Baby

স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তি, ৬ মাসের শিশুকন্যাকে রাস্তায় ফেলে গেল বাবা

শেষ পর্যন্ত ভবানীপুরের চিত্তরঞ্জন সেবাসদনে ঠাঁই হয়েছে একরত্তির।

Advertisement
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক
সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক

শেষ আপডেট: ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২২, ২২:০৩

options
link
স্ত্রীর সঙ্গে অশান্তি, ৬ মাসের শিশুকন্যাকে রাস্তায় ফেলে গেল বাবা
ছবি: প্রতীকী

অর্ণব আইচ: মা ও বাবার মধ্যে ঝগড়ার জেরে রাস্তায় ‘ফেলে দেওয়া’ হল ৬ মাসের শিশুকন্যাকে। শেষ পর্যন্ত তার ঠাঁই হয়েছে দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের চিত্তরঞ্জন সেবাসদনে। মা ও বাবা ফিরেও তাকাননি। তাই শিশুটির দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন ঠাকুমা। যদিও তিনি বেশিদিন একরত্তি নাতনিকে দেখভাল করতে নারাজ। তাই তাকে একটি হোমে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

Advertisement

হাসপাতালের শিশু চিকিৎসক ডা. সুদীপ সাহা জানিয়েছেন, শিশুটি যেহেতু খুবই ছোট, তাই তাকে ‘অবজারভেশন’এ রাখা হয়েছে। তবে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। এহেন মা, বাবার কীর্তি ও অমানবিকতা দেখে দেখে স্তম্ভিত চিকিৎসকরাও। পুলিশের এক আধিকারিক জানান, শিশুকন্যাটির মা মাম্পি মণ্ডল ও বাবা মহাদেব ঘড়াইয়ের বিরুদ্ধে রিজেন্ট পার্ক থানায় শিশুর প্রতি অবহেলার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন
Advertisement

[আরও পড়ুন: নিজেকে গুটিয়ে নিতে চান অভিমানী অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়! সিদ্ধান্ত সোমবার]

পুলিশ জানিয়েছে, এই শিশুটির পরিবার দক্ষিণ কলকাতার রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকার দীনেশপল্লির বাসিন্দা। কয়েক বছর আগে মহাদেবের সঙ্গে মাম্পির বিয়ে হয়। জন্মের পর থেকেই শিশুকন্যাটি অবহেলার শিকার। মা ও বাবা কেউ তাকে সেভাবে দেখত না। স্বামী ও স্ত্রী একে অপরকে সন্দেহ করত। তা থেকেই পারিবারিক কলহ। মা শিশুকে ফেলে দিয়ে চলে যায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপে। সেখানে সে পরিচারিকার কাজ করে। বাবা গাড়ির চালক।

Advertisement

শেষ পর্যন্ত শিশুকে কে দেখবে, তা নিয়েও দু’জনের ঝগড়া। ওই ঝগড়া না মেটায় স্বামী ও স্ত্রী দু’জনই যে যার রাস্তা বেছে নেয়। বুধবার বাবা তার মেয়েকে দীনেশপল্লির একটি স্কুলের পাশে রেখে চলে যায়। রিজেন্ট পার্ক থানার পুলিশ খবর পেয়ে শিশুটিকে উদ্ধার করে তার জন্য দুধের ব্যবস্থা করে। এলাকার বাসিন্দারা শিশুটিকে শনাক্ত করলেও তার বাবাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পুলিশ যোগাযোগ করতে পারে শিশুটির ঠাকুমা কাজল ঘড়াইয়ের সঙ্গে। তাঁর কোলেই শিশুটিকে দেওয়া হয়। তাঁর কাছ থেকে শিশুটির মায়ের নম্বর মেলে।

কিন্তু মা জানিয়ে দেয়, কাকদ্বীপ থেকে তার পক্ষে কাজ ছেড়ে কলকাতায় আস সম্ভব নয়। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই ঠাকুরমাকে সঙ্গে নিয়ে শিশুটিকে চিত্তরঞ্জন সেবাসদনে ভরতি করা হয়। শিশুটি ও তার ঠাকুমার উপর পুলিশ নজর রেখেছে। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, যেহেতু মা ও বাবা থাকা সত্ত্বেও আক্ষরিক অর্থে শিশুটি ‘অনাথ’, তাই তাকে হোমে পাঠানো ছাড়া কোনও উপায় নেই। তবে অত ছোট শিশু কোন হোমে থাকতে পারে, তা বুঝেই হোম খোঁজা হচ্ছে। চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত পেলে হোমে নিয়ে যাওয়া হবে তাকে। তার মা ও বাবার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

[আরও পড়ুন: ‘আরেকবার ২০১৮ হলে ২০১৯ও হবে’, পুরভোটের আগে তাৎপর্যপূর্ণ পোস্ট তৃণমূলের যুবনেতা দেবাংশুর]

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সমস্ত খবর জানতে চোখ রাখুন আমাদের 'ফুটবল বিশ্বযুদ্ধ' - এর পাতায়।
চোখ রাখুন

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.