TMC Bank Account

তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে ১৬৪ কোটি টাকার হিসাবে ‘গরমিল’, ব্যাঙ্কে চিঠি ইডির

ইতিমধ্যে একদা শাসক শিবিরের সাতটির মধ্যে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

অর্ণব আইচ
অর্ণব আইচ

শেষ আপডেট: জুলাই ১৮, ২০২৬, ১২:৪৪

options
link
তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে ১৬৪ কোটি টাকার হিসাবে ‘গরমিল’, ব্যাঙ্কে চিঠি ইডির
তৃণমূলের অ্যাকাউন্টে ১৬৪ কোটি টাকার হিসাবে 'গরমিল'

আরও বিপাকে তৃণমূল। অ্য়াকাউন্টে থাকা ১৬৪ কোটি টাকার হিসাব চেয়ে ব্যাঙ্ককে চিঠি দিল ইডি। ইতিমধ্যে একদা শাসক শিবিরের সাতটির মধ্যে তিনটি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের যে মূল ব্য়াঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে সেখানে নজর ইডির। জানা গিয়েছে, তদন্তকারী আধিকারিকরা ১৬৪ কোটি টাকার হিসাব মেলাতে পারছেন না। ইতিমধ্যেই বিমান পরিষেবার সংস্থাতেও তল্লাশি করা হয়। সেখানেও কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে। এবার তৃণমূলের যে মূল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তার যাবতীয় লেনদেনের হিসেব চেয়ে ব্যাঙ্ককে চিঠি দিল ইডি।

Advertisement

বেশ কয়েকদিন আগে তৃণমূলে ডামাডোলের মাঝে একদা কোষাধ্যক্ষ হিসাবে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার দাবিতে চিঠি লেখেন অরূপ বিশ্বাস। HDFC ব্যাঙ্কের সেন্ট্রাল প্লাজা শাখায় লেখা চিঠিতে অরূপ নিজেকে তৃণমূলের কোষাধ্যক্ষ হিসাবে পরিচয় দেন। তাঁর বক্তব্য, ‘দলের মধ্যে ব্যাপক গন্ডগোল চলছে। সাংসদদের অনেকে দল ছেড়ে দিয়েছেন। আবার বিধায়কদের মধ্যে অনেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। ফলে দলের কর্তৃত্ব কার হাতে থাকবে স্পষ্ট নয়। তাই এই অবস্থায় দলের অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখতে, সমস্ত লেনদেন বন্ধ রাখা হোক। না হলে জটিলতা তৈরি হতে পারে।’ অরূপের সাফ কথা, যতক্ষণ না দলের কর্তৃত্ব সংক্রান্ত সমস্যার নিষ্পত্তি হচ্ছে ততক্ষণ যেন অ্যাকাউন্টে কোনও লেনদেন না হয়। এমনকী দলীয় দপ্তরে তাঁর সই করা যে চেকগুলি রয়েছে সেগুলির অপব্যবহার হতে পারে বলেও আশঙ্কা করেন অরূপ।

Advertisement

সেই চিঠিকে সমর্থন জানিয়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। বলেছিলেন, “ওই অ্যাকাউন্টে কাটমানির টাকা রয়েছে কি না, কে জানে। আমি অরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে সহমত। তদন্ত হওয়া উচিত।” এই প্রেক্ষাপটে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় ‘ঋতপন্থী’ ১০ তৃণমূল বিধায়ক অবিলম্বে অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আর্জি জানিয়েছিলেন। তারপরই তদন্ত শুরু হয়। 

Advertisement

ইডির দাবি, তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট থেকে কোটি কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের হদিশ মিলেছে। কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থার দাবি, বিপুল এই টাকা গিয়েছে ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ নামক একটি সংস্থা ও তাদের সহযোগী বিভিন্ন সংস্থার অ্যাকাউন্টে। তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’ই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ভিআইপিদের বিমান ভাড়া দেয়। ইডি সূত্র বলছে, ওই সংস্থাকেই তৃণমূলের দলীয় তহবিল থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা দেওয়া হয়। সেই টাকা দিয়ে সংস্থাটি একটি বিমান এবং একটি অগুস্টার হেলিকপ্টার কেনে।

মজার কথা হল, ওই বিমান এবং হেলিকপ্টারটি অভিষেক-সহ তৃণমূল নেতাদেরই ভাড়া দেওয়া হত। অর্থাৎ তৃণমূলের টাকায় কেনা হেলিকপ্টার আবার তৃণমূলকেই ভাড়া দিত ‘কেয়ারওয়েল অ্যাভিয়েশন’। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, ওই সংস্থার মাধ্যমে কি তৃণমূলের নিজস্ব তহবিলের টাকা নয়ছয় হয়েছে। শুধু তাই নয়, পুরো বিষয়টির মধ্যে বড়সড় কেলেঙ্কারি রয়েছে বলেও অনুমান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের। তাই এবার তৃণমূলের যে মূল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে তার যাবতীয় লেনদেনের হিসেব চেয়ে ব্যাঙ্ককে চিঠি দিল ইডি।

নিয়মিত খবরে থাকতে ফলো করুন

Share this article on

The article link is copied.