CM Suvendu Adhikari

‘ডিম ছোড়াকে সমর্থন করি না, এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়’ বিধানসভায় রাজধর্মের পাঠ মুখ্যমন্ত্রীর

২০২১-এ নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর উপর আক্রমণের ঘটনা মনে করিয়ে চাঁচাছোলা আক্রমণ মুখ্যমন্ত্রীর।

কৃষ্ণকুমার দাস
কৃষ্ণকুমার দাস

শেষ আপডেট: জুলাই ২২, ২০২৬, ১৭:২৫

options
link
‘ডিম ছোড়াকে সমর্থন করি না, এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়’ বিধানসভায় রাজধর্মের পাঠ মুখ্যমন্ত্রীর
শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে কুমন্তব্যের অভিযোগে গ্রেপ্তার যুবক। ফাইল ছবি

রাজ্য়ে এক নতুন কালচারের আবিষ্কার হয়েছে। বেশিদিন নয়, এই মাস দুয়েক মতো। তৃণমূল নেতা দেখলেই চলছে ‘ডিম থেরাপি’। জনবিস্ফোরণ বা প্রতিবাদ, যা-ই বলুন না কেন, ডিম-ই হয়ে উঠেছে আন্দোলনের নতুন অস্ত্র। সাধারণ মানুষে থেকে বিজেপি কর্মীরা সবাই ডিম হাতে ‘রেডি ফর অ্যাটাক’। তবে ‘এ সংস্কৃতি বাংলার নয়, ডিম ছোড়াকে সমর্থন করি না’ বলে সাফ জানালেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মনে করালেন ২০২১-এ নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর উপর আক্রমণের ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতাও।

Advertisement

একুশের নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “দোসরা মে কাউন্টিংয়ের দিন হাজার ৯৫৬ ভোটে আপনাদের নেত্রী হেরে গেলেন। হলদিয়া এসডিও অফিসে সার্টিফিকেট নিতে গেছিলাম। ছোট ইটের টুকরে নয়, বড় বড় আধলা পাথর ছোড়া হচ্ছিল। এখন সাধারণ মানুষ নিজেদের আক্রোশ, ক্রোধে ডিম ছুড়ছেন। যদিও আমি ডিম ছোড়াকে সমর্থন করি না। পুলিশ অ্যাকশনও নিয়েছে। কিন্তু আমার উপর যে আক্রমণ হয়েছে। সেদিন সার্টিফিকেট নেওয়া তো দূরের কথা। আমি বেঁচে ফিরতাম না। সিআরপিএফের বুলেট প্রুফ গাড়িতে ছিলাম তাই প্রাণে বেঁচে গেছি।”

একুশের নির্বাচনের ফলপ্রকাশের দিনে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলার ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “২০১৮ সাল থেকে রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসা চলছে, বিশেষ করে ২০২১। দোসরা মে কাউন্টিংয়ের দিন আমি নিজে সাক্ষী ১ হাজার ৯৫৬ ভোটে আপনাদের নেত্রী হেরে গেলেন। হলদিয়া এসডিও অফিসে সার্টিফিকেট নিতে গেছিলাম। ছোট ইটের টুকরে নয়, বড় বড় আধলা পাথর ছোড়া হচ্ছিল। এখন সাধারণ মানুষ নিজেদের আক্রোশ, ক্রোধে ডিম ছুড়ছেন। যদিও আমি ডিম ছোড়াকে সমর্থন করি না। পুলিশ অ্যাকশনও নিয়েছে। কিন্তু আমার উপর যে আক্রমণ হয়েছে। সেদিন সার্টিফিকেট নেওয়া তো দূরের কথা। আমি বেঁচে ফিরতাম না। সিআরপিএফের বুলেট প্রুফ গাড়িতে ছিলাম তাই প্রাণে বেঁচে গেছি।” পাশাপাশি মানস মানস সাহার হত্যার কথা মনে করিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “মগরাহাটে মানস সাহাকে পিটিয়ে মেরেছেন। ১০ হাজার ছেলে রাজ্য ছেড়েছে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। ৩ দিনে ৫৬ জনকে খুন করেছেন। ১২ হাজার দোকান লুট করেছেন, ১০ হাজার বাড়িতে জেসিবি চালিয়ে দিয়েছেন। ৩০০-র বেশি মহিলাকে ধর্ষণ, শ্লীলতাহানি, বিবস্ত্র করে অত্যাচার, কোচবিহারে বিজেপি সভানেত্রীকে বিবস্ত্র করে ২ কিলোমিটার ছুটিয়েছেন।”

Advertisement

মমতাকে শুভেন্দুর কড়া হুঁশিয়ারি, “বিড়লা তারামণ্ডল থেকে উনি বলছেন, বেঁচে আছি দেখে নেব। আমি বলছি, বেঁচে থেকে আপনি প্রাক্তন হয়েছেন। বেঁচে থাকতেই আপনাকে প্রতিষ্ঠিত চোর প্রমাণ করব। বেঁচে থাকতেই সব দেখে যাবেন। আপনি যা করেছেন একুশের পরে, ৪৭-এর আগে ব্রিটিশরা এমন করেনি। কী ভাবছেন, আমি ছেড়ে দেব? দরকারে সিবিআইকে মামলা দিয়ে দিতে বলব।”

মমতাকে নিশানা করে শুভেন্দু অধিকারীর কড়া হুঁশিয়ারি, “বিড়লা তারামণ্ডল থেকে উনি বলছেন, বেঁচে আছি দেখে নেব। আমি বলছি, বেঁচে থেকে আপনি প্রাক্তন হয়েছেন। বেঁচে থাকতেই আপনাকে প্রতিষ্ঠিত চোর প্রমাণ করব। বেঁচে থাকতেই সব দেখে যাবেন। আপনি যা করেছেন একুশের পরে, ৪৭-এর আগে ব্রিটিশরা এমন করেনি। কী ভাবছেন, আমি ছেড়ে দেব? দরকারে সিবিআইকে মামলা দিয়ে দিতে বলব।” সেই সঙ্গে ভবানীভবনের যে অভিযোগগুলো কার্যত ঠান্ডাঘরে চলে গিয়েছেল। সব ফাইল খুলে নতুন করে তদন্ত করার হুঁশিয়ারি দেন শুভেন্দু। তিনি জানান, “গুন্ডাদমন আইন চালু করেছি, ভবিষ্যতের বাংলাকে সুরক্ষিত করার জন্য। আগামী দিনে শাহজাহান-শওকত-জাহাঙ্গিরের মতো গুন্ডাদের চিরস্থায়ী সমাধান করার জন্য।” অভিষেকের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর হুঙ্কার, “ভোটে লড়ুন, কোথায় থাকবেন দেখবেন। দূরবীণ লাগবে দেখতে। অমিত শাহকে বলেছিলেন ডিজে বাজাবেন। বাংলার লোকই ডিজে বাজিয়ে দিয়েছেন।”

Advertisement

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.