Abhishek Banerjee

ডিজে মামলায় আরও বিপাকে অভিষেক, সই জাল মামলায় কী জানাল হাই কোর্ট?

বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে একাধিক অভিযোগে জর্জরিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একের পর এক মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

গোবিন্দ রায়
গোবিন্দ রায়

শেষ আপডেট: জুলাই ৩, ২০২৬, ১৬:২৮

options
link
ডিজে মামলায় আরও বিপাকে অভিষেক, সই জাল মামলায় কী জানাল হাই কোর্ট?
হাই কোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জোড়া মামলা

কলকাতা হাই কোর্টে জোড়া মামলা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। ডিজে মন্তব্য মামলায় (DJ Remark Case) আরও বিপাকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বিধানসভায় সই জাল মামলায় অবশ্য কিছুটা স্বস্তিতে তৃণমূল সাংসদ।

Advertisement

আইনজীবী সব্যসাচী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অয়ন ভট্টাচার্যের পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের বেঞ্চের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অভিষেকের আইনজীবী। বিচারপতি ভট্টাচার্য জানান, মঙ্গলবারের আগে কোনও আবেদন তিনি শুনবেন না। মঙ্গলবার নতুন করে অভিষেককে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হবে। তারপর দ্রুত শুনানি নিয়ে বিবেচনা করা হবে।

Advertisement

বলে রাখা ভালো, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে গত মে মাসে বাগুইআটিতে একটি জনসভায় এসে অভিষেক বেফাঁস মন্তব্য করেছিলেন। বলেছিলেন, “আমি দেখব, ৪ তারিখ রাত ১২টার পরে কে বাঁচাতে আসে। এই জল্লাদদের কত ক্ষমতা আছে, আর দিল্লি থেকে কোন বাবা তাঁদের উদ্ধার করতে আসে, সেটাও দেখব। ডিজে তো বাজবেই, এমন জোরে বাজবে, কান ঝালাপালা করে দেব!” অভিষেকের এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন বাগুইআটির এক বাসিন্দা। পরে মামলার তদন্তভার যায় সিআইডির হাতে। আগামী ৮ জুলাই, বুধবার বিধাননগর আদালতে অভিষেককে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেখানেই ম্যাজিস্ট্রেট এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে তাঁর কণ্ঠস্বরের নমুনা সংগ্রহ করার কথা সিআইডির। তার আগে মঙ্গলবার হাই কোর্টে এই মামলার শুনানি হতে পারে।

Advertisement

এদিকে, বিধানসভায় সই জাল মামলায় স্বস্তিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রক্ষাকবচের মেয়াদ বৃদ্ধি করল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের জরুরি বেঞ্চ। শুক্রবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ জানিয়েছেন, যেহেতু বিচারপতি কৌশিক চন্দের বেঞ্চ এই মামলার বিস্তারিত শুনানি করেছে, তিনি বর্তমানে সার্কিট বেঞ্চে আছেন, সে কারণে এই মামলায় ১৭ জুলাই পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রক্ষাকবচ বহাল থাকবে।

উল্লেখ্য, গত ৬ মে বিধায়কদের নিয়ে কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী বৈঠক করেন। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করা হয়। ওইদিন যাঁরা উপস্থিত ছিলেন, তাঁরা সকলে হাত তুলে শোভনদেবকে সমর্থন জানান। কিন্তু বিধানসভায় এই সংক্রান্ত যে প্রস্তাবনা জমা দিতে হয়, তা দেয়নি তৃণমূল। এরপর ১৩ ও ১৪ মে বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়কদের শপথগ্রহণ হয়। শপথের পর নিয়ম মেনে সই করেন বিধায়করা। বিরোধী দল হিসেবে তৃণমূলের কাছ থেকে বিরোধী দলনেতার নাম নিয়ে প্রস্তাবপত্র চান বিধানসভার সচিব। তা জমা দিতে ১৯ মে ফের কালীঘাটে বৈঠক ডাকা হয় বিধায়কদের। ওইদিন কেউ ছিলেন, কেউ ছিলেন না। উপস্থিত সকলের সই নেওয়া হয় দলের তরফে। মিলিয়ে দেখা হয় ক’জন গরহাজির। পরে দলের প্রস্তাবিত বিরোধী দলনেতার নামে সমর্থন জানিয়ে ৭০ জনের সই করা একটি কাগজ জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। তৃণমূলের তরফে জানানো হয়, ওটাই বিরোধী দলনেতার প্রস্তাবনাপত্র। আর এখানেই গরমিল শুরু। দুই জায়গায় তৃণমূল বিধায়কদের সই না মেলায় সন্দেহ হয় সচিবের। জল গড়ায় থানায়। দায়ের করা হয় এফআইআর। তদন্তভার পেয়ে কাজ শুরু করে সিআইডি। একাধিক বিধায়ককে জেরা করা হয়। দলের ‘বিদ্রোহী’ বিধায়কের অভিযোগের তির ছিল অভিষেকের দিকে। সেই কারণেই তাঁকে তলব করে সিআইডি। এই মামলার জল গড়িয়েছে হাই কোর্টেও।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.