য কোনও দল হিসাবে ঘোষণা করেন, বা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেন-তাহলে তাঁদের সেই দাবি স্বীকৃতি পেতে পারে। এক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অবশ্যই নেবেন স্পিকার। যদিও স্পিকারের সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা যায় আদালতে। সেক্ষেত্রে আদালত স্পিকারকে সিদ্ধান্ত বদলের পরামর্শ দিতে পারেন।

Advertisement

এখন প্রশ্ন হল, এই ৫৩-৫৪ জন বিধায়কের সমর্থন পেলেই কি মমতার হাত থেকে তৃণমূলের মালিকানা দাবি করতে পারেন ঋতব্রত? এক্ষেত্রে প্রশ্নের জবাব সোজা নয়। ওই বিধায়কদের সমর্থনে তিনি হয়তো তৃণমূলের পরিষদীয় দলনেতা বা রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতার তকমা পেতে পারেন। কিন্তু দলের প্রতীক-নাম এবং অন্যান্য সম্পত্তি ব্যবহারের অধিকার দাবি করার বিষয়টি আরও বৃহৎ এবং সেই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের বিচারের এক্তিয়ারে পড়ে।

Advertisement

যদি ঋতব্রতরা নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করেন তাহলে নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখবে। সেক্ষেত্রে শুধু বিধায়করা নন, হিসাবের মধ্যে আসবেন দলের সাংসদরা, এমনকী দলের বিভিন্ন স্তরের পদাধিকারীরাও। নির্বাচন কমিশন সেক্ষেত্রে দলের সব বিধায়ক-সাংসদ এমনকী পদাধিকারীদের মতামত জানতে চাইবে-আসল তৃণমূল হিসাবে তারা কাকে স্বীকৃতি দিতে চায়। সেই মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। যদিও সেই সিদ্ধান্তকেও চ্যালেঞ্জ করা যায় আদালতে। অর্থাৎ গোটা দলের মালিকানা পেতে শুধু বিধায়কদের সমর্থন যথেষ্ট নয়, আরও অনেক কাঠখড় পোড়াতে হবে ঋতব্রতদের।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.