আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং অফিসে তল্লাশি অভিযানে ইডির (ED Raid at I-PAC) কোন আধিকারিকেরা হানা দিয়েছিলেন? তাঁদের শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ। খতিয়ে দেখা হচ্ছে বাড়ির রেজিস্টারও! কিন্তু কলকাতা পুলিশ সূত্রে খবর, সেই রেজিস্টারে কোনও ইডি আধিকারিকদের নাম নেই। একপ্রকার আবাসনের নিরাপত্তারক্ষীদের ধাক্কা দিয়েই প্রতীক জৈনের বাড়িতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা ঢুকেছিলেন বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। শুধু তাই নয়, নিরাপত্তারক্ষীদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। অন্যদিকে ঘটনার দিনের বিস্তারিত তথ্য পেতে আইপ্যাক কর্তার প্রতিবেশীদেরও তলব করল কলকাতা পুলিশ।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতিবার সকালে আচমকাই আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে হানা দেন ইডির আধিকারিকরা। খবর পেয়েই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের নির্বাচন সংক্রান্ত দলীয় নথি ও বৈদ্যুতিন নথি ছিল লাউডন স্ট্রিটের বহুতল অভিজাত আবাসন অর্থাৎ প্রতীক জৈনের বাড়ি ও সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দপ্তরে (ED Raid at I-PAC)। সেগুলি চুরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন। এরপরেই শেক্সপিয়র সরণি থানা ও বিধাননগরের ইলেকট্রনিক কমপ্লেক্স থানায় ইডির বিরুদ্ধে নথি চুরির অভিযোগ জানান মুখ্যমন্ত্রী। সেই মামলার তদন্তে ক্রমশ তৎপরতা বাড়াচ্ছে কলকাতা পুলিশ।
তদন্তে শনিবার সকালেই আবাসনের আবাসনের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং ডিভিআর সংগ্রহ করে কলকাতা পুলিশ। বাজেয়াপ্ত করা হয় আবাসনের সিকিউরিটি রেজিস্টারও। বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে প্রতীক জৈনের বাড়ির পরিচারিকা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদেরও। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, অভিযানের দিন সকালে প্রতীক জৈনের আবাসনের একপ্রকাশ জোর করেই ‘অনুপ্রবেশ’ করেছিলেন ইডি আধিকারিকদের। কোনও স্বাক্ষর নেই সিকিউরিটি রেজিস্টারে। এমনকী নিরাপত্তারক্ষীদের মোবাইল ফোনও ইডি আধিকারিকরা কেড়ে নিয়েছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদে নিরাপত্তারক্ষীরা জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলার কথা বলেই নাকি মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে তদন্তে আবাসনের অন্যান্য আবাসিক এবং প্রতীক জৈনের বাড়ির প্রতিবেশীদের বয়ানও রেকর্ড করতে চায় কলকাতা পুলিশ। অভিযানের দিক তাঁরা কি দেখেছিলেন? সে বিষয়ে তথ্য পেতেই আবাসিক এবং প্রতিবেশীদের জেরা করবেন তদন্তকারীরা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজনকে নোটিশও পাঠানো হয়েছে বলে খবর। এদিকে তদন্তে বাধা দেওয়ার অভিযোগে সুপ্রিম কোর্টে জোড়া মামলা দায়ের করল কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তাতে রাজ্য পুলিশের ডিজি রাজীব কুমার, কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা, ডিসি প্রিয়ব্রত রায় ছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মামলায় যুক্ত করা হয়েছে বলে খবর। পার্টি করা হয়েছে আরেক কেন্দ্রীয় সংস্থা সিবিআইকেও।
সর্বশেষ খবর
-
দার্জিলিংয়ে জোরবাংলো ট্রাফিক পয়েন্টের কাছে ধসে উধাও অর্ধেক রাস্তা! বিপর্যস্ত জনজীবন
-
ডাক্তারিতে ভর্তি করানোর নামে প্রতারণা, ২৫ লক্ষ টাকা হাতাল কাউন্সিলিং সংস্থা!
-
সরকারি হাসপাতালে থ্রেট কালচারের মাথা! চিকিৎসক অভীক দে-র বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন
-
অতি ভারী বৃষ্টিতে ভাসল কলকাতা, উত্তর থেকে দক্ষিণের একাধিক রাস্তা জলমগ্ন!
-
ভয়াবহ ভূমিকম্পে কলম্বিয়ায় হাহাকার, তাসের ঘরের মতো ভাঙছে বাড়ি! মৃত অন্তত ১১১